
শেষ আপডেট: 17 April 2023 08:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তাপপ্রবাহ (Heatwave) রেকর্ড ভাঙছে পশ্চিমবঙ্গে। গরমে হাঁসফাঁস অবস্থা মানুষজনের। রাস্তায় বের হলেই রোদের তেজ যেন গা পুড়িয়ে দিচ্ছে। বেশিক্ষণ রোদে থাকলেই গা হাত-পা যেন চিড়বিড় করছে, চুলকানি, লাল লাল ঘামাচি, র্যাশ (heat rash) বেরিয়ে যাচ্ছে।
প্রচণ্ড রোদে বেশিক্ষণ থাকলে হিট র্যাশ (Heat Rash) বেরোয়। এতে শরীরের খোলা অংশে লাল প্যাচের মতো তৈরি হয়। সেখানে জ্বালাও করতে থাকে। অ্যাকিউট সানবার্ন হলে সমস্যা গুরুতর হয়, তখন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। এখন তাপমাত্রা যেভাবে বাড়ছে, তাতে সূর্যের গনগনে তেজ ত্বকের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। বেশিক্ষণ রোদে থাকলে ঘামাচি, হিট র্যাশের সঙ্গেই সান বার্ন হতে পারে।

এই সময় ফাঙ্গাল ইনফেকশন থেকেও র্যাশ বের হয়। অনেকক্ষণ ঘামে ভেজা জামাকাপড় পড়ে থাকলে এমন হয়।
গরম কালে প্রচুর পোকামাকড় বেরোয়। পোকা কামড়ালে বা সামান্য চেটে দিলে ত্বকে নানা ধরনের র্যাশ, অ্যালার্জি বেরোতে পারে। সেখানে ঘাম জমে বা চুলকালে ত্বকের সংক্রমণ দেখা দেয়।
ছুলির সংক্রমণও দেখা দেয় এই সময়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ঘামে ভেজা শরীরে ছত্রাকের সংক্রমণ বেশি হয়। তাই ঘাম জমতে দেবেন না। তবে অনেক সময় স্টেরয়েড নিলে, ডায়াবেটিস থাকলে, কোনও ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বা অপুষ্টিতে ভুগলেও ছুলির সংক্রমণ হতে পারে। মুখে, গলায়, ঘাড়ে, পিঠে ছুলি বেশি দেখা যায়। ছুলির সংক্রমণ হলে অবশ্যই ত্বক বিশেষজ্ঞর পরামর্শে ঠিকমতো চিকিৎসা করাতে হবে।
গরমে তেষ্টা মেটাতে খবরদার কোল্ড ড্রিঙ্কস নয়, গলা ভেজাতে কী কী খাবেন

১) গরম হলেও সুতির ফুল স্লিভ জামাকাপড় পরে রাস্তায় বেরোন। রংও বাছুন হালকা। কালো পোশাক এড়িয়ে চলুন। কারণ কালো রং তাপমাত্রা শোষণ করে বেশি।
২) সানস্ক্রিন লাগিয়ে বেরোনো অত্যন্ত জরুরি। এমনকি শিশুদের ত্বকেও ত্বকেও ব্যবহার করুন মেডিকেটেড সানস্ক্রিন।
৩) দিনে দু’-তিন বার স্নান করলে প্রিকলি হিটের হাত থেকে অনেকাংশে রক্ষা পাওয়া যায়। শিশুদের অনেক সময়ে ঠান্ডা লাগার ধাত থাকে। সে ক্ষেত্রে পরিষ্কার ঠান্ডা জলে তোয়ালে ভিজিয়ে শিশুর গোটা শরীর কোল্ড স্পঞ্জ করাতে পারেন। শরীরে কোনওভাবেই ঘাম জমতে দেবেন না।

৩) খুব প্রয়োজন না পড়লে দিনের বেলা রোদে বেরোবেন না, বেরোলেও ছাতা মাস্ট
৪) এসি থেকে বাইরে যাওয়া কিংবা বাইরে থেকে এসির মধ্যে সরাসরি না ঢোকাই ভাল। এতে ত্বকের তাপমাত্রার ফারাক হয়, তার থেকেও সমস্যা বাড়তে পারে। এসি-তে ঢোকার আগে ১০ মিনিট অপেক্ষা করুন।
৫) পোকমাকড় থেকে অ্যালার্জি হলে ল্যাক্টো ক্যালামাইন জাতীয় লোশন লাগান। জ্বলুনি বা প্রদাহের তীব্রতা অনুযায়ী চিকিৎসক মাইল্ড স্টেরয়েড অথবা স্টেরয়েড-অ্যান্টি বায়োটিক কম্বিনেশনের লোশন অন্তত পাঁচ-ছ’দিন লাগানোর পরামর্শ দেন।
৬) চুলকানি কমাতে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ক্যালামাইন লোশন ও অ্যান্টিহিস্টামিন সিরাপ খাওয়া যেতে পারে।
নিয়মিত স্নান, হাত-পা ধোয়া এবং ঘাম বসতে না দেওয়াই সামার র্যাশকে কাবু করার প্রধান উপায়।