
শেষ আপডেট: 11 September 2020 18:30
ভাবছে। শরীরে ভেতরেও যে সুরক্ষার বর্ম আছে সে ধারণা নেই অনেকেরই। হালে অ্যান্টিবডি, টি-কোষ ইত্যাদি শব্দগুলোর সঙ্গে পরিচয় হয়েছে অনেকেরই। আসলে আমাদের শরীরের কাঠামো এমনভাবেই তৈরি যে তার মধ্যেও একটা সুরক্ষা কবচ তৈরি করা আছে। প্রাকৃতিকভাবে জন্মের সময় থেকেই এই সুরক্ষা কবচ তৈরি হয় শরীরে। যাকে আমরা বলি ইমিউন সিস্টেম (Immune System) বা রোগ প্রতিরোধের বর্ম। এখন এই ইমিউন সিস্টেম আসলে কী এবং কীভাবে কাজ করে সেটাই হল মূল আলোচ্য বিষয়।
ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া বা যে কোনও সংক্রামক জীবাণু যদি শরীরে হুট করে ঢুকে পড়ে তাহলে তাকে ঠেকিয়ে শরীরের কোষ-কলাকে বাঁচাতে আপনা থেকেই একটা নিরাপত্তা বলয় তৈরি হয়। শরীর নিজেই তা তৈরি করে। এখন কার শরীর কতটা শক্তপোক্ত, অসুখবিসুখ নেই তার উপরেই এই রোগ প্রতিরোধ শক্তি নির্ভর করে। এখন শরীর যত নিয়ম মেনে চলবে, তার উপর অত্যাচার যত কম হবে, সঠিক ডায়েট ও শরীরচর্চার অভ্যাস থাকবে , তার রোগ প্রতিরোধ শক্তি স্বভাবতই বেশি হবে। বিশেষজ্ঞরা তাই বলছেন, দুর্বল শরীর মানেই ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি। আগে মনে করা হত প্রবীণ ব্যক্তিদের বয়সজনিত কারণে এবং নানা বার্ধক্যজনিত রোগের কারণে রোগ প্রতিরোধ কম বলে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, কম বয়সীদের মধ্যে ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি প্রায় একই রকম। বলাই বাহুল্য, ইদানীং সময় কম বয়সীরাই সংক্রমণের শিকার বেশি হয়েছে, বিশেষত যাদের স্থূলত্ব, ফুসফুসের রোগ, ধূমপানের অভ্যাস বা অন্য কোনও ক্রনিক রোগ রয়েছে তারাই সবচেয়ে বেশি ভাইরাস আক্রান্ত হয়েছে।
এখন দেখে নেওয়া যাক, আমাদের শরীরে ঠিক কী কী রকমের রোগ প্রতিরোধ শক্তি তৈরি হয়।
বি-কোষের কাজই হল অ্যান্টিবডি তৈরি করা। একে ইমিউনোগ্লোবিউলিন বলা হয়। অ্যান্টিজেনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে এই বি-কোষ তার অনেকগুলো প্রতিলিপি তৈরি করে ফেলে যাকে বিজ্ঞানের ভাষায় বলে ‘ক্লোনিং’ । এমন অজস্র কোষ থেকে লক্ষ লক্ষ অ্যান্টিবডি তৈরি হয় রক্তরসে। এইসব অ্যান্টিবডি শৃঙ্খল তৈরি করে ভাইরাল প্রোটিনকে ঘিরে ফেলে তাকে নিষ্ক্রিয় করে দেওয়ার চেষ্টা করে। গবেষকরা বলেছেন, আরএনএ ভাইরাসের স্পাইক গ্লাইকোপ্রোটিনের সঙ্গে জুড়ে যেতে পারে এই অ্যান্টিবডি। অনেকটা ক্যাপের মতো স্পাইক প্রোটিনের উপর আবরণ তৈরি করে দেয়। ফলে ভাইরাল প্রোটিন আর দেহকোষের ACE-2 রিসেপটরের সঙ্গে জোট বাঁধতে পারে না। অর্থাৎ ভাইরাসের দেহকোষে ঢোকার রাস্তাটা বন্ধ হয়ে যায়।
শরীরে রোগ প্রতিরোধ কতটা তৈরি হল সেটা জানতেই এখন রক্তের বি-কোষ ও টি-কোষ পরীক্ষা করা হচ্ছে। সেরো সার্ভেতে রক্তে অ্যান্টিবডির পরিমাণ দেখেই নির্ধারণ করা হচ্ছে কতজন ভইরাস সংক্রামিত হয়েছিলেন আর কী পর্যায়ে সংক্রমণ ছড়িয়েছে। রোগীর রক্তে অ্যান্টিবডি কতদিন থাকছে সেটা নিয়েও মাথা ঘামাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। কারণ করোনার সংক্রমণে রক্তে অ্যান্টিবডি তিন মাসের বেশি স্থায়ী হচ্ছে না। তাই জোরালো ইমিউনিটি তৈরি হচ্ছে না কারও শরীরেই।
এটা গেল শরীরের অভ্যন্তরীণ রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা। এবার দেখে নেওয়া যাক ভাইরাসের কবল থেকে সুরক্ষা পেতে কী কী ধরনের সাবধানতা মেনে চলতে হবে। এই নিয়মগুলো মানলেই বাইরে থেকেও ভাইরাস প্রতিরোধী নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি হবে।
কাজের জায়গায়, রাস্তাঘাটে সবসময়ই ফেস-মাস্ক পরে থাকা জরুরি। থ্রি-লেয়ার মাস্ক না থাকলে বাড়িতে তৈরি সুতির মাস্কই ভাল। হেড গিয়ার বা ফেস-শিল্ড না থাকলেও ক্ষতি নেই। ওড়না বা পরিষ্কার স্কার্ফ মাথায়, মুখে জড়িয়ে রাখা যেতে পারে।
খুব বেশি ভিড় বা জনবহুল জায়গায় না যাওয়াই ভাল। এমনকি বাড়িতে কোনও অনুষ্ঠানে বা কাজের জায়গায় বেশি জমায়েত না হওয়াই এই সময় বাঞ্ছনীয়।
পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা সবচেয়ে আগে দরকার। বাড়িতে বা কাজের জায়গায় পরিচ্ছন্নতার দিকে নজর দিতে হবে। বড় জায়গা হলে স্যানিটাইজ করে নেওয়া জরুরি।
দূরত্ব বিধি মেনে চলাটা দরকার। পারস্পরিক দূরত্ব কম করেও ৬ ফুট রাখতে হবে। সুরক্ষা বিধিতে স্বাস্থ্য দফতরের নির্দেশিকা মেনে চলাই ভাল।