
শেষ আপডেট: 4 January 2024 14:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দোষী সাব্যস্ত হওয়া যৌন অপরাধী জেফ্রি এডওয়ার্ড এপস্টিনের সঙ্গে বিল ক্লিনটনের যোগাযোগ ছিল? যৌনদাসী কেনাবেচা মামলায় নাম জড়িয়েছিল মার্কিন ধনকুবের জেফ্রির। মৃত্যুর পরেও বিতর্ক তার পিছু ছাড়ছে না। সম্প্রতি এই যৌনদাসী কেনাবেচা মামলায় আদালতে যে রিপোর্ট জমা পড়েছে তাতে ১৭০ জনের নাম উঠে এসেছে যাদের সঙ্গে জেফ্রির যোগাযোগ ছিল। এই নামের তালিকা দেখলে ভিরমি খেতে হয়। কারণ বিশ্বের তাবড় প্রভাবশালীদের নাম রয়েছে ওই তালিকায়। তার মধ্যে রয়েছে আমেরিকার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিন্টন, ডোনাল্ড ট্রাম্প, ব্রিটেনের যুবরাজ প্রিন্স অ্যান্ড্রু এমনকী প্রয়াত বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিংয়ের নামও।
জেফ্রির সঙ্গে বিল গেটসের যোগাযোগ নিয়েও একসময় তোলপাড় হয়েছিল। শোনা যায়, দোষী সাব্যস্ত হওয়া যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টিনের সঙ্গে যোগাযোগ থাকার কারণেই নাকি বিল গেটসের সঙ্গে সম্পর্ক ভাঙার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন মেলিন্ডা।
একাধিক নাবালিকার যৌন হেনস্থায় অভিযুক্ত ছিলেন মার্কিন ধনকুবের জেফ্রি এডওয়ার্ড এপস্টিন। তাঁর বিরুদ্ধে কমপক্ষে ৪০ জন মহিলা হেনস্থার অভিযোগ আনেন। শেষ জীবনে জেলে বন্দি ছিলেন জেফ্রি। ২০১৯ সালে ৬৬ বছর বয়সে জেলেই তাঁর মৃত্যু হয়। শোনা যায়, বিল ক্লিন্টন থেকে শুরু করে ডোনাল্ড ট্রাম্প, বহু মার্কিন রাজনীতিকের নির্বাচনী প্রচারে অর্থ ঢেলেছিলেন তিনি।
যৌনদাসী কেনাবেচা নিয়ে জেফ্রি এপস্টিনকে ঘিরে যে বিতর্ক, তাতে তাঁর বান্ধবী তথা সঙ্গিনী গিলেন ম্যাক্সওয়েলেও দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। প্রভাবশালী ব্যক্তিদের যৌনদাসী সরবরাহে জেফ্রির সহযোগী ছিলেন তাঁর এই বান্ধবী। শোনা যায়, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিন্টনের সঙ্গেও নাকি যোগাযোগ ছিল জেফ্রির। ক্লিন্টনকে যৌনদাসী সরবরাহ করতেন জেফ্রি, এমন অভিযোগও রয়েছে। তদন্তের রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, নাবালিকা মেয়ে নাকি পছন্দ ছিল ক্লিন্টনের। জেফ্রি তাঁর প্রাইভেট জেটে করে ক্লিন্টন-সহ অনেক প্রভাবশালীকেই নিয়ে যেতেন তাঁর ব্যক্তিগত মালিকানাধীন দ্বীপে। সেখানে আমোদ-আহ্লাদ, ফূর্তি চলত। আমেরিকার আর এক প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গেও জেফ্রির ভালরকম ঘনিষ্ঠতার কথা উঠে এসেছে তদন্তের রিপোর্টে। জেফ্রির নির্জন দ্বীপে ট্রাম্পের আনাগোনা ছিল কিনা, তা অবশ্য স্পষ্ট করা নেই রিপোর্টে।
হাজার পাতার ওই রিপোর্টে ব্রিটেনের যুবরাজ অ্যান্ড্রুর নামও আছে। কিছুদিন আগেই ভার্জিনিয়া জিফ্রে নামে এক মহিলা টিভি চ্যানেলে জেফ্রি ও তাঁর দ্বীপে যৌনদাসী কেনাবেচা নিয়ে বিস্ফোরক সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন। ভার্জিনিয়া এখন তিন সন্তানের মা। তিনি অভিযোগ করেছিলেন, তিনি যখন বছর সতেরোর কিশোরী, তখন রাজকুমার অ্যান্ড্রু তাঁকে যৌন সম্পর্কস্থাপনে বাধ্য করেছিলেন। রাজকুমার অবশ্য এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন। ভার্জিনিয়া জানান, এপস্টিনের প্রেমিকা গিলেন ম্যাক্সওয়েলের লন্ডনের বাড়িতে তাঁকে দু’দিনের জন্য নিয়ে গিয়েছিলেন এপস্টিন আর ম্যাক্সওয়েল। এর পরে ভার্জিনিয়ার দাবি, রাজকুমার অ্যান্ড্রুর সঙ্গে নাচার জন্য বলা হয়েছিল তাঁকে। তারপর জোর করে রাজকুমার তাঁকে সঙ্গমে বাধ্য করেন। ওই দিনের পরে ডিউকের সঙ্গে তাঁর তিন বার যৌন সম্পর্ক হয়েছিল বলে জানিয়েছেন ভার্জিনিয়া। এক বার লন্ডনে, এক বার নিউ ইয়র্কে এবং আরও এক বার ক্যারিবীয় দ্বীপে এপস্টিনের আর এক বাড়িতে।
নাবালিকাদের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক, নারী পাচার ও নারীঘটিত অন্যান্য একাধিক মামলায় অভিযুক্ত ৬৬ বছরের জেফ্রি গত অগস্টে জেলবন্দি অবস্থাতেই আত্মহত্যা করেন। গত তিন মাসে জেফ্রির বিপুল সম্পত্তির অধিকার ও ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়ে অন্তত ডজন খানেক মহিলা তাঁর বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ তুলেছেন।