ইজরায়েলের আমেরিকায় নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত ইয়েখিয়েল লেইটার জানিয়েছেন, নিহত দু'জন প্রেমিক যুগল ছিলেন এবং কিছুদিন পরই তাঁদের এনগেজমেন্ট ছিল।

ইয়ারোন ও জারাহ
শেষ আপডেট: 23 May 2025 14:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইহুদি বিদ্বেষ! ওয়াশিংটনের (Washington) রাস্তায় ইজরায়েলি দূতাবাসের (Israeli embassy) দুই কর্মীকে বুধবার গুলি করে খুন করল দুষ্কৃতীরা। ওয়াশিংটন পুলিশ জানিয়েছে, ইহুদি জাদুঘরের একটি অনুষ্ঠান দেখে ফেরার পথে দূতাবাসের কর্মী ইয়ারোন ও সারাহ-কে হত্যা করা হয়। অনুষ্ঠানটি মূলত গাজার মানুষের জন্য কীভাবে জোটবদ্ধ হয়ে কাজ করা যায়, তার ওপর ছিল।
ঘটনার রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক তাৎপর্য রয়েছে। এনিয়ে মন্তব্য করেছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও। তবে, এরই মাঝে উঠে এসেছে করুণ এক কাহিনি। ইজরায়েলের আমেরিকায় নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত ইয়েখিয়েল লেইটার জানিয়েছেন, নিহত দু'জন প্রেমিক যুগল ছিলেন এবং কিছুদিন পরই তাঁদের এনগেজমেন্ট ছিল। আগামী সপ্তাহে প্রিয়জনকে বিয়ের প্রস্তাব দিতে আগাম একটি রিং-ও কিনেছিলেন ইয়ারোন।
রাষ্ট্রদূতের কথায়, 'ছেলেটি এই সপ্তাহেই একটি আংটি কিনেছিল প্রেমিকাকে পরানোর জন্য। আগামী সপ্তাহে জেরুজালেমে বিয়ের প্রস্তাব দিতেন। দারুণ সম্পর্ক ছিল তাঁদের।'
ইজরায়েলি দূতাবাসের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে এই হামলার নিন্দা জানানো হয়েছে এবং নিহত দুই কর্মীর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে তারা। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, 'ইয়ারোন ও সারাহ আমাদের বন্ধু এবং সহকর্মী ছিলেন। তাঁরা জীবনের সেরা সময় কাটাচ্ছিলেন একসঙ্গে। এই ঘটনায় দূতাবাসের পুরো কর্মী সংগঠন আজ শোকস্তব্ধ ও মর্মাহত। শোক প্রকাশের কোনও ভাষা আমাদের কাছে নেই। পরিবারের পাশে আমরা আছি এবং আগামিদিনেও থাকব।'
ইজরায়েলের এক কর্মকর্তা এটিকে ‘বিকৃত, ঘৃণাভিত্তিক ইহুদিবিরোধী সন্ত্রাসবাদী হামলা’ বলে বর্ণনা করেছেন। ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে ৩০ বছর বয়সি শিকাগোর বাসিন্দা এলিয়াস রদ্রিগেজকে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, গ্রেফতারের সময় সে চিৎকার করে, 'ফ্রি, ফ্রি প্যালেস্টাইন' বলছিল।
ওয়াশিংটন পুলিশের প্রধান পামেলা স্মিথ জানান, তাঁরা বিশ্বাস করেন এই হামলা এককভাবে একজন বন্দুকধারীর নয়। ঘটনার আগে সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে মিউজিয়ামের সামনে পায়চারি করতে দেখা গেছে। এরপর সে আরও চারজনকে নিয়ে একটি দল বানিয়ে গুলি করতে এগিয়ে যায়। হ্যান্ডগান বের করে গুলি চালায়। ফের মিউজিয়ামের ভিতরে ঢুকে পড়ে, সেখানেই নিরাপত্তারক্ষীরা তাকে আটক করে।'
এদিকে বুধবার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছনোর পর ইয়ারোন ও সারাহকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করেন। কিন্তু বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
এই ঘটনা সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার পর ভাইরাল হয়। দ্রুত প্রতিক্রিয়া দিতে শুরু করেন নেটিজেনরা। অনেকেই বলছেন, 'এই ঘটনা নিয়ে কথা বলার মতো ভাষাও নেই।' অনেকে আবার বলছেন, 'রাজায় রাজায় যুদ্ধ হয় উলুখাগড়ার প্রাণ যায়।'