
শেষ আপডেট: 28 November 2023 12:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চিনে রহস্যময় নিউমোনিয়া নিয়ে আতঙ্ক ছড়িয়েছে সারা বিশ্বে। বাচ্চাদের মধ্যে ছড়াচ্ছে নিউমোনিয়ার মতো অসুখ। তার মধ্যেই নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মানুষের শরীরে পাওয়া গেছে সোয়াইন ফ্লু ভাইরাসের স্ট্রেন। সোয়াইন ফ্লু ভাইরাস সাধারণত শুয়োরের শরীরেই ছড়ায়। তার থেকে অন্য পশুর শরীরে ঢুকলেও মানুষের শরীরে তেমনভাবে ছড়াতে দেখা যায়নি এই ভাইরাসকে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, সোয়াইন ফ্লু ভাইরাসেরও ‘হিউম্যান ট্রান্সমিশন’ হচ্ছে।
সোমবার ব্রিটেনে এক ব্যক্তির দেহে সোয়াইন ফ্লু-র নয়া স্ট্রেন, [A(H1N2)v] পাওয়া গিয়েছে। জ্বর, সর্দি-কাশির উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে টেস্ট করাতে গিয়েছিলেন ওই ব্যক্তি। তখনই তাঁর নমুনা পরীক্ষা করে চোখ কপালে ওঠে বিশেষজ্ঞদের। ওই ব্যক্তির শরীর থেকে নেএয়া নমুনার মধ্যে পাওয়া যায় সোয়াইন ফ্লু ভাইরাসের নতুন স্ট্রেন। লন্ডনের স্বাস্থ্য দফতর জানাচ্ছে, আগের স্ট্রেনগুলোর সঙ্গে নতুন এই স্ট্রেনের কোনও মিলই নেই।
লন্ডনের স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, ইনফ্লুয়েঞ্জার মতোই উপসর্গ দেখা গিয়েছিল আক্রান্তের শরীরে। জানা গিয়েছে, রোগীর শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হচ্ছে। ভাইরাসের জিনোম বিশ্লেষণ করা হবে। তবে রোগী এখন সুস্থ হয়ে উঠেছেন বলেই খবর। করোনা কালেই চিনে সোয়াইন ফ্লুয়ের নতুন রকম ভাইরাল স্ট্রেন খুঁজে পাওয়া গিয়েছিল বলে খবর সামনে আসে। চিনের কয়েকটি ইউনিভার্সিটি ও চাইনিজ সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) জানায় এই নতুন রকম সোয়াইন ফ্লু ভাইরাল স্ট্রেনের নাম ‘জি৪’ (G4) যা পরিচিত এইচ১এন১ (H1N1) সোয়াইন ফ্লু ভাইরাসের স্ট্রেনের মতোই তবে কিছুটা আলাদা। বিজ্ঞানীদের ধারণা, এইচ১এন১ স্ট্রেনই জিনের গঠন বদলে নতুন রূপে ফিরে এসেছে।
সোয়াইন ফ্লু ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস (SIV) বা সোয়াইন-অরিজিন ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস (S-OIV) ভাইরাস হল আসলে ইনফ্লুয়েঞ্জা পরিবারেরই একরকম ভাইরাল স্ট্রেন যার বাহক শুয়োর। ২০০৯ সালে ইনফ্লুয়েঞ্জা-সি স্ট্রেন সংক্রামক হয়ে ছড়িয়ে পড়ে। এরই সাব-টাইপ হল ইনফ্লুয়েঞ্জা-এ যার সংক্রামক স্ট্রেন এইচ১এন১, এইচ১এন২, এইচ২এন১, এইচ৩এন১, এইচ২এন৩ ইত্যাদি।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, এই রোগ কি শুয়োরের শরীর থেকে মানুষের শরীরে সংক্রামিত হতে পারে? সেই সম্ভাবনা কতটা? আগে ধারণা ছিল শুয়োর থেকে এই ভাইরাল স্ট্রেন মানুষের শরীরে ছড়াবে না। কিন্তু লন্ডনের ঘটনা সব ধারণা বদলে দিতে পারে বলেই মত বিশেষজ্ঞদের। শুয়োরের মাংস, মল-মূত্র থেকে এই স্ট্রেন ছড়িয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মানুষের শরীরে কত দ্রুত এই ভাইরাস বিভাজিত হতে পারবে এবং ছড়াতে পারবে সে নিয়েই চিন্তা বাড়ছে।