
ফাইল চিত্র
শেষ আপডেট: 20 March 2024 23:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভ্লাদিমির পুতিন ফের রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁকে শুভেচ্ছা জানাতে ফোন করেছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তবে শুধু পুতিনকে নয়, মোদীর ফোন গেছিল ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির কাছেও। সূত্রের খবর, তাঁরা দুজনেই নরেন্দ্র মোদীকে তাঁদের দেশে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। দুজনে চান, লোকসভা ভোটের পরেই মোদী তাঁদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করুন।
রাশিয়া এবং ইউক্রেন যুদ্ধের আবহে ভারত নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রেখেছিল। রাশিয়ার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপুঞ্জে আমেরিকা-সহ পশ্চিমী দেশগুলি প্রস্তাব আনলেও ভারতে সেই ভোটাভুটিতে অংশ নেয়নি। নয়াদিল্লির তরফে বারংবার আলোচনার বার্তা দেওয়া হয়েছিল দুই পক্ষকে। প্রধানমন্ত্রী মোদী স্বয়ং মন্তব্য করেছিলেন, ঠান্ডা মাথায় আলোচনা করেই সমস্যা সমাধান করা যায়। যদিও দুই দেশের যুদ্ধ থেমে যায়নি। বর্তমানেও যে পরিস্থিতি খুব সুখকর এমনটা নয়। তবে ভারত শান্তির বার্তা এখনও দিয়ে চলেছে।
প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয়ের সূত্রের খবর, সম্প্রতি দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মোদীর কথাতেও উঠে এসেছে শান্তির কথা। ভারত যে দুই দেশের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় অনড় সে কথা মেনেছেন দুই রাষ্ট্রপ্রধানও। প্রসঙ্গত, গত বছরের মে মাসে জাপানে জি-৭ শীর্ষবৈঠকের সময় মোদী-জেলেনস্কি বৈঠক হয়েছিল। অন্যদিকে, ২০১৮ সালে শেষবার রাশিয়া সফরে গিয়েছিলেন মোদী। তবে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে উজবেকিস্তানে শাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশনের বৈঠকের ফাঁকে পুতিনের সঙ্গে শেষবার মুখোমুখি বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী।
দু'বছর পেরিয়ে গেলেও যুদ্ধ আবহ বজায় রয়েছে ইউক্রেন এবং রাশিয়ার মধ্যে। একাধিকবার বৈঠক হলেও কোনও রফাসূত্র মেলেনি। একই মধ্যে ফের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন পুতিন। তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ নিয়ে হুঙ্কারও দিয়েছেন তিনি। তাঁর স্পষ্ট কথা, রাশিয়ার সঙ্গে ন্যাটো যদি সরাসরি যুদ্ধ শুরু করে তাহলে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ খুব বেশি দেরি নেই। এই অবস্থায় ভারতের প্রধানমন্ত্রীর শান্তির বার্তা কতটা কাজে লাগে সেটাই দেখার। যদিও অনেকের প্রশ্ন, এখন থেকেই কেন মোদীকে আমন্ত্রণ জানিয়ে রাখলেন পুতিন এবং জেলেনস্কি? রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের ধারণা, লোকসভা ভোটে আবার যে বিজেপি সরকার জিতবে সে বিষয়ে নিশ্চিত আন্তর্জাতিক মহল, অঘোষিতভাবে এই বার্তাই দিতে চাইছে নয়াদিল্লি।