
শেষ আপডেট: 9 March 2024 17:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ব্রেন টিউমার (Brain Tumour)মানেই আতঙ্ক। মস্তিষ্কে টিউমার হয়েছে শুনলেই রোগীর ট্রমা শুরু হয়ে যায়। এমন ধারণাও রয়েছে যে ব্রেন টিউমার মানেই মৃত্যু। বাঁচার আর কোনও আশাই নেই। কিন্তু আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতিতে ব্রেন টিউমার সারিয়ে রোগীর সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়া সম্ভব। তার জন্য জরুরি প্রাথমিক স্টেজেই রোগ নির্ণয় এবং সঠিক চিকিৎসা পদ্ধতি। আধুনিক চিকিৎসায় ব্রেন টিউমারের মতো জটিল ও সময়সাপেক্ষ সার্জারি মাত্র ৩০ মিনিটে হওয়া সম্ভব। এই অপারেশনে রোগীর ঝুঁকিও কম। দক্ষিণ এশিয়ায় প্রথম দিল্লিতে এই ধরনের অপারেশন শুরু হয়েছে।
ব্রেন টিউমারের কী ধরনের অপারেশন হচ্ছে আধ ঘণ্টায়?
নন-ইনভ্যাসিভ মানে মাথার খুলি সম্পূর্ণ না খুলেই অপারেশন হবে। রোগীকে একটি ইগলুর মতো দেখতে মেশিনে ঢুকিয়ে দেওয়া হবে। সেখানে রেডিওতরঙ্গ দিয়ে শুধুমাত্র টিউমারটিকে নষ্ট করে ফেলা হবে খুব দ্রুত। গোটা অপারেশনে সময় লাগবে মাত্র আধ ঘণ্টা। দিল্লির ইন্দ্রপ্রস্থ অ্যাপোলো হাসপাতালে এই ধরনের অপারেশন শুরু হয়েছে। ডাক্তারবাবুরা একে বলছেন রেডিওসার্জারি। জ়্যাপ-এক্স (ZAP-X) নামে একটি মেশিনে এই ধরনের রেডিওসার্জারি করছেন ডাক্তারবাবুরা।

কী কী সুবিধা এই রেডিওসার্জারিতে?
ডাক্তারবাবুরা বলছেন, জ়্যাপ-এক্স মেশিনটি অনেকটা ইগলুর মতো দেখতে। এর ভেতর রোগী নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে থাকবেন। মাত্র ৩০ মিনিটেই ব্রেন থেকে টিউমারটি নষ্ট করে ফেলা হবে। হাই-ইনটেনসিটি রেডিয়েশন শুধুমাত্র ব্রেনের টিউমার কোষগুলোকে নষ্ট করবে, আশপাশের সুস্থ কোষগুলির কোনও ক্ষতি হবে না।
ব্রেন টিউমারের সাধারণ অপারেশনে ঝুঁকি বেশি থাকে। অপারেশন টেবিলে রোগীর মৃত্যুও হতে পারে। কিন্তু রেডিয়েশন থেরাপিতে সে ঝুঁকি নেই। বরং রোগীর দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাওয়া সম্ভব। এটি যেহেতু নন-ইনভ্যাসিভ রেডিয়েশন থেরাপি তাই মাথার খুলি কাটাছেঁড়া করতে হয় না। সে কারণেই এই থেরাপিতে পোস্ট-সার্জারি পর্বে যেসব জটিলতা দেখা দেয় তা প্রায় হবে না বললেই চলে। ডাক্তারবাবুরা বলছেন, সাধারণ ব্রেন টিউমারের অপারেশন হলে তার পরেও নানা ঝুঁকি থাকে। টিউমার ফের গজাতে পারে অথবা রোগীর শরীরে নানারকম সাইড এফেক্টস দেখা দিতে পারে। অন্য রোগের সম্ভাবনাও থেকে যায়। কিন্তু রেডিও সার্জারিতে সে সম্ভাবনা নেই। এখানে মস্তিষ্কের কাটাছেঁড়া হয় না, শুধুমাত্র হাই-ইনটেনসিটি রেডিয়েশন ব্রেনের ঠিক টিউমারের জায়গাটিকেই টার্গেট করে। মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যে টিউমার কোষগুলিকে বেছে বেছে নষ্ট করে ফেলে।
ব্রেন টিউমার দু'রকমের হয়। বিনাইন মানে ভাল টিউমার এবং ম্যালিগন্যান্ট মানে খারাপ টিউমার। ম্যালিগন্যান্সি ধরা পড়লে সেই টিউমার ক্যানসারের কারণ হয়ে ওঠে। বিনাইন টিউমার গোড়াতে ধরা পড়লে ট্রিটমেন্টে রোগীর সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠা সম্ভব। খারাপ টিউমার আবার অনেক রকম হয়। কিছু টিউমার এমন থাকে যেখানে ডাক্তারের ট্রিটমেন্টে থাকলে রোগী ২০ বছর অবধি বাঁচতে পারে। আবার যদি ম্যালিগন্যান্ট টিউমার লাস্ট স্টেজে গিয়ে ধরা পড়ে তাহলে বাঁচার সম্ভাবনা কমে যায়। ডাক্তারবাবুরা বলছেন, এখানেই রেডিওথেরাপির সার্থকতা। টিউমার ছড়িয়ে গেলেও রেডিও সার্জারি শুধুমাত্র টিউমার কোষগুলিকে টার্গেট করে নষ্ট করে দেবে। তাই রোগীর বেঁচে থাকার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যাবে।