
শেষ আপডেট: 19 June 2023 12:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতে মুখ ও গলার ক্যানসারের অন্যতম কারণ গুটখা, পানমশলা, গুড়াকুর মতো ধোঁয়াহীন চিবোনোর তামাক। ল্যানসেটের গবেষণা বলছে, দেশে প্রতি ছয় পরিবারের অন্তত একটিতে এমন লোকজন পাওয়া যাবে যাঁরা গুটখা, খৈনি, গুড়াকুর মতো মুখের তামাকে আসক্ত। ভারতের কয়েকটি রাজ্যে অনেক আগেই সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে মুখের বা চিবনোর তামাকে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছিল। কিন্তু চোরাগোপ্তা পথে তামাক বিক্রি ও সেবন দেদারই চলছে। সেই সঙ্গে মুখ ও গলার ক্যানসারের ঝুঁকিও বাড়ছে।
সমীক্ষা বলছে, ১৪০ কোটি জনসংখ্যার এক তৃতীয়াংশই নানা রকম নেশায় আসক্ত। তার মধ্যে মুখের তামাকে আসক্তিই বেশি। দেখা গেছে, সিগারেট-বিড়ির মতো ধোঁয়া টানায় আসক্ত যদি ১০ শতাংশ হয়, তাহলে মুখের তামাকে আসক্ত ২১ শতাংশেরও বেশি। চিন্তার কারণ এটাই।
২০০৩-এ দেশে বলবৎ হয়েছিল ‘সিগারেট অ্যান্ড আদার্স টোব্যাকো প্রোডাক্টস অ্যাক্ট’ বা কোটপা। সেই আইন অনুযায়ী হোটেল, রেস্তোরাঁ, এয়ারপোর্টের মতো এলাকায় নির্দিষ্ট ‘স্মোকিং জোন’ ছাড়া প্রকাশ্যে ধূমপান ও তামাক সেবনে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১০০ মিটারের মধ্যে ধূমপান করলে জরিমানার নিদানও রয়েছে। ওই সীমারেখার মধ্যে সিগারেট, বিড়ি, গুটখা বিক্রিতেও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। কিন্তু সে সব খাতায় কলমেই। বেশিরভাগ জায়গাতেই এই নিয়ম মান্য করা হয় না।
আর তা হবেই বা কেন। এই ধরনের তামাক বিক্রিতে কোটি কোটি টাকা আয় হয়। সমীক্ষা বলছে, তামাক আছে এমন পান মশলার বিক্রি দেশে সবচেয়ে বেশি। ২০২০ সালে এই ধরনের পান মশলা বিক্রি করে ৪২ হাজার কোটির বেশি আয় হয়েছিল। ভারতের বাজারের একটা বড় অংশ জুড়েই আছে সিগারেট, বিড়ি ও তামাক জাতীয় পণ্য। এর বিক্রি বাড়ছে বই কমছে না। এমনও অনুমান করা হয়েছে ২০২৬ সালের মধ্যে তামাক জাতীয় পণ্যের বিক্রি আরও বাড়বে।
ক্যানসার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সারা ভারতে ১৩ থেকে ১৫ বছর বয়সি ধূমপায়ীদের সংখ্যা সাড়ে আট শতাংশেরও বেশি। টোব্যাকো অ্যাক্ট তেমন জোরদার করা যায়নি সব রাজ্যে।
দেশে প্রতি ঘণ্টায় ৫ জন মুখের (ওরাল) ক্যানসারে মারা যান, প্রতি দিন ১২০ জন। অথচ এই ক্যানসার নিজেদেরই ডেকে আনা, সতর্ক হলে অনায়াসে রুখে দেওয়া যায়। এই কারণে চিবোনো তামাক ও সুপুরি বিক্রির ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা জারির পরামর্শ দেওয়া হয় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তরফ থেকে। এ দেশের মুখের ক্যানসারে আক্রান্তদের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। এঁদের প্রায় সকলেরই তামাক চিবোনোর নেশার পাশাপাশি বিড়ি বা সিগারেট ও মদ্যপানের নেশায় আসক্ত। অনেকেই দিন শুরু হয় গুটখার পাউচ মুখে ঢেলে। পান-সুপুরি, জর্দা, দোক্তা, গুটখা ও মদ্যপান মুখের ক্যানসারের প্রধান কারণ। তামাকজাত নেশার বস্তুতে ৫০০০টি বিষাক্ত পদার্থ থাকে। যার মধ্যে সবচেয়ে ক্ষতিকারক নিকোটিন।
নিকোটিনের জন্যই তামাকের প্রতি আসক্তি আসে। যে আসক্তি কোকেনে আসক্তির থেকেও ভয়াবহ। নিকোটিন মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে মস্তিষ্কে পৌঁছে যায়। মস্তিষ্কে শোষিত হওয়ার পর তা হার্ট, হরমোন ও খাদ্যনালীকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। আর্থারাইটিস, কিডনির সমস্যা, চোখের সমস্যা, দাঁতের সমস্যা, ডায়াবেটিসের কারণ হতে পারে অতিরিক্ত তামাকের নেশা।
তামাকে কোনও লাভ নেই, সবটাই ক্ষতি! হু হু করে বাড়ছে মুখ ও গলার ক্যানসার: ডক্টর শুভদীপ চক্রবর্তী