
প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 18 November 2024 18:53
দ্য ওয়াল ব্যুরো: যে থালায় খাওয়া সেই থালাতেই ফুটো! কিছুটা এমন কাজ করেই জেলে যেতে হল এক মহিলাকে। তাও এক-দু বছরের জন্য নয়, ২৩৫ বছরের জন্য! সোনার গয়না চুরির অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। সেটাও অবশ্য এক-দুবার করেননি। চুরি করেছেন ৪৭ বার।
উত্তর-পূর্ব থাইল্যান্ডের খোন কাইন এলাকার একটি সোনার দোকানের ঘটনা এটি। ধৃত মহিলা ওই দোকানেই একসময়ে কাজ করতেন। বেশ কিছুদিন ধরেই দোকানের মালিক বুঝতে পারছিলেন যে, বেশ কয়েকটি করে সোনার গয়না কমে যাচ্ছে। সন্দেহ বাড়তে থাকায় তিনি প্রতিদিন নিয়ম করে সিসিটিভি ক্যামেরা খতিয়ে দেখা শুরু করেন। ব্যস। হাতেনাতে ধরা পড়ে যান ওই মহিলা কর্মী।
দোকানের মালিক সিসিটিভি ফুটেজ দেখেই জানতে পারেন, সোমজিৎ খুমদুয়াং নামের ওই মহিলা ২০২১ সাল থেকেই গয়না চুরি করে আসছেন। অন্তত ৪৭ বার গয়না চুরি করেছেন তিনি এতদিন মাসে। ফুটেজ দেখার পাশাপাশি মহিলাই যে চুরি করছেন তা একটি ঘটনার পর নিশ্চিত হয়ে যান দোকানের মালিক। একদিন ওই কর্মীর জামার ভিতর থেকে একটি সোনার হার পড়ে গেছিল। সাফাই দিয়ে মহিলা বলেছিলেন, ভুল করে হয়তো তাঁর জামায় আটকে গিয়ে সেটি পড়েছে। কিন্তু দোকানের মালিক যা বোঝার বুঝে গেছিলেন।
পুলিশে অভিযোগ জানানোর পরই ওই মহিলা কর্মী গ্রেফতার হন। দোকানের মালিকের দাবি, কমপক্ষে ৬ কোটি টাকার গয়না চুরি করেছেন তিনি। পুলিশি তদন্তেও উঠে এসেছে, বিগত কয়েক মাসে জমি থেকে শুরু করে নতুন বাইক এবং একাধিক সোনা-হিরের গয়না কিনেছেন তিনি। শুধু তাই নয়, সেগুলি ছবি সোশ্যাল মিডিয়াতেও পোস্ট করেছেন। জানা গেছে, যে দোকান থেকে মহিলা চুরি করেছেন সেখানে তিনি ১০ বছর ধরে কাজ করছিলেন।
দোকানের মালিক জানান, মহিলাকে হাতেনাতে ধরার পর তিনি তাঁকে চুরির জিনিস ফেরত দিয়ে দিতে বলেছিলেন। তা দিলে হয়তো তিনি তাঁকে পুলিশের হাতে তুলে দিতেন না। কিন্তু এমনটা ওই মহিলা করেননি। তাই বাধ্য হয়ে তিনি পুলিশ ডাকেন। পুলিশকে ওই মহিলা ১ কোটি টাকার সামগ্রী ফেরত দিতে পেরেছেন। তবে আদালত আশ্চর্যজনকভাবে তাঁকে ২৩৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে।