Date : 15th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
IPL 2026: টানা চতুর্থ হারে কোণঠাসা কেকেআর, ৩২ রানে ম্যাচ জিতল সিএসকে‘ভূত বাংলো’য় সেন্সর বোর্ডের কাঁচি! বাদ গেল ৬৩টি দৃশ্য, ছবির দৈর্ঘ্য কমতেই চিন্তায় অক্ষয়ভোটের ডিউটিতে কড়া নিয়ম! প্রিসাইডিং ও সেক্টর অফিসারদের জন্য একগুচ্ছ নির্দেশিকা কমিশনের'বন্ধু' মোদীকে ফোন ট্রাম্পের! ৪০ মিনিট ধরে হরমুজ প্রণালী নিয়ে কী আলোচনা হল?লোকাল ট্রেনের টিকিটে বিরাট ছাড়! ৫ টাকার টিকিট এখন কত পড়বে? জেনে নিন বিস্তারিতTB Vaccine: যক্ষ্মা প্রতিরোধে কতটা সফল নতুন টিকা? ট্রায়ালের রিপোর্টে আশার আলোর পাশাপাশি উদ্বেগের সুর বিজ্ঞানীদের'বাঙালি ব্রিটিশদের সামনে মাথা নত করেনি, আর এই বহিরাগতরা আমাদের কী করবে?' বিজেপিকে তোপ অভিষেকেরসাইলেন্ট লাং ডিজিজ: কাশি মানেই কি ক্যানসার? দূষণে ফুঁসছে ফুসফুস, কখন দরকার ট্রান্সপ্লান্ট?'ইগো সরিয়ে রাখুন', নিজেদের মধ্যে মতভেদ সরিয়ে এক হয়ে লড়ার নির্দেশ অভিষেকেরভাইরাল ভিডিও হাতিয়ার করে শাহের তোপ! হুমায়ুনকে ‘দিদির এজেন্ট’ বলে কটাক্ষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

অবসাদের স্বাদ চেখে গভীরতা মাপবে ‘মেশিন লার্নিং’, স্ট্রেস কমানোর দাওয়াই এখন এআই

অবসাদের কোন অতল খাদে আপনি তলিয়ে যাচ্ছেন তার সন্ধান দেবে যন্ত্র। স্ট্রেস সারাতে আধুনিক প্রজন্মের দাওয়াই এখন মেশিন লার্নিং।

অবসাদের স্বাদ চেখে গভীরতা মাপবে ‘মেশিন লার্নিং’, স্ট্রেস কমানোর দাওয়াই এখন এআই

শেষ আপডেট: 13 February 2024 16:27

দ্য ওয়াল ব্যুরো: “মন তোর কোন দেশে থাকে, কেন তুই ভুলে যাস কথা/ আয় দেখি কোন ফাঁক দিয়ে , মগজেতে ফুটো তোর কোথা।”

সুকুমার রায় তাঁর সময়ের থেকে অনেকটা এগিয়েই ভেবেছিলেন। তিনি বলেছিলেন ফুটোস্কোপের কথা, যা বাস্তবিকভাবেই আধুনিক বিজ্ঞানের কারিগরিতে সম্ভব হয়েছে। কবির ফুটোস্কোপ আসলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (আর্টিফিশিয়াল ইনটেলিজেন্স)বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে কাজে লাগিয়ে তৈরি কোনও যন্ত্র যা মগজের বন্ধ দরজার তালা খুলতে পারে। মগজের কোথায় ‘ভস ভস করছে ঘিলু’, আবার কোথায় ‘ঠকঠকে ফাঁকা’ তা ধরার ক্ষমতা আছে একমাত্র কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার। অবসাদের কোন অতল খাদে আপনি তলিয়ে যাচ্ছেন তার সন্ধান দেবে যন্ত্র। স্ট্রেস সারাতে আধুনিক প্রজন্মের দাওয়াই এখন মেশিন লার্নিং।

টেসলা কর্তা এআই-কে কাজে লাগিয়ে এমন ব্রেন চিপ বানিয়েছেন যা নাকি ব্রেনের যে কোনও জটিল থেকে জটিলতর ব্যামো সারাতে পারবে। মগজের ভেতর সেই চিপ সাঁটিয়ে দিলেই কেল্লাফতে। স্নায়ুর ভেতর রাসায়নিকের কমাবাড়া, সিগন্যালের হেরফের মেপে ঠিক কোন জায়গায় জট পেকেছে তা ধরে দেওয়ার সেই চিপ থুরি ব্রেন-মেশিনের কাজ। আসলে মানুষের ব্রেন বা মস্তিষ্ক জটিল এক সফটওয়্যার, যাকে কোড-ডিকোড করা তো দূর, সেই প্রোগ্রামিংয়ের তলও খুঁজে পায়নি মানুষ। মস্তিষ্কের ১০০ শতাংশের কতটুকুই বা আমরা কাজে লাগাতে পেরেছি, জানতে বা বুঝতে পেরেছি। তাই বিকল্প হিসেবে যন্ত্রের কর্মক্ষমতা বাড়িয়ে তার সাহায্যে মন-মস্তিষ্কের জট ছাড়ানোর চেষ্টা হচ্ছে কৃত্রিমভাবে। মেশিনের সাহায্যে। মানুষের বুদ্ধিতেই তৈরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মেশিন অ্যালগোরিদমের সাহায্যে ব্রেনের অনেক জটিল রহস্যের সমাধান করতে পারবে বলেই বিজ্ঞানীদের আশা।

ব্যাপারটা বুঝিয়ে বলা যাক। ধরুন আপনি যাকে খুঁজছেন, তার নামটা উচ্চারণ করার সঙ্গে সঙ্গেই কল হয়ে গেল। রাস্তার গলিঘুঁজি পেরিয়ে, জ্যাম এড়িয়ে কোথায় কোনখানে যেতে হবে তা বিস্তারিত আপনাকে বুঝিয়ে দিল যন্ত্র। কোটি কোটি তথ্যের মধ্যে যে অংশটুকু আপনি খুঁজছেন ঠিক সেটাই লহমায় বের করে দিল যন্ত্র। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মজা এখানেই। মেশিনকে শিখিয়ে পড়িয়ে তার কর্মক্ষমতা বাড়িয়ে মানুষের মতো বুদ্ধি দেওয়া। তারপর সব কাজ সে নিজেই ভেবেচিন্তে, 'মাথা'  খাটিয়ে করে দিতে পারবে। এতে সময়ও কমবে, পরিশ্রমও কম হবে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আসলে বেশ কিছু জটিল বিষয়ের সমষ্টি। তার মধ্যে অন্যতম ‘মেশিন লার্নিং’। আবার ‘মেশিন লার্নিং’-এর একটি অংশ হল ‘ডিপ লার্নিং’। ‘মেশিন লার্নিং’-এ হচ্ছে বহু তথ্য থেকে সংক্ষিপ্ত কিন্তু অর্থবহুল তথ্য বের করা এবং সে অনুযায়ী পরের ধাপে কী হবে সেটা শুরুতেই ঠিক করে ফেলা। যন্ত্রকে অনেক তথ্য দিয়ে, ঘটনা দেখিয়ে শিখিয়ে দেওয়া হয়। এরপর সেই পরিস্থিতিতে পড়লে সে নিজেই বুদ্ধি খাটিয়ে সমাধান বের করে নিতে পারে। যে কোনও জটিল সমস্যা দেওয়া হলে তার সমাধান কোন পথে হবে এবং কত দ্রুত হবে তা মেশিন নিজের বুদ্ধিতেই করে, এটাই হল মেশিন লার্নিংয়ের সাফল্য। আর যন্ত্রের এই মেধাকেই মেডিক্যাল সায়েন্সে ব্যবহার করছেন বিজ্ঞানীরা। এতদিন বিদেশে মেশিন লার্নিং নিয়ে গবেষণা হচ্ছিল, এখন ভারতেও এই নিয়ে উচ্চপর্যায়ের গবেষণা শুরু হয়েছে। চ্যাটজিপিটি বা ডিপফেকের মতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার খুচরো অংশ নিয়ে কাজ নয়, বরং মানুষের মন ও মগজের জটিল অসুখ সারাতে কীভাবে এআই-কে ব্যবহার করা যাবে তার গবেষণা চলছে দিল্লির এইমস, পুণে, ভোপালে।

মন কতটা খারাপ, স্মৃতি কতটা ঝাপসা, আতস কাঁচের নীচে ফেলে দেখবে মেশিন

অবসাদ, স্ট্রেস, স্মৃতিনাশ বা ডিমেনশিয়ার মতো মনোরোগের শিকার এখন অনেকেই। মনের অসুখে বেশি ভুগছেন কমবয়সিরাই। মুড সুয়িং, বাইপোলার মুড ডিসঅর্ডার, ডিপ্রেশন এই ডাক্তারি শব্দগুলো এখন চেনা। মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অবসাদ দিয়ে শুরু হয়, শেষে তা রোগে পরিণত হয়। চরম অবসাদ, স্ট্রেস, অ্য়াংজাইটি মুড ডিসঅর্ডারের কারণ। রোগের বাড়াবাড়ি হলে এবং জটিল পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছলে তাকে ডিপ্রেসিভ ডিজঅর্ডারও বলা হয়। একই মানুষের মধ্যে যদি কখনও ডিপ্রেশন, আবার কখনও হাইপোম্যানিয়ার পর্ব চলতে থাকে, তাকে বলা হয় বাইপোলার মুড ডিজঅর্ডার । মন ও মেজাজ সবসময় দুই চরম স্থিতিতে থাকে। হয় প্রচণ্ড উচ্ছ্বাস না হলে একেবারে ভগ্ন, বিষাদগ্রস্ত, অবসাদে আচ্ছন্ন। মনের এই অসুখ যে কতটা মারাত্মক হতে পারে সেটা টের পান কাছে থাকা মানুষজনই। মনের রোগ কতটা জটিল পর্যায়ে গেছে, কতটা অতল খাদে আপনি হাবুডুবু খাচ্ছেন তা ধরাই ভীষণ কঠিন। তার পরে থেরাপি শুরু হতে পারে। তবে যদি গোড়াতেই ধরা যায় তাহলে চিকিৎসাও অনেক সহজ হয়ে যায়।

মস্তিষ্কে সব কাজের জন্যই আলাদা আলাদা কুঠুরি থাকে। স্মৃতি ধরে রাখার বাক্সও থাকে—একে বলে হিপ্পোক্যাম্পাস। এই এলাকা স্মৃতি তৈরি করে, স্মৃতি সঞ্চয় করে, আবেগ-ভাবনা নিয়ন্ত্রণ করে। মানুষের মস্তিষ্কের মধ্যে দু’টি হিপ্পোক্যাম্পাস থাকে। স্মৃতিকে বেঁধে রাখার কাজটি করে মাথার এই অংশটিই। আর ‘এনটোরিনাল কর্টেক্স’ নামে আর একটি অংশ হিপ্পোক্যাম্পাসের সঙ্গে যুক্ত থাকে। এই এলাকা স্মৃতির জাল তৈরি করে। মস্তিষ্কের স্নায়ুর মাধ্যমে একটা নেটওয়ার্ক তৈরি হয়। এই নেটওয়ার্ক মারফৎ সিগন্যাল বা সঙ্কেত বাহিত হয়ে আসে। মস্তিষ্ক ঠিক করে কোন ঘটনাকে সঞ্চয় করে রাখা হবে আর কোন ঘটনা মস্তিষ্কে ক্ষণস্থায়ী হবে। স্মৃতির এই বাক্স যখন নানা কারণে অকেজো হয়ে যায়, তখন মানুষ আর কিছু মনে রাখতে পারে না। শুরুটা হয় রোজকার জীবনের কাজের মধ্যে দিয়ে, শেষে নিজের নাম, বাড়ির ঠিকানা, আত্মীয়-পরিজন সকলকেই ভুলে যেতে শুরু করে রোগী। একেই বলে ডিমেনশিয়া। যার সূচনাটা সেই স্ট্রেস এবং মুড ডিসঅর্ডার দিয়েই শুরু হয়। মেশিন লার্নিং (Machine learning) এই গোড়ায় গলদটাই ধরবে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, মনোরোগীর পারিবারিক ইতিহাস, জেনেটিক ফ্যাক্টর, ক্লিনিকাল ফ্যাক্টর ইত্যাদি খুঁটিয়ে দেখে যন্ত্রই ধরে দেবে ব্রেনের ঠিক কোন জায়গাটা অকেজো হয়ে গেছে। কীভাবে অসুস্থ মস্তিষ্ককে সুস্থ করা যায় তার উপায়ও বলতে পারবে যন্ত্রই। ১৫০০ মনোরোগীর ওপরে পরীক্ষা শুরু হয়েছে। আগামী দিনে আরও বৃহত্তর কাজে এই প্রযুক্তিকে কাজে লাগানো হবে বলে জানাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা।


```