
ইউসুফ দিকেচ এবং ইলন মাস্ক
শেষ আপডেট: 29 August 2024 15:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তুরস্কের মিক্সড টিমের পুরুষ সদস্য ৫১ বছরের ইউসুফ দিকেচ অলিম্পিক্সে ১০ মিটার এয়ার পিস্তল শুটিং বিভাগে রুপো এনেছেন। তবে তাঁকে নিয়ে চর্চা শুধু মেডেল আনার জন্য হচ্ছে না। মেডেল তো অনেকেই আনছেন। কিন্তু কেউ ইউসুফ দিকেচ হতে পারেননি। তার কারণ সকলকেরই জানা। তিনিই এবার বিশ্বের অন্যতম ধনী ব্যক্তি ইলন মাস্ককে বড় প্রশ্ন ছুড়ে দিলেন।
কোনও বিশেষ চশমা বা কানে বাইরের শব্দ আটকানোর ইয়ারগার্ড না পরেই অলিম্পিক্সে মেডেল এনেছেন দিকেচ। শুটিং করার সময়ে তিনি পরেছিলেন একটি সাদা গেঞ্জি এবং তাঁর একটি হাত ছিল পকেটে! অলিম্পিক্স দূরে থাক, বিশ্বের কোনও প্রতিযোগিতায় কেউ এইভাবে অংশ নিয়ে মেডেল আনতে পারেননি। সেই অসাধ্য সাধন করেই কার্যত ইউসুফ এআই বা আর্টিফিসিয়াল ইন্টালিজেন্স নিয়ে প্রশ্ন ছুড়লেন। সেই কারণেই মাস্ককে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি।
এআই নির্ভর হয়ে পড়ছে দুনিয়া। বিভিন্ন ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে রোবটদের কাজে লাগানো হচ্ছে। আইটি সেক্টর থেকে শুরু করে অন্যান্য একাধিক অফিসের কাজে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাই প্রাধান্য পাচ্ছে ধীরে ধীরে। এই অবস্থায় অলিম্পিক্স পদক জয়ী ইউসুফ দিকেচ ইলন মাস্ককে আলোচনায় বসার প্রস্তাব দিলেন। এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লিখেছেন, ''তোমার কি মনে হয় ভবিষ্যতে পকেটে হাত দিয়ে রোবটরা অলিম্পিক্স মেডেল আনতে পারবে? কেমন হয় আমরা যদি এই নিয়ে বিশ্বের সাংস্কৃতিক রাজধানী ইস্তানবুলে একটা বৈঠক করি।'' দিকেচের এই প্রশ্নের জবাবও দিয়েছেন মাস্ক। তাঁর কথায়, রোবটরা প্রতিবার বুলসআই হিট করবে!
Hi Elon, do you think future robots can win medals at the Olympics with their hands in their pockets????????????? How about discussing this in Istanbul, the cultural capital that unites continents? @elonmusk pic.twitter.com/BR5iJmNOHD
— Yusuf Dikec (@yusufdikec) August 4, 2024
প্রসঙ্গত, 'ক্যাজুয়াল' হয়েই দিকেচ পিস্তল চালিয়ে তাঁর সঙ্গিনীর সঙ্গে প্যারিস অলিম্পিক্সে রুপোর পদক গলায় ঝুলিয়ে নিয়েছেন। শুধু ফাইনাল রাউন্ডেই নয়, দিকেচ শুরু থেকেই এভাবে পিস্তল চালিয়ে অনেক প্রতিযোগীকে পাশ কাটিয়ে এগিয়ে এসেছিলেন। তুরস্কের মধ্যবয়সি এই শুটারের এনিয়ে এটা পঞ্চম অলিম্পিক্স। ২০০৮ সালে বেজিং অলিম্পিক্সে তাঁর আত্মপ্রকাশ। তবে এই প্রথম তিনি পদক জয় করতে পেরেছেন।
গত কয়েক বছরে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার উল্কার বেগে বেড়েছে। সেগুলোর যথাযথ, নিয়ম ও নীতিনৈতিকতা মেনে ব্যবহার হচ্ছে কিনা, চাগাড় দিয়েছে সেইসব প্রশ্ন। এই প্রেক্ষিতে কিছুদিন আগেই ইলন মাস্ক নিজে দাবি করেছিলেন, সেই দিনটা আর বেশি দূরে নেই, যেদিন চাকরি 'অপশনাল' হয়ে যাবে। যদি আপনি এমন কোনও চাকরি করতে চান, যেটা আপনার শখের, তাহলে করতেই পারেন। কিন্তু যে কোনও জরুরি পরিষেবায় পণ্য বা সার্ভিস দুটোই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় প্রশিক্ষিত রোবটরা করে দিতে পারবে।