
ফাইল চিত্র
শেষ আপডেট: 30 April 2025 10:31
‘শি’জ (Chinese President Xi Jinping) বেবি!’ কথাটা মাঝমধ্যেই কানে আসছিল। মাঝবয়সি মহিলা ইংরিজি সামান্য বুঝতে পারেন। বলতে পারেন আরও কম। তাঁকেও এক-দু’বার বলতে শুনলাম কথাটি।
তাঁর চোখ-মুখের ভাষা বলে দিচ্ছিল, ভারতীয় সাংবাদিকদের কাছে পার্টি, সরকার এবং নিজের কথা তুলে ধরতে চান। বারে বারেই একটি নৌকা দেখিয়ে বলছিলেন, ‘এ রকমই একটিতে আমি জন্মেছি। এই তল্লাটে আমারই মতো কোটি কোটি মানুষ নৌকায় জন্মেছেন (born in boat) ।’ তারপর মুচকি হেসে যোগ করেছেন, ‘এই জীবনযাত্রা এখন অতীত। ওই যে ঘরবাড়ি দেখছেন, আমরা এখন ওইগুলিতে থাকি।’
মহিলার নাম ঝেং উয়ি (Zheng Yuee) । পদমর্যাদায় টাউনশিপ মেয়র। চিনে মেয়র পদটি বড় শহর বা সিটি, টাউনশিপ অর্থাৎ ছোট শহর এবং ভিলেজ বা গ্রাম প্রশাসনেও রয়েছে। ঝেংয়ের সঙ্গে কথা হচ্ছিল মফস্বল শহর জিয়ানবাইশির (Xianbaishi) সমুদ্র লাগোয়া গ্রাম জিয়াংকিতে (Xianqi)। চিনের দক্ষিণ-পূর্ব উপকুলে অবস্থিত ফুচিয়েন (Fujian) প্রদেশের নিংদে (Ningde) শহরের এক প্রান্তে জিয়াংবাইশি। কয়েক পা দূরে বয়ে চলেছে পূর্ব চিন সমুদ্র। সমুদ্রের নিংদে প্রান্তে দাঁড়িয়ে দেখলাম, ভাসমান ডিঙি নৌকার মতো অসংখ্য দ্বীপ। সেগুলির একটি তাইওয়ান (Taiwan)।
ঢিল ছোড়া দূরের যে বাড়িঘরগুলি দেখালেন ঝেং, সেগুলিকে সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত আবাস বলে ধরে নেওয়া কঠিন। কংক্রিটের তৈরি শক্তপোক্ত, সুসজ্জিত আবাসন। পরিবারের সদস্য সংখ্যা অনুযায়ী বরাদ্দ হয়েছে ঘর। গৃহ নির্মাণে সরকারের পাশাপাশি পরিবারগুলিও বিনিয়োগ করেছে। কাছে গিয়ে দেখলাম, বহু ঘরেই ফ্রিজ, এসি। মাথার উপর ছাদ, হাতে কাজ, দুই-ই দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। অনেকেই বাড়ির সামনে দোকান খুলেছেন। কেউ কেউ স্থানীয় বাজারে মাছের ব্যবসায় যুক্ত। কিন্তু কেউ আর জেলে বা মৎস্যজীবী (Fishermen) নন।
চিনের এই তল্লাটে মৎস্যজীবীদের একাংশ প্রজন্মের পর প্রজন্ম নৌকায় বাস করতেন। ডাঙার জীবনযাত্রার সঙ্গে তাদের যেন শত্রুতা ছিল। সমুদ্রের মাছ বেচে কোনওরকমে জীবন চলত তাদের। ছেলেমেয়ের পড়াশুনোর বালাই ছিল না। অসুখবিসুখ হলে বিনা চিকিৎসায় মৃত্যু ছিল ভবিতব্য। সেই দুঃসহ জীবন থেকে এই মৎস্যজীবী সম্প্রদায়ের মতো চিনের (Chaina) দশ কোটি (10 crores/100 million) মানুষকে মুক্ত করার সংকল্প ঘোষণা করেছিলেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট তথা কমিউনিস্ট (Chinese Communist Party-CPC) পার্টির সাধারণ সম্পাদক শি জিনপিং। সেটা ২০১২ সাল। দেশের এক লাখ ২৮ হাজার গ্রামের ১০ কোটি মানুষকে তখনও দারিদ্রমুক্ত করা সম্ভব হয়নি, ঘোষণা করে পার্টি।
‘সে বছর দেশের শীর্ষ পদে আসীন হয়ে পিছিয়ে পড়া এলাকার দারিদ্রমুক্তির মহাপরিকল্পনা ঘোষণার আগে থেকেই কমরেড শি এমন অসংখ্য গ্রামে দিনের পর দিন কাটিয়েছেন’, বলছিলেন চেন ঝিতাং (Chen Zhitang)। চিনা কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য এই প্রৌঢ় চাইনিজ পিপলস পলিটিক্যাল কনসালটেটিভ কমিটির (Chinese people political consultative committee) স্থানীয় শাখার ভাইস চেয়ারম্যান। তাঁর কথায়, ‘গোটা দেশকে দারিদ্রমুক্ত করতে প্রেসিডেন্ট শি’র মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে আমার মতো লক্ষাধিক কমরেডকে দায়িত্ব দিয়েছিল কমিউনিস্ট পার্টি।’
ফুচিয়েনের জিয়াংকি, হুনান (Hunan province) প্রদেশের শিবাদংয়ের (Shibadong village) মতো গ্রামে স্থানীয়দের সঙ্গে যুবা বয়সের শি’র দিনযাপনের ছবি ছড়িয়ে দারিদ্রমুক্ত গ্রামগুলির প্রদর্শশালায়। সেখানে সযত্নে ধরা আছে জীবনযাত্রা কেমন ছিল আর কীভাবে পাল্টে গিয়েছে। শুধু বিদেশি সাংবাদিকরেরাই নন, দেশের ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক, সাধারণ মানুষের সামনেও তুলে ধরা হচ্ছে গ্রামের বদলে যাওয়া জীবনের খণ্ডচিত্র।
চিনের পঞ্চম বৃহত্তম প্রদেশ হুনান অর্থনৈতিকভাবে বেশ সমৃদ্ধ। রাজধানী ছাঙশার সঙ্গে এক পলকে বেজিং, সাংহাইয়ের ফারাক তেমন একটা নেই। তুংথিং হ্রদ আর ইয়াংসে নদী ঘেরা এই প্রদেশের বহু মানুষ একটা সময় জীবিকার সন্ধানে দেশ ছাড়েন। কলকাতার ট্যাংরার চায়না টাউন (Chaina town in Kolkata) এবং টেরিটি বাজার, যা পুরনো চায়না টাউন নামেও পরিচিত, সেখানকার চিনাদের পূর্ব পুরুষেরা হুনানের আদি বাসিন্দা। পশ্চিমবঙ্গে শিল্প বিকাশে ঠিক দু-দশক আগে ফিকি (FICCI) ও ক্যালকাটা চেম্বার অফ কমার্সের (Calcutta Chamber of Commerce) আমন্ত্রণে হুনানের তৎকালীন গভর্নর চৌ বহরা কলকাতায় এসেছিলেন। আর বর্তমান গভর্নর দিন কয়েক আগে বাংলাদেশ সফর করেছেন। উদ্দেশ্য হুনানের বিনিয়োগকারীদের জন্য বিনিয়োগের পথ প্রশস্ত করা। আজকের হুনান থেকে মানুষ নয় বিদেশে পা রাখতে আগ্রহী শিল্প সংস্থা।
চিনের উন্নয়নে রোল মডেল হয়ে ওঠা সেই হুনানেই প্রদীপের নীচে অন্ধকার হয়ে ছিল ফেংহুয়াংয়ের (Fenghuang) শিবাদং গ্রাম। ২০২০-র মাঝামাঝি নাগাদ শি ঘোষণা করেন, চিন চরম দারিদ্রমুক্ত পুরোপুরি। সে বছরই শতবর্ষে পা দেয় চিনের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিসি)। বলাইবাহুল্য পার্টির শতবর্ষকে বিবেচনায় রেখে চরম দারিদ্রমুক্তির লক্ষ্যমাত্রা স্থির করা হয়েছিল। রাষ্ট্রসংঘ বিশ্বব্যাপী টেকসই উন্নয়নে লক্ষ্যমাত্রা স্থির করেছে ২০৩০। চিনের দাবি, তারা দশ বছর আগেই সেই লক্ষ্যপূরণ করে ফেলেছে।
হুনানের শিবাদং গ্রামে আমরা ভারতীয় সাংবাদিকেরা যাওয়ার দিনেই চিনের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলেমেয়েরা এসেছিল স্থানীয়দের মুখ থেকে দিন বদলের গল্প শুনতে। লেখার শুরুতে যে কথা বলছিলাম, চিনের এই সব গ্রামকে সরকার, পার্টির কর্তা থেকে স্থানীয় মানুষ ‘শি’জ বেবি’ অর্থাৎ প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং লালিত সন্তান বলে থাকেন। তাঁরা আরও বলছেন, প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং লালিত পালিত এই সব গ্রাম শুধু দারিদ্র মুক্তই নয়, এখন রীতিমতো সুস্থ-সবল।
চিনা কমিউনিস্ট পার্টি শিবাদং, জিয়াংকির মতো গ্রামগুলির ভোলবদলতে ‘উন্নয়নের বিস্ময়’ বলছে এবং পুরো কৃতিত্ব দিচ্ছে পার্টির শীর্ষ নেতা তথা দেশের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে। যেমন শিবাদংয়ের ভোলবদল নিয়ে সরকারি নথিপত্রে লেখা হয়েছে, ২০১৩-র ৩ নভেম্বর প্রেসিডেন্ট শি’র গ্রাম সফরের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছিল নতুন পথে যাত্রা। তিনি এলাকার বাস্তবতা বিবেচনায় রেখে উন্নয়নের পথে অগ্রসর হওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। চিনা কমিউনিস্ট পার্টি জানাচ্ছে, ২০১২-তে প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর শি অন্তত ৫০টি গ্রামে গিয়ে স্থানীয়দের মুখ থেকে সমস্যার কথা শুনেছেন, দারিদ্রমুক্তির দিশা দিয়েছেন।
পশ্চিমা উন্নয়ন বিশেষজ্ঞদের অনেকেই অবশ্য প্রেসিডেন্ট শি তথা চিন সরকারের দাবি মানতে নারাজ। তাঁদের বক্তব্য, বিশ্বব্যাঙ্ক নির্ধারিত দারিদ্রের মানদণ্ড থেকে চিনের হিসাবপত্র আলাদা। জীবনযাত্রার আন্তর্জাতিক মান কমিয়ে উন্নয়ন দাবি করেছে চিন। অন্যদিকে, এই অভিযোগ মানতে নারাজ বেজিং। তাদের বক্তব্য, দেশিয় বাস্তবতাকে বাদ দিয়ে দারিদ্র নির্ধারণ অবাস্তব ভাবনা এবং চিনের জীবনযাত্রার মানদণ্ড পশ্চিমি দুনিয়ার তুলনায় যথেষ্ট বৈজ্ঞানিক ও উন্নত।
শুধু তাই নয়, সমালোচকদের উদ্দেশে বেজিংয়ের কর্তারা ২০২১-এ ‘দারিদ্র দূরীকরণ: চিনের অভিজ্ঞতা ও অবদান’ শীর্ষক শ্বেতপত্র প্রকাশ করে দারিদ্রমুক্তির খুঁটিনাটি জানিয়েছে। চিন মনে করে, দারিদ্রমুক্তির এই কর্মসূচি থেকে বাকি বিশ্বের শিক্ষা নেওয়ার আছে। চার বছর আগে শ্বেতপত্র প্রকাশের দিনে সিপিসি বলে, ‘গরিবির বিরুদ্ধে বিজয় নিশ্চিত করার চূড়ান্ত যুদ্ধে দারিদ্র্য বিমোচনের কৌশল হল চিনের সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র এবং তত্ত্ব ও বাস্তবের মাটিতে তার অনুশীলনে একটি নব উদ্ভাবন।’
দারিদ্রের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের এই যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০১২-য় অনুষ্ঠিত সিপিসি’র ১৮ তম কংগ্রেস থেকে। পার্টির কথায়, সিপিসি দারিদ্র্য দূরীকরণকে তাদের কর্মসূচির একটি মূল উপাদান বিবেচনা করে এবং এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য পার্টি দেশের সমস্ত প্রচেষ্টাকে একত্রিত করেছে। ২০১২ থেকে ২০২০—মাত্র আট বছরে দারিদ্রমুক্তির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনকে কমিউনিস্ট পার্টির ভাবধারায় পরিচালিত চিনা দৈনিক ‘গ্লোবাল টাইসম’ ‘এ মিরাকল ইন হিউম্যান হিস্ট্রি’ অর্থাৎ ‘মানব ইতিহাসে অলৌকিক ঘটনা’ বলে বর্ণনা করেছে।
সময়কাল বলে দিচ্ছে, লক্ষ্যমাত্রা পূরণের শেষ লগ্নে করোনা মহামারীর মুখোমুখি হতে হয়েছে। চিনকেই তখন সেই মারণ অসুখের সুতিকাগার বলে চিহ্নিত করে দোষারোপ করে পশ্চিমী বিশ্ব। শ্বেতপত্রে সিপিসি জানিয়েছে, দারিদ্রমুক্তির মহাপ্রকল্পে প্রাণ বিসর্জন দিয়েছেন পার্টির ১৮০০ কমরেড। ধরে নেওয়া যায় তাঁদের অনেকেই করোনার কাছে হার মানতে হয়েছে। শ্বেতপত্রে অসুস্থতা ছাড়াও দুর্ঘটনা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের উল্লেখ করা হয়েছে।
আট বছরে যে ১০ কোটি মানুষের দারিদ্রমুক্তির দাবি করছে চিন তাদের মধ্যে ২৮টি প্রাচীন জনজাতির মানুষ আছেন। শিবাদং গ্রামটিতে যেমন মিয়াও সম্প্রদায়ের বাস। বাড়িঘর দেখেও বোঝা যায়, বেশ পুরনো বসতি। দিন বদলের ছবি স্পষ্ট হয় বাড়ির রংয়ে। গ্রামেই আছে গ্রামবাসীদের তৈরি নানা শিল্পসামগ্রী বিক্রির দোকান।
আসলে ১৯৪৯-এ কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্বে গণপ্রজাতন্ত্রী চিনের যাত্রা শুরুর পর থেকেই দারিদ্র দূরীকরণ ছিল সিপিসি-র অন্যতম লক্ষ। গত শতকে সত্তরের দশকের শেষলগ্ন অর্থাৎ মাও জে দংয়ের সময় পর্যন্ত দেশের অর্ধেক নাগরিকের দারিদ্র মুক্তি সম্ভব হয়। পরবর্তীতে সিপিসি স্বীকার করে আরও অগ্রগতি হতে পারত। সমালোচকদের মতে, তা সম্ভব হয়নি চেয়ারম্যান মাও’য়ের অতিবিপ্লবী কর্মসূচিজনিত অস্থিরতার কারণে। দেং জিয়াও পিংয়ের হাত ধরে অর্থনীতির চাকা ঘুরতে শুরু করে। বিদেশি পুঁজি-প্রযুক্তির জন্য চিনের দুয়ার অনেকটাই উন্মুক্ত করে দেন তিনি। জিডিপি বা গড় অভ্যন্তরীণ উন্নয়নে জোয়ার আসে। তারপর থেকে চিনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ছিল চিনের প্রাচীর অর্থাৎ গ্রেট ওয়াল-এর মতোই আশ্চর্যজনক।
উন্নয়নের সেই ধারাবাহিকতা থেকে এক লাখ ২৮ হাজার গ্রাম পিছিয়ে পড়ল কেন? চিনের কর্তারা বলছেন, এই গ্রামগুলির বেশিরভাগই প্রত্যন্ত এলাকায় অবস্থিত। মূলত যোগাযোগ ব্যবস্থার অভাবে সরকারি সুযোগ-সুবিধা সর্বত্র পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়নি।
শিবাদংয়ের ২২৫টি পরিবারের মোট সদস্য ৯৩৯। হুনানের হুয়াউয়ান জেলার উলুং পাহাড়ের কোলে অবস্থিত ছোট্ট এই গ্রামের মোট চাষ যোগ্য জমির পরিমাণ মাত্র ৫৪ হেক্টর। অর্থাৎ পরিবার পিছু এক বিঘাও নয়। চিনা প্রশাসনের দাবি, বর্তমানে ‘উন্নয়নের মডেল’ হিসাবে চিহ্নিত গ্রামটিতে ১৩ বছর আগে শি’র সফরের সময় ৫৭ শতাংশ পরিবারই ছিল হতদরিদ্র। গ্রামে মাথাপিছু বছরে আয় ছিল ১৬৬৮ উয়ান (চিনা মুদ্রা)। যেখানে জাতীয় গড় ছিল ৬০৭৯ উয়ান। সরকারি কর্তারা দাবি করছেন, পাঁচ বছর আগে অর্থাৎ আট বছরের মাথায় শিবাদংয়ের মানুষের মাথাপিছু আয় বেড়ে হয়েছে ২০ হাজার ১৬৭ উয়ান। চিনা কর্তারা জানাচ্ছেন, এই অবিশ্বাস্য অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে ফসলের উৎপাদন চারগুণ বাড়িয়ে। পার্টি ও সরকারি আধিকারিকেরা গ্রামে পড়ে থেকে এই পরিবতন সাধন করেছেন।
নৌকায় ঘর-সংসার এখন অতীত।
শিবাদংয়ে আমাদের মধ্যাহ্ন ভোজনের ব্যবস্থা হয়েছিল গ্রামের এক বাড়িতে। জিয়াংকিতে স্থানীয় কমিউনিটি হলের ঝকঝকে ব্যাঙ্কয়েটে। দু’জায়গাতেই আপ্যায়নের দায়িত্বে ছিলেন স্থানীয় মহিলারা। ভারতের স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মতো চিনের এই এলাকার মহিলারা হোম স্টে, বাড়ি বাড়ি খাবার সরবরাহের মতো ছোটখাটো ব্যবসা খুলেছেন। চিনে অবশ্য সাততারা হোটেল থেকে সাধারণ রেঁস্তরা, দোকান-বাজার-অফিসকাছারি থেকে সংবাদমাধ্যম, সর্বত্র নারীর উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো।