
শেষ আপডেট: 28 October 2023 17:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইনভিট্রো ফার্টিলাইজেশন (আইভিএফ) ট্রিটমেন্টে পারদর্শী ছিলেন চিকিৎসক। তাঁর ক্লিনিকে বহু দম্পতির ভিড় ছিল। অনেক নিঃসন্তান দম্পতির মুখে হাসি ফুটিয়েছেন তিনি। যার যেমন পুরুষ পছন্দ সে গায়ের রঙ থেকে চোখের মণির রঙ, তেমন পুরুষেরই শুক্রাণু এনে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিতেন ডাক্তার। তাঁই মহিলারাও ভিড় করতেন তাঁর আইভিএফ ক্লিনিকে। এ পর্যন্ত সব ঠিকই ছিল। কিন্তু গন্ডগোলটা ধরা পড়ল কিছুদিন আগে। এক দম্পতি আবিষ্কার করলেন তাঁদের সন্তানের মতো অন্তত ডজনখানেক ছেলেমেয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে এলাকায়। ডিএনএ পরীক্ষা করাতেই চোখ কপালে উঠল দম্পতির।
চুপিচুপি নিজের শুক্রাণুই দিতেন ডাক্তার। এত বছর ধরে যতগুলো আইভিএফ তিনি করেছেন তাতে বেশিরভাগই নাকি তাঁরই শুক্রাণু দিয়ে হয়েছে। ডোনারের নামে আলাদা টাকা নিয়ে গোপনে নিজের শুক্রাণুই দিতেন ডাক্তার। আর এমন করতে করতে একটা গোটা শহরজুড়ে এখন তাঁরই ডজনখানেক ছেলেমেয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে।
ওয়াশিংটনে এই ঘটনা ঘটেছে। শ্যারন হায়েস নামে এক মহিলা ওই ডাক্তারের নামে মামলা ঠুকেছেন। তিনিও মা হওয়ার জন্য ডাক্তারের ক্লিনিকে এসেছিলেন। ফর্সা রঙ ও নীচ চোখের মণি আছে এমন ডোনার খুঁজেছিলেন তিনি। ডাক্তার তাঁকে আশ্বাস দিয়ে অতিরিক্ত টাকাও নিয়েছিলেন ডোনারের জন্য। তাঁর আইভিএফ সফল হয়েছিল। ফুটফুটে মেয়ের জন্ম দিয়েছিলেন শ্যারন।
মহিলা তাঁর অভিযোগে বলেছেন, মেডিক্যাল পড়ুয়াদের থেকে শুক্রাণু নেওয়া হয় বলে জানিয়েছিলেন ডাক্তার। পুরো বিষয়টি সামনে আসে কিছুদিন আগে। শ্যারনের মেয়ে ব্রায়ানা হায়েসের ডিএনএ পরীক্ষা হয়েছিল। সেই সময়ই তাঁর ‘বায়োলজিক্যাল’ বাবার পরিচয় সামনে আসে। ব্রায়ানা আবিষ্কার করেন ওই এলাকায় তাঁর অন্তত ১৬ জন ‘ভাইবোন’ রয়েছে। শহরের অনেকেই ওই ডাক্তারের কাছে ট্রিটমেন্ট করিয়েছেন। কাজেই সেদিক তেকে ডাক্তারের কতজন ছেলেমেয়ে আছে তা ভেবেই চোখ কপালে ওঠে শ্যারনের। তিনি বলেছেন, “এটা একেবারেই নিয়ম বিরুদ্ধ কাজ। স্পার্ম ডোনেশনের নিয়ম আছে। ওই ডাক্তার বেআইনিভাবে নিজের শুক্রাণুই দান করে চলেছেন আর প্রতারণা করছেন। এভাবে অস্তিত্বের সঙ্কট তৈরি হবে।”