
তাইল্যান্ডের এই ঘটনায় হতবাক চিকিৎসকরা।
শেষ আপডেট: 9 May 2024 17:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নাক বন্ধ, শ্বাসকষ্ট। যেমন সর্দি হলে হয় আরকি। প্রথমে পাত্তা দেননি বছর ষাটের মহিলা। কিন্তু ক্রমশই যন্ত্রণা বাড়ছে দেখে শেষে ডাক্তারের শরণাপন্ন হন তিনি। কিন্তু নাকের ভেতরটা পরীক্ষা করতেই তো ডাক্তারের চক্ষু চড়কগাছ!
ঘটনা তাইল্যান্ডের। উত্তর দিকের পাহাড় জঙ্গলে ঘেরা চিয়াং মাই প্রদেশের এক মহিলা প্রথম তীব্র নাকে ব্যথা অনুভব করেন। প্রথমে ভেবেছিলেন সর্দিকাশি। বহুদিন ধরেও সেসব না কমায় মনে করেন, হয়ত বাড়তে থাকা দূষণ থেকেই এসব কমছে না। কিন্তু পরে খেয়াল করেন, নাক থেকে অদ্ভুত-দর্শন কিছু পোকা বেরিয়ে আসছে। কালবিলম্ব না করে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে। এক্স-রে করে ডাক্তাররা দেখেন, ভেতরে কোনও অস্বাভাবিক বস্তু রয়েছে। পরে খতিয়ে দেখতেই বোঝা যায়, নাকের ভেতরে ভরে রয়েছে এক ঝাঁক খুদে খুদে কীটজাতীয় পোকা বা 'ম্যাগট'।
যুদ্ধকালীন তৎপরতায় মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করে মহিলার চিকিৎসা শুরু করেন ডাক্তাররা। করা হয় এন্ডোস্কপি। অস্ত্রোপচার করে একে একে প্রায় একশোটির বেশি কীটকে বের করা হয় নাক থেকে। ডাক্তাররা বলেন, দেরি হলে বড় বিপদ হতে পারত। ওই পোকাগুলো অত্যন্ত সংক্রামক। ক্রমশ নাকের কোষ-কলা বেয়ে ছড়িয়ে পড়তে পারে চোখে, কানে, এমনকি মস্তিষ্কেও। এমনকি সংক্রমণের পরে মাইয়াসিসও হতে পারে। এতে ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে চোখ। সাধারণত মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকা ও ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জে এরকম কীটের আক্রমণ দেখা যায়। তাইল্যান্ডে এমনটা বিরল।
সাধারণত জঙ্গলে বেড়াতে গেলে এমন পোকামাকড় থেকে সাবধান হতে বলেন ডাক্তাররা। গরমের শেষে বর্ষার মরসুম এলেই পোকামাকড়ের উপদ্রব বাড়ে। তখন জঙ্গলে গেলেও অজানা কীটের সংক্রমণের ঘটনা ঘটতে পারে।আগাম সাবধানতা রাখাই ভাল।