
জাইনাব নাসরাল্লা ও হিজবুল্লা প্রধান হাসান নাসরাল্লা
শেষ আপডেট: 28 September 2024 12:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হিজবুল্লা প্রধান হাসান নাসরাল্লার মেয়ে জাইনাব নাসরাল্লা শুক্রবার রাতে বেইরুটে ইজয়ায়েলি বিমান হানায় নিহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। ইজরায়েলি নিউজ চ্যানেল চ্যানেল টুয়েলভ হিজবুল্লা প্রধানের মেয়ের মৃত্যুর খবর দিয়েছে। যদিও হিজবুল্লা ও লেবানন সরকারের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে এই খবরের নিশ্চয়তা মেলেনি। হিজবুল্লার নীতি-আদর্শ, কার্যকলাপের সোচ্চার সমর্থক জাইনাব তাঁর পরিবারের আত্মত্যাগের জোরাল কণ্ঠে জাহির করে থাকেন। এর আগে ১৯৯৭ সালে তাঁর ভাই হাদি-র মৃত্যু হয়েছিল ইজরায়েলি বাহিনীর হাতে। জেরুজালেম পোস্ট জানাচ্ছে, সে সময়ও তিনি সেই হত্যাকাণ্ডের কঠোর সমালোচনা করেছিলেন।
তবে যে গতিতে হিজবুল্লা নিকেশে ইজরায়েল বৃষ্টির মতো গোলা ছুড়ে চলেছে বেইরুট লক্ষ্য করে, তাতে যদি হাসান-কন্যার সত্যি মৃত্যু হয়ে থাকে, তাহলে বদলার আগুনে নাসরাল্লা কী করেন, তা নিয়েই আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
কে জাইনাব নাসরাল্লা?
লেবাননি হিজবুল্লার সেক্রেটারি জেনারেল হাসান নাসরাল্লার মেয়ে জাইনাব। অত্যন্ত সাদাসিধে ও শান্ত-ধীরস্থির স্বভাবের হাসান-কন্যা। সোজাসাপটা অথচ কম কথা বলতে ভালোবাসেন। এক সাক্ষাৎকারে জাইনাব একবার বলেছিলেন, আমি বিবাহিত এবং লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছি। বাড়িতেই লেখাপড়ার পাট চুকিয়ে সরকারিভাবে হাইস্কুল পরীক্ষা দিয়েছি। এরপর আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হই। আমার লেখাপড়া বিষয়ে আমার স্বামী এবং মা খুব সাহায্য করেছেন। তাঁরাই আমার বাচ্চাদের দেখাশোনা করায় আমি পড়াশোনা শেষ করতে পারি।
তিনি আরও বলেছিলেন, ছোট থেকে না হলেও কিশোরী বয়স থেকে চারদিকে নিরাপত্তার ঘেরাটোপে থাকতে হয়েছে তাঁকে। বাবা যত কাজে জড়িয়ে পড়েছেন এবং সংগঠন বেড়েছে, ততই আমরা পদে পদে রক্ষীদের শৃঙ্খলে বাঁধা পড়ে যাই। ৩৩ দিনের যুদ্ধের পর নিরাপত্তা আরও বেড়ে যায়। বাবার সঙ্গে দেখা প্রায় বন্ধই হয়ে গেল।
লেবাননের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর পড়ার সময় ইসলামিক সায়েন্স নিয়েও পড়াশোনা শুরু করেন জাইনাব। এরপর ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয় আল মুস্তাফা ইন্টারন্যাশনালে ভর্তি হন, এখনও সেখানেই পড়ছিলেন তিনি। জাইনাব বলেন, আমি সবসময় একজন মুজাহিদকে বিয়ে করতে চাইতাম। সব শেষে আল্লার দোয়ায় তাই হয়েছে। আমার ভাই যখন মারা যায় আমার বয়স তখন মাত্র ১২ বছর। আমার মাও অন্য মুজাহিদিন মহিলার মতো স্বামীর দীর্ঘ অনুপস্থিতি মেনে নিয়ে আমাদের বড় করেছেন। সর্বস্ব ত্যাগ করে আমাকে লেখাপড়া শিখিয়েছেন। এইভাবেই তিনি জেহাদের কাজ করে গিয়েছেন।
জাইনাবের দাবি, আমরা বিশ্বাস করি একদিন না একদিন ইহুদিবাদী রাষ্ট্রের নিপাত হবেই। পবিত্র কোরানে সর্বশক্তিমান আল্লার এই ইচ্ছার কথাই আছে। যার অর্থ ইহুদিদের দখলি জমানার অবসান হবে। আমরা আল্লার কাছে সেই স্বপ্ন সত্যি হওয়ারই প্রার্থনা করে চলেছি, বলেছিলেন জাইনাব।