
আয়াতুল্লা আলি খামেইনি
শেষ আপডেট: 19 December 2024 14:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইরানে আপাতত লাগু হচ্ছে না বিতর্কিত হিজাব আইন। এরই মধ্যে সে দেশের শীর্ষ নেতা আয়াতুল্লা আলি খামেইনির এক মন্তব্য অনেকের কাছে 'ভূতের মুখে রামনাম'-এর মতো শোনাচ্ছে। তিনি সম্প্রতি একটি পোস্ট করে বলেছেন, 'মেয়েরা ফুলের মতো...'। কেন এই পোস্ট করেছেন তিনি তা অনেকেরই বোধগম্য হচ্ছে না।
ইরানে প্রকাশ্যে মহিলাদের মঞ্চ উপস্থাপনা নিষিদ্ধ। হিজাব ছাড়া প্রকাশ্যে বেরনো নিষিদ্ধ। বর্তমানে বিতর্কিত হিজাব আইন নিয়ে প্রতিবাদে সরব সে দেশের অসংখ্য মহিলারা। মূলত ২০২২ সালে তরুণী মাহসা আমিনির মৃত্যুর ঘটনার পর থেকেই উত্তাল হয়েছে ইরান। এখনও প্রতিদিন দেশের নানা প্রান্তে বিক্ষোভে অনড় রয়েছে বহু মহিলা। তারই মধ্যে খামেইনির এই পোস্ট জল্পনা বৃদ্ধি করেছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লিখেছেন, ''মেয়েরা ফুলের মতো, তাঁরা গৃহপরিচারিকা নন। ঘরে ঘরে একটি ফুলের মতোই মহিলাদের সঙ্গে ব্যবহার করা উচিত। ফুলের যেমন যত্নের প্রয়োজন, তেমনই যত্ন করা উচিত। ফুলের সতেজতা এবং মিষ্টি গন্ধে অন্যরা যেমন উপকৃত হন, বাতাসও সুগন্ধিময় হয়ে ওঠে।'' তাহলে কি হিজাব বিরোধী প্রতিবাদ ও আন্তর্জাতিক মহলের চাপেই কি বিতর্কিত আইন থেকে পুরোপুরি পিছু হঠছে ইরানের প্রশাসন, খামেইনির পোস্ট দেখে প্রশ্ন জেগেছে অনেকের মনে।

হিজাব নিয়ে যে প্রতিবাদ চলছে তা দমন করতে আরও কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভেবেছে ইরান প্রশাসন। যে মহিলারা হিজাব পরতে চাইবেন না, তাঁদের জন্য বিশেষ ক্লিনিক তৈরি করা হচ্ছে। তাঁদের 'মানসিক চিকিৎসা' করাবে সরকার! ইতিমধ্যে এই বিষয়টি সম্পর্কে জানিয়েছে ইরানের নারী ও পরিবারকল্যাণ দফতর।
ইরান প্রশাসনের বক্তব্য, কেন মহিলারা হিজাব পরতে চাইছেন না তা বোঝার জন্য মনস্তাত্ত্বিক চিকিৎসা করা হবে। ওই সব ক্লিনিকে কাউন্সিলিং করার ব্যবস্থাও রাখা হবে। তবে দেশের প্রতিবাদী নারীদের সাফ বক্তব্য, মানসিক নির্যাতন করে হিজাব পরতে বাধ্য করার জন্যই এগুলি খোলা হচ্ছে। যে নিয়মের কথা বলা হয়েছে তা জোর করে মহিলাদের ওপর চাপিয়ে দিতে এই ক্লিনিক খোলা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছে অধিকাংশই। তাঁদের মত, এগুলি কোনও ক্লিনিক না চিকিৎসাকেন্দ্র নয়, একপ্রকার জেল। সেখানে বন্দি করে আদতে মগজধোলাইয়ের চেষ্টা করবে ইরান প্রশাসন।