দ্য ওয়াল ব্যুরো: মধ্য চল্লিশের গৃহবধূ হোক বা বছর কুড়ির তরুণী, নির্মেদ ছিপছিপে রূপের জৌলুস পেতে চান সবাই। শুধু মহিলারাই নন, ত্রিশের পর মুটিয়ে যাওয়া ভুঁড়ি সর্বস্ব পুরুষেরও সেই একই চাহিদা। সপ্তাহের শুরুটা যদি ওটস্ মিল দিয়ে হয়, তবে সপ্তাহান্তে চর্বচোষ্য চিকেন-মটন-চিংড়ির সমাহারে আঙুল চাটতে চাটতে বাঙালি ভুলেই যায় ডায়েট নামক বস্তুটি আসলে কী। কাজের চাপে নিয়মিত ওয়ার্কআউটও একপ্রকার বাতিলের তালিকায়। ফলে ভুঁড়িও কমে না, রমণীর স্বপ্নও পূরণ হয় না।
বিশেষজ্ঞেরা জানাচ্ছেন, বাজারচলতি টোটকা ব্যবহার করে দ্রুত ওজন কমানোর বদলে ধারাবাহিক ভাবে চেষ্টা করাটাই ভাল। তাতে ফলও হয় দীর্ঘমেয়াদি। শরীরের পুষ্টির মাত্রাও থাকে ঠিকঠাক। আবার, পকেটের দিকে তাকিয়ে যাঁরা ডায়েটে অনেক খরচা বলে পিছিয়ে যান তাঁদের জন্যও এই অভ্যাস একেবারে পারফেক্ট। এই ভাবে ওজন কমানোর জন্য খুব বেশি কসরত করতে হয় না। শুধু সঠিক নিয়ম মেনে সঠিক মাত্রায় এই খাবার খেলেই কেল্লাফতে! এ বার যদি মনে হয় খাবারটি আবার কী, তাহলে বলে রাখা ভাল এটি আর কিছুই নয় নিতান্তই অতি নিরীহ ঘরোয়া উপকরণ-মধু আর কাঁচা রসুন।
চমকে গেলেন? চমক লাগারই কথা, কারণ সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে উষ্ণ গরম জলের সঙ্গে লেবুর রস মিশিয়ে খাওয়ার নিদান মা-ঠাকুমারাই দিয়ে আসছেন। হালে ডায়টিশিয়ানদেরও সেই একই মত। অনেকে আবার লেবু জলের সঙ্গে কয়েক ফোঁটা মধু মিশিয়ে খেতে ভালবাসেন। এ বার সেই চেনা ছকটাকে একটু উল্টে-পাল্টে মধু এবং কাঁচা রসুন খাওয়ার নিদানই দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞেরা।
যদি আলাদা আলাদা ভাবে দেখা যায়, তাহলে দেখে নেওয়া যাক মধু এবং রসুনের উপকারিতা কী কী?
- এক চামচ পরিমাণ (২১ গ্রাম) মধুতে রয়েছে ৬৪ ক্যালোরি, ১৭ গ্রাম সুগার যার মধ্যে রয়েছে ফ্রুকটোজ, গ্লুকোজ, ম্যালটোজ এবং সুক্রোজ।
- মধুতে সাধারণত ফাইবার, প্রোটিন ও ফ্যাট থাকে না।
- তবে, ভিটামিন ও খনিজ থাকে ভরপুর। সারাদিন শরীরে পুষ্টি জোগাতে মধুর ভুমিকা অনেক।
- ছোটবেলায় মায়েরা বলতেন মধু খেলে সর্দি-কাশি কমে যায়। আসলে মধুতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা শরীরের রোগ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়াগুলোকে মেরে দেয়। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দ্বিগুণ করে।
- মধু খেলে রক্তচাপও বশে থাকে।
প্রায় একই রকম কাজ করে কাঁচা রসুনও। অনেকেরই অভ্যাস থাকে সকালে উঠে এক কোয়া রসুন খাওয়ার। এতে হার্ট ভাল থাকে।

এক আউন্স (২৮ গ্রাম)রসুনে রয়েছে ম্যাঙ্গানীজ-২৩%, ভিটামিন বি৬-১৭%, ভিটামিন সি-১৫%, সেলেনিয়াম-৬%, ফাইবার-০.৬%। তা ছাড়া ক্যালোরিও খুব কম ৪২, প্রোটিন ১.৮ গ্রাম এবং ৯ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট। আরও জানতে চাইলে জেনে রাখুন রসুনে ক্যালসিয়াম, কপার, পটাসিয়াম, ফসফরাস, আয়রন এবং ভিটামিন বি১ থাকে সঠিক মাত্রায়।
অতএব, এত গুণ যাদের সেই দু’জনকে একসঙ্গে মিলিয়ে দিয়েছেন গবেষকেরা। মধুর সঙ্গে রসুন, বা রসুনের সঙ্গে মধু— মেদ একেবারে ব্যাগপত্তর গুছিয়ে পালাবে।
মধু-রসুনের যুগলবন্দিতে কী হয় দেখে নিন
- রোগ প্রতিরোধ তো বাড়েই, সর্দি-কাশি কাছে আসতে সাহস পায় না।
- পৌষ্টিকতন্ত্রের ক্রিয়া বাড়ে, হজমের সমস্যা দূর হয়।
- শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়, বাড়তি ক্যালোরি ছেঁটে ফেলে, ফলে ওজন কমতে শুরু করে।
- মধু রক্তে ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা কমায়, ফলে হৃদরোগের সম্ভাবনা কমে।
এই মধুর সঙ্গে রসুন মেশানোর একটা বিশেষ পদ্ধতি রয়েছে। অগোছালো ভাবে খেয়ে নিলেই হল না, বরং একটু গুছিয়ে নিয়ে মধু-রসুনের মিশ্রণ বানিয়ে রাখুন। এতে সময়ও কমবে এবং উপকারও হবে।
কী ভাবে বানাবেন এই মিশ্রণ
একটা কাঁচের জারে কাঁচা রসুনের কোয়া রাখুন (যতগুলো পারেন)। তার উপর মধু ঢেলে (Organic Honey) বেশ করে ঝাঁকিয়ে নিন। জারের ঢাকনা লাগিয়ে কিছুক্ষণ রেখে দিন। এতে রসুনের উপাদান গুলো মধুতে বেশ ভাল ভাবে মিশে যাবে। বলা বাহুল্য, দু’জনের সখ্য তৈরি হবে।

প্রতিদিন সকালে খালি পেটে একটি করে রসুন ওই মিশ্রণ থেকে তুলে খেতে শুরু করেন। যদি মনে করেন একদিনেই ওজন কমবে তাহলে কিন্তু ভুল ভাবছেন। এটা খেয়ে যেতে হবে নিয়ম করে, সময় মতো। তবেই মিলবে দীর্ঘমেয়াদী ফল। অবশ্য সবুরে মেওয়া ফলে, এই প্রবাদ বাক্যটি বর্তমান প্রজন্ম প্রায় ভুলতেই বসেছে। চটজলদি ফল পাওয়ার জন্য অনেকেই নানা ধরণের ডায়েট চার্ট নেট থেকে বার করে শুরু করে দেন। ফলও হয় মারাত্মক। শেষে ডাক্তারের চেম্বারে ধর্ণা দিয়ে রেহাই মেলে।
তাই ডায়েট করুন তবে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়েই। তার আগে মধু-রসুনের এই কোর্স শুরু করতেই পারেন। এতে ফল হবে ম্যাজিকের মতো। তাহলে আর দেরি কেন, আজই শুরু করে দিন।