
ট্রাম্প প্রশাসনের অব্যবস্থাকে কাঠগড়ায় তোলা হচ্ছে।
শেষ আপডেট: 20 March 2025 12:54
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফিনল্যান্ড, ডেনমার্কের পর ইউরোপের একরত্তি দেশ লিথুয়ানিয়ার কাছে ডিম-ভিক্ষা করে আর্জি জানাল ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমেরিকা। গত ২ মাস ধরে আমেরিকায় ডিমের দাম চড়চড় করে বাড়ছে। যা নিয়ে গোটা দেশের মানুষ অত্যন্ত ক্ষুব্ধ। মুরগির মড়কের কারণে এই দশা হলেও সাধারণ মানুষকে প্রতি ডজন ডিম প্রায় ১০ ডলার অর্থাৎ ৮৬২ টাকা ৭০ পয়সায় কিনতে হওয়ায়, ট্রাম্প প্রশাসনের অব্যবস্থাকে কাঠগড়ায় তোলা হচ্ছে।
এই অবস্থায় ট্রাম্প প্রশাসন তদন্তের নির্দেশ দিলেও, নয়া শুল্কনীতির জেরে অনেক দেশই আমেরিকাকে ডিম রফতানি করতে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। ফলে ডিমের সঙ্কট দিনদিন বাড়ছে। রেস্তরাঁগুলিও তাই ডিম সঙ্কটের কারণে মেনু তালিকায় পরিবর্তন এনেছে। এমনকী দোকানেও ডিম বিক্রিতে ঊর্ধ্বসীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে কোথাও কোথাও। সব মিলিয়ে আমেরিকার ব্রেকফাস্টের অপরিহার্য খাদ্যতালিকায় ডিমে সরবরাহ বজায় রাখতে দেদার পাচার শুরু হয়েছে। মেক্সিকো সীমান্ত দিয়ে চোরাগোপ্তা বেশি দামে ডিম পাচার চলছে আমেরিকায়।
আকালের কারণ কী?
বার্ড ফ্লু-র কারণে আমেরিকায় তিন বছর ধরে ১৬ কোটি ৬০ লক্ষেরও বেশি মুরগি মারা গিয়েছে। এই বছরেই একজনের মৃত্যু হয়েছে। যার ফলে সরকারি নির্দেশে ৩ কোটি ডিম পাড়া মুরগি মেরে ফেলতে বাধ্য হয়েছেন খামার মালিকরা। সরকার বলে দিয়েছে, মুরগি খামারে যদি একটি মুরগিরও বার্ড ফ্লু ধরা পড়ে, তাহলে সব মুরগিকে মেরে ফেলতে হবে। এই কারণে ঘোরতর ডিমের আকাল দেখা দিয়েছে বিশ্বের সর্বশক্তিধর দেশ আমেরিকায়।
সঙ্কট কাটাতে কী করছে ট্রাম্প প্রশাসন?
তাই এই মুহূর্তে সঙ্কট কাটাতে আমেরিকা দ্বারস্থ হয়েছে লিথুয়ানিয়ার। এগ্রিওয়াচ নামে ডেনমার্কের একটি পত্রিকা জানিয়েছে, আমেরিকা এর আগে লেদারল্যান্ডস, সুইডেন, ডেনমার্ক ও ফিনল্যান্ডের কাছে ডিম চেয়ে হাত পেয়েছিল। তার মধ্যে ফিনল্যান্ড ট্রাম্পের দেশকে ডিম রফতানি করতে অস্বীকার করেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় যা নিয়ে টিপ্পনি কেটে বলা হয়েছে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্র্যান্ড অফ ডিপ্লোম্যাসি। এখন সংবাদ ওয়েবসাইট এলআরটি-র খবর হচ্ছে, আমেরিকা ইউরোরীয় দেশ লিথুয়ানিয়ার কাছে ডিম রফতানির আর্জি জানিয়েছে।
লিথুয়ানিয়ার পোলট্রি অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান জানিয়েছেন, ওয়ারশ-এ স্থিত মার্কিন দূতাবাস সেদেশে ডিম উৎপাদক কোম্পানিগুলির সঙ্গে কথাবার্তা বলেছে। এই খবর চাউর হওয়ার পর থেকেই আমেরিকা ও ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সোশ্যাল মিডিয়ায় মশকরার বন্যা বয়ে যাচ্ছে। কারণ ইউরোপীয় দেশগুলির উপর ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামের উপর অন্তঃশুল্ক বৃদ্ধি এবং কট্টর মার্কিন দাদাগিরি সর্বোপরি গ্রিনল্যান্ড দখলের চেষ্টা নিয়ে অনেক দেশই আমেরিকার উপর ক্ষুব্ধ। নেট পাড়া তাই ট্রাম্প ও আমেরিকাকে কার্যত দোরে দোরে ভিক্ষা করতে বেড়ানোর সঙ্গে তুলনা টেনেছে।
ডিমের চাহিদা বৃদ্ধির কারণে দাম বেড়েছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ডিম দিয়ে তৈরি খাবারের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। কিছু রেস্তরাঁ যেমন ডেনিজ ও ওয়াফল হাউসের মতো চেন রেস্তরাঁগুলি ডিমের খাবারগুলির জন্য অতিরিক্ত দাম ধার্য করেছে। কিছু জায়গায় দোকানে ডিম বিক্রির সংখ্যা বেঁধে দেওয়া হয়েছে সরবরাহ ও চাহিদার ভারসাম্য রক্ষা করতে। জানা গিয়েছে, আগামী মাসের মধ্যে আমেরিকা ১০ কোটি ডিম আমদানির লক্ষ্য নিয়েছে। যে কারণে তারা তুরস্ক থেকে ব্রাজিল সকলের কাছেই ডিম চেয়ে আর্জি জানাতে চলেছে।