
শেষ আপডেট: 24 November 2023 10:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভয়ঙ্কর অশান্তি শুরু হয়েছে আয়ারল্যান্ডের রাজধানী ডাবলিনে। বিক্ষোভের আগুন জ্বলছে। দুষ্কৃতীর ছুরি হামলায় জখম তিন শিশু-সহ পাঁচ জন। দোকানপাটে লুঠ চলছে, রাস্তাঘাটে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে বাস-গাড়ি।
ডাবলিনের পার্নেল স্কোয়ারে একটি স্কুলের বাইরে শিশু-সহ বেশ কয়েকজনের উপর ছুরি নিয়ে হামলা চালায় এক ব্যক্তি। গুরুতর আহত হয় এক পাঁচ বছরের একটি মেয়ে। আরও তিন শিশু মারাত্মকভাবে জখম বলে জানিয়েছে পুলিশ। বাচ্চাদের উপর হামলা করতে দেখে আততায়ীর উপর ঝাঁপিয়ে পড়েন স্থানীয় লোকজন। তাঁদের সঙ্গে খণ্ডযুদ্ধ শুরু হয় আততায়ীর। ছুরির আঘাতে আরও কয়েকজন জখম হন। তবে, জনসাধারণই ওই হামলাকারীর হাত থেকে অস্ত্র কেড়ে নেয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। পাল্টা হামলায় সেও জখম হয়।
ডাবলিন প্রশাসন জানাচ্ছে, আলজেরিয়ান শরণার্থীদের উপরেই হামলা হয়েছে। আততায়ীর বয়স ৫০ বছরের আশপাশে। ঘটনার পরেই বিক্ষোভ শুরু হয় পার্নেল স্কোয়ার ও তার আশপাশের এলাকায়। দোকানপাটে লুঠ চলতে থাকে, বাস-গাড়ি ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। স্থানীয় কয়েকটি রেস্তোরাঁতেও ভাঙচুর চলে। পথচারীদের উপরেও হামলা হয়। ডাবলিনের ও’কনেল স্ট্রিটকে কেন্দ্র করে হিংসা ছড়িয়ে পড়তে থাকে। বিক্ষোভকারীরা স্লোগান তোলে ‘উদ্বাস্তুদের বের করে দাও’।
পুলিশ জানিয়েছে, আলজেরিয়ান শরণার্থী পাঁচজনের উপর হামলার পরেই রাস্তায় নামেন শরণার্থী বিরোধী গোষ্ঠীর সদস্যরা। তারা শরণার্থীদের দেশ থেকে বিতাড়িত করার দাবি তুলতে থাকেন। এই আবহে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে শরণার্থী বিরোধী প্রতিবাদীদের। পুলিশের গাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। হিংসা মারাত্মক আকার নিলে পুলিশ রাস্তাঘাট বন্ধ করে দেয়। লোকজনকে বাইরে বেরোতে নিষেধ করা হয়।
ডাবলিনের পুলিশ কমিশনার ড্রিউ হ্যারিস বলেন, “পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে ৪০০ জন পুলিশকর্মী নিয়োগ করা হয়েছে। যে সব দৃশ্য সামনে এসেছে, তা লজ্জাজনক। চরম ডানপন্থী মতাদর্শে বিশ্বাসী দুষ্কৃতীরাই এই ঘটনা ঘটিয়েছে।”
ডাবলিনে এমন দাঙ্গা বা হিংসা প্রায় নজিরবিহীন। আইরিশ সংসদে কোনও অতি ডানপন্থী দল বা রাজনীতিবিদ নেই। তবে গত কয়েক বছরে সেই দেশে উদ্বাস্তু বিরোধী বিক্ষোভ ক্রমেই বাড়ছে। ইউক্রেনে রুশ সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে প্রায় ১ লক্ষ ইউক্রেনীয় উদ্বাস্তু আয়ারল্যান্ডে আশ্রয় নিয়েছেন। ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের মধ্যে, এই দেশেই সবথেকে বেশি ইউক্রেনিয় নাগরিক আশ্রয় নিয়েছেন। উদ্বাস্তুদের সংখ্যা যতই বাড়ছে ততই বিক্ষোভ দানা বাঁধছে। শরণার্থীদের দেশ থেকে বের করে দেওয়ার জন্য নতুন করে দাঙ্গা পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।