
শেষ আপডেট: 16 November 2018 18:30
নর্থওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক মেরিলিন করনেলিস বলেছেন, গবেষণায় দেখা গেছে ক্যাফিনের প্রতি যাঁদের আকর্ষণ আছে তাঁদের চায়ের প্রতি আসক্তি কম। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় যতই অম্বলে গলা–বুক জ্বলে যাক, রাতের ঘুম নষ্ট হোক, কি পেটের সমস্যা আসুক- কফি তাঁরা খাবেনই।
বিভিন্ন গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে কফি খাওয়া হার্টের জন্য ভাল। দিনে দু’–চার বার চিনি ছাড়া কালো কফি খেলে শরীরের বিপাক ক্রিয়া বেড়ে ওজন কমারও সুরাহা হয়৷ খিদে কমে যায় বলে স্বাস্থ্যকর ডায়েটেও রাখা যায় ব্ল্যাক কফি৷ ক্যাফিনের প্রভাবে হার্ট ও রক্তনালী উদ্দীপিত হয়ে রক্তচাপ সাময়িক একটু বাড়তে পারে, তবে সময়ের সঙ্গে সে প্রভাব কেটে যায়।
ক্যাফিনের প্রতি যাঁদের অতিরিক্ত স্পর্শকাতরতা আছে তাঁদের নানা রকম সমস্যা দেখা দিতে পারে৷ বিজ্ঞানীরা বলছেন ক্যাফিনের প্রতি এই আসক্তি বা স্পর্শকাতরতা, সেটা পুরোপুরিই জিনের উপর নির্ভর করে৷ কফি বিনের ফাইটোকেমিক্যাল কারওর শরীরে অভ্যন্তরীন প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে, তো অন্যদিকে ক্যাফিনের প্রতি স্পর্শকাতরতা শরীরের বিপদ ডেকে আনতে পারে৷ তেমন হলে রক্তচাপ মেপে দেখুন তাতে কোনও ফারাক এল কি না৷ ফারাক এলে বুঝতে হবে ক্যাফিনের ধকল নিতে পারছে না হার্ট৷ সে ক্ষেত্রে হয় কফি খাওয়া বন্ধ করুন, নয়তো খান ডি–ক্যাফিনেটে কফি৷
শুধু ক্যাফিন নয়, কুইনিন বা প্রপের (PROP) প্রতি অতিরিক্ত আসক্তিও জিনের কারসাজি৷ অ্যালকোহল তিতকুটে স্বাদ এই প্রপের উপস্থিতির জন্যই৷ অ্যালকোহলের প্রতি অনাসক্তিও তাই প্রপের প্রতি অতিরিক্ত স্পর্শকাতরতার জন্য হয়৷
কোনও কিছুতেই অতিরিক্ত আসক্তি ভাল নয়৷ চা-কফি খান, তবে মেপে৷ আসক্তি বাড়ছে বুঝতে শুরু করে করলে ছাড়ার কাজটাও করুন ধীরে-সুস্থে৷ একদিনে সব ছেড়ে দিয়ে বাজিমাত করে দিয়েছেন মনে করলে ভুল করবেন৷ তাতে সমস্যা আরও বাড়ে৷ উইথড্রয়াল এফেক্ট যেমন মাথা ধরা, ঝিমুনি, বিরক্তিভাব গ্রাস করতে থাকে৷ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে তবেই নিজের চেনা অভ্যাসে বদল আনুন৷