আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির জন্য পাঁচ রাউন্ড বৈঠক করেছে ভারত। এ মাসের শেষ দিকে ভারতে ষষ্ঠ রাউন্ডের বৈঠক হওয়ার কথা। তার আগে জল ঢেলে দিলেন ট্রাম্প।

কোথায় দাঁড়াবে ভারত-আমেরিকা সম্পর্ক?
শেষ আপডেট: 8 August 2025 07:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump) বেপরোয়া শুল্ক আগ্রাসন (Tariff Threat) এখন এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, সকালে ঘুম থেকে উঠেই সাউথ ব্লক আশঙ্কা করতে থাকে আজ আবার নতুন কী! রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল কেনার জেরে আমেরিকা ইতিমধ্যেই ভারতের উপরে মোট ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপিয়ে দিয়েছে। যা নিয়ে দু’দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক টানাপোড়েন চরমে। এই অবস্থায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়ে দিলেন, এই সমস্যা মেটার আগে পর্যন্ত ভারতের সঙ্গে কোনও বাণিজ্য আলোচনা নয়।
জানিয়ে রাখা ভাল, আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির জন্য পাঁচ রাউন্ড বৈঠক করেছে ভারত। এ মাসের শেষ দিকে ভারতে ষষ্ঠ রাউন্ডের বৈঠক হওয়ার কথা। তার আগে বালতি বালতি জল ঢেলে দিলেন ট্রাম্প।
হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্প বলেন, “যতক্ষণ না এটা মিটছে, ততক্ষণ কোনও বাণিজ্য আলোচনা হবে না”। এর আগে তিনি ঘোষণা করেছিলেন, রাশিয়ার সঙ্গে যেসব দেশ লেনদেন চালাচ্ছে, তাদের উপরে সেকেন্ডারি স্যাংশন তথা বাড়তি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে।
ট্রাম্পের এই পদক্ষেপের পরই ভারতের বিদেশ মন্ত্রক কড়া ভাষায় জানিয়েছে। সাউথ ব্লক বলেছে, “এই সিদ্ধান্ত অযৌক্তিক, অন্যায্য এবং মোটেও সঙ্গত নয়”। নয়াদিল্লির বক্তব্য, ভারতের তেল আমদানি মূলত বাজারের উপর নির্ভর করে নির্ধারণ করা হয় এবং ১৪০ কোটির বেশি মানুষের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ভারতের অভিযোগ, রাশিয়া থেকে তেল কিনছে চিন ও তুরস্কও। অথচ একমাত্র ভারতকেই এভাবে নিশানা করছে আমেরিকা। তারা এই পদক্ষেপকে দ্বিচারিতা বলে অভিহিত করেছে।
এই আবহেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বৃহস্পতিবার এমএস স্বামীনাথন শতবর্ষ আন্তর্জাতিক সম্মেলনে দাঁড়িয়ে বলেন, “ভারতের কৃষক, জেলেরা, গবাদি পশুপালকের স্বার্থই আমার কাছে প্রথম। তার জন্য যদি আমায় ব্যক্তিগত ভাবে মূল্য চোকাতে হয়, তবুও আমি পিছপা হব না।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘দেশের স্বার্থে, কৃষকদের স্বার্থে আমরা সমস্ত মূল্য চোকাতে প্রস্তুত। আমেরিকা যাই করুক, আমরা মাথা নোয়াব না।’’
গত বুধবার ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে সই করে জানিয়েছেন, ভারতের উপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক চাপানো হচ্ছে। আগের ২৫ শতাংশ মিলিয়ে এটি এখন ৫০ শতাংশে পৌঁছেছে। ২৭ অগাস্ট থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, গত দুই দশকে এই প্রথম ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য সম্পর্কে এতটা টানাপোড়েন দেখা গেল। এই সঙ্কট শুধু অর্থনৈতিক নয়, কূটনৈতিক ক্ষেত্রেও তার প্রভাব ফেলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই আচরণ শুধু বাণিজ্য নয়, ভৌগোলিক রাজনীতির জটিল সমীকরণকেও সামনে নিয়ে এসেছে। যেখানে চিনের উপরে ১৪৫ শতাংশ শুল্ক থাকলেও আপাতত তা স্থগিত রয়েছে মার্কিন-চিন আলোচনার সুবিধার্থে। কিন্তু ভারতকে ছাড় দেওয়া হচ্ছে না— এটাকেই ‘দ্বিমুখী নীতি’ বলে মনে করছে নয়াদিল্লি।
আগামী দিনে ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান বদলাবে কি না, বা ভারত এই সঙ্কট কাটাতে কী পদক্ষেপ নেবে, সেটাই এখন নজরে আন্তর্জাতিক মহলের।