
শেষ আপডেট: 8 May 2023 09:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কর্পোরেটে যাঁরা চাকরি করেন, তাঁদের অনেকের কাছে রোববারের রাত যেন ভয়ঙ্কর! (Bare minimum Monday)
স্কুলে থাকাকালীন গরমের ছুটি বা পুজোর ছুটির পর যেদিন স্কুল খুলত, সেদিনটা কেমন যেন কাটত সবার। পনেরো দিন, কুড়ি দিনের ছুটি শেষ। আবার ক্লাসে যাও, বই খোলো, স্যারের বকা শোনো! স্কুল, কলেজের গণ্ডী পেরিয়ে কাজের জগতে পা দিলে এটা যেন বহুগুণ বেড়ে যায়। বিশেষ করে কর্পোরেট দুনিয়ায় (Corporate World)। সপ্তাহে পাঁচদিন বা ছয়দিন নাক-মুখ গুঁজে খাটুনি, তারপর সপ্তাহান্তে একদিন বা দু’দিন ছুটি। সেই দু’দিন ছুটি যেন একেবারে বদ্ধ ঘরে হুট করে ঢুকে পড়া একরাশ দখিনা বাতাস। পরিবার, বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে হইহুল্লোড়ে কাটানো।
কিন্তু তারপর? সোমবার মানেই তো আবার সেই এক ঢোল এক কাঁসি… আবার এক সপ্তাহের খাটুনি!
তাই সোমবারটা যেন কর্মীদের বেশিরভাগের কাছে একটা ব্যাজার, মনমরা দিন। আগেরদিন রাত থেকে রীতিমত আতঙ্ক শুরু হয়। আবার কাল অফিস যেতে হবে? বিভিন্ন কর্পোরেট ম্যানেজমেন্টের মতে, এই মানসিক ক্লান্তি থেকেই আসে শারীরিক ক্লান্তি, কাজের প্রতি বিরক্তি, তিক্ততা, হতাশা এবং প্রায় প্রতি মুহূর্তেই কাজ ছেড়ে দেওয়ার ইচ্ছে। যার ফলে দেখা যাচ্ছে, সোমবার এলেই কর্মীদের মধ্যে নিঃসাড়ে কাজ ছেড়ে দেওয়ার একটা প্রবণতা দেখা যায়, বা নোটিস দিয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটে।
এইসব থেকে বেরোতেই এবারে নতুন সংযোজন, 'একেবারে ন্যূনতম সোমবার' বা 'বেয়ার মিনিমাম মানডে'।
আরও পড়ুন: পুরুষ বন্ধ্যত্ব কী কী কারণে হতে পারে? সারবে কীভাবে বলছেন ডাক্তারবাবু
'বেয়ার মিনিমাম মানডে' বা একেবারে নূন্যতম সোমবার
শব্দটির উদ্ভাবক জনৈকা টিকটক ব্যবহারকারী মারিসা জো। সমাজমাধ্যমে এক পোস্টে তিনি প্রস্তাব করেছেন, রোববারের এই যে আতঙ্ক এবং সোমবারে কাজে যোগ দেওয়ার এই যে অনীহা, এটাকে কাটাতে 'নূন্যতম সোমবার' চালু করা হোক। যে মডেলে সোমবার কর্মীকে কাজের ক্ষেত্রে একেবারে নূন্যতম দায়িত্ব দেওয়া হবে, স্বাভাবিকের চাইতে অনেক কম 'টার্গেট' ফেলা হবে এবং কাজ বাছার ক্ষেত্রেও কর্মীকে অনেক বেশি স্বাধীনতা দিতে হবে। যাতে কোনওভাবেই সোমবারটা তার জন্য দুর্বিসহ না হয়ে ওঠে। সবচেয়ে বড় কথা, সোমবারটায় এমন কিছু 'টার্গেট' রাখতে হবে, যা অতি সহজেই ধরে ফেলা যায়। যাতে অন্তত সপ্তাহের শুরুটাই কর্মীর কাছে 'সাকসেস' দিয়ে শুরু হতে পারে।
ইতিমধ্যেই কর্পোরেট দুনিয়ায় পাহাড়প্রমাণ কাজের চাপ কমিয়ে কীভাবে কর্মীদের মানসিক স্বাস্থ্য চাঙ্গা রাখা যায়, কীভাবে কর্মীদের পরিবার ও দাম্পত্যে বেশি সময় দিতে উৎসাহিত করা যায়, এসব নিয়ে চিন্তাভাবনা চলছে। কাজের চাপে 'ডিপ্রেশন', আত্মহত্যার প্রবণতা, যৌনজীবনে অতৃপ্তি ইত্যাদি বিষয়গুলো আজ প্রায় নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পরিস্থিতির উন্নতিতে চার দিনের কাজের সপ্তাহ নিয়ে বহু দেশে আলোচনা ও বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিভিন্ন উন্নত দেশে পরীক্ষামূলকভাবে চারদিনের কাজের সপ্তাহ শুরুও হয়ে গিয়েছে। শোনা যায়, আজ থেকে একশো বছর আগে, বিশ্ববরেণ্য অর্থনীতিবিদ জন মেনার্ড কেইনস উৎপাদন বাড়াতে শ্রমদিবস কমানোর কথা চিন্তা করেছিলেন। নেদারল্যান্ডস, আয়ারল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, স্পেন, অস্ট্রেলিয়া সহ বিভিন্ন দেশে পরীক্ষামূলকভাবে তার প্রয়োগ চলছে। এবার সোমবারের চাপ কাটিয়ে তাতে নতুন এক মাত্রা সংযোজনের দিকেই হাঁটছে কর্পোরেট দুনিয়া।
গরমে অতিরিক্ত শরীরচর্চায় বিপদ হতে পারে, এই নিয়ম মেনে ব্যায়াম করুন