
ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 12 April 2024 18:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতের বিদেশমন্ত্রক শুক্রবার বিকেলে ইরান এবং ইজরায়েল ভ্রমণ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ জারি করল। এই দুই দেশের সম্পর্ক তলানিতে এসে ঠেকায় পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ইরান ও ইজরায়েল ভ্রমণ না করার নির্দেশিকা দিয়েছে নয়াদিল্লি। তাতে বলা হয়েছে, ইরান এবং ইজরায়েলে বসবাসকারী ভারতীয়দের অবিলম্বে ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করতে। সেখানে নিজেদের নাম-ঠিকানা, ফোন নম্বর নথিভুক্ত করে রাখতে।
এই দুই দেশে বসবাসকারী ভারতীয়দের আপাতত সাবধানে, যে পরিস্থিতিতে যুঝে ওঠার মতো ব্যবস্থা নিয়ে রাখতে এবং অপ্রয়োজনে ঘোরাঘুরি না করতেও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রসঙ্গত বলা যায়, একদিকে রাশিয়া-ইউক্রেন। অন্যদিকে, ইজরায়েল-প্যালেস্তাইন। এবার আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ইজরায়েলে আক্রমণ হানতে পারে ইরান, এমনটাই গুঞ্জন চলছে। সিরিয়ার দামাস্কাসে ইরানি দূতাবাসে মারণ-হামলার অভিযোগে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ইজরায়েলে সরাসরি আক্রমণ হানতে পারে আয়াতুল্লা খামেইনির সেনাবাহিনী।
শুক্রবার ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল মার্কিন সূত্রকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, আমেরিকার গোয়েন্দারা এই রিপোর্ট দিয়েছেন। মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রের খবর, গত ১ এপ্রিল সিরিয়ার রাজধানী দামাস্কাসে ইজরায়েলি বিমানহানায় ২ জেনারেলসহ বেশ কয়েকজন ইসলামিক রেভেলিউশনারি গার্ডের কমান্ডার মারা যায়। তারপর থেকেই খামেইনি সরকার আমেরিকা ও ইজরায়েলকে প্রত্যক্ষ যুদ্ধের জন্য তৈরি থাকতে হুঁশিয়ারি দিচ্ছিল। কিন্তু, রমজান মাস থাকায় সেই পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ইদ কেটে যাওয়ার পরই ইরানে জরুরি সতর্কতা জারি করায় সেই সম্ভাবনা বড় হয়ে দেখা দিয়েছে।
Travel advisory for Iran and Israel:https://t.co/OuHPVQfyVp pic.twitter.com/eDMRM771dC
— Randhir Jaiswal (@MEAIndia) April 12, 2024
মার্কিন এক আধিকারিক বলেছেন, গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে, ইজরায়েলের মাটিতে ইরান হামলা চালাতে পারে। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই দক্ষিণ অথবা উত্তর ইজরায়েলে আক্রমণ করতে পারে ইরান। যদিও ইরানি সরকারের তরফে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের খবরের কথা স্বীকার করা হলেও তেহরান চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা যায়নি।
খামেইনির এক উপদেষ্টা বলেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন দেশের শীর্ষ নেতা আয়াতুল্লা খামেইনি। রাজনৈতিক ঝুঁকির কথা ভেবে তিনি হামলার বিষয়ে এই মুহূর্তে কোনও সিদ্ধান্তে আসেননি। প্রসঙ্গত, দামাস্কাসে হানাদারির পর ইরান সরাসরি ইহুদি রাষ্ট্র ইজরায়েলকে দায়ী করে। ইরান এবং সিরিয়ার বিভিন্ন এলাকায় বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ক্ষোভের আগুন জ্বলে ওঠে।
খোদ খামেইনি বলেন, ইজরায়েলকে শাস্তিভোগ করতে হবে। ইরান চুপ করে বসে থাকবে না। তারপর থেকে আমেরিকা এই উত্তেজনা প্রশমনে আসরে নামে। ইরান-ইজরায়েল দ্বন্দ্ব থামাতে চিনা বিদেশমন্ত্রী ফোনে কথা বলেন মার্কিন বিদেশমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেনের সঙ্গেও। আরব দুনিয়ায় যাতে নতুন করে অশান্তি না ছড়িয়ে পড়ে তার জন্য আমেরিকাকে সদর্থক পদক্ষেপের প্রস্তাব দিয়েছে চিন।