
শেষ আপডেট: 12 April 2024 20:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: একটি দুটি নয়, একেবারে ১৬ খানা সরকারি চাকরির লোভনীয় প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিলেন অবলীলায়। না করে দিয়েছিলেন ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরোকেও। লক্ষ্য স্থির ছিল ইউপিএসসি দিয়ে আইপিএস হবেন। সে স্বপ্নই সফল হয়েছে। অদম্য জেদ, অধ্যবসায় আর মেধাকে সম্বল করে দেশের অন্যতম সফল আইপিএস অফিসার হয়ে উঠেছেন তৃপ্তি ভাট।
তৃপ্তি যে পরিবারে বড় হয়েছেন সেখানে সকলেই পেশায় শিক্ষক। চার ভাইবোনের মধ্যে তৃপ্তিই ছিলেন বড়। আলমোড়ার বীরসেবা সিনিয়র সেকেন্ডারি স্কুল থেকে পাশ করে কেন্দ্রীয় বিদ্যালয় থেকে দ্বাদশ শ্রেণি উত্তীর্ণ হওয়ার পরে পন্থনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক পাশ করেন তিনি। এরপর ন্যাশনাল থার্মাল পাওয়ার কর্পোরেশনে অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার পদে কাজ করতে শুরু করেন তৃপ্তি।
আইপিএস অফিসার হতে চেয়েছিলেন তৃপ্তি। পছন্দের সেই পেশা বেছে নিতে একের পর এক আকর্ষণীয় চাকরির প্রস্তাব প্রত্যাখান করতে দু’বার ভাবেননি তিনি। তবে এ জন্য তাঁকে আফসোস করতে হয়নি। নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় ভারতের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি এপিজে আবদুল কালামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার সুযোগ হয়েছিল তাঁর আর সেই সাক্ষাতে স্যার কালাম তৃপ্তিকে একটি হাতে লেখা চিঠি দিয়েছিলেন যাতে লেখা ছিল তৃপ্তি যেন নিজেকে দেশসেবার কাজে নিয়োজিত করেন। আর তাই সেই লক্ষ্যেই এগিয়ে চলছিলেন তৃপ্তি। দেশসেবার জন্যেই সমস্ত চাকরি ফিরিয়ে দিয়েছেন। এমনকী ইসরোর উচ্চপদের লোভনীয় চাকরির প্রস্তাবও নাকচ করে দিয়েছিলেন।
২০১৩ সালে ইউপিএসসিতে এক চান্সেই পাশ করে যান। ১৬৫ র্যাঙ্ক করেন। হোম ক্যাডারেই চাকরি পেয়ে যান তিনি। প্রথমে দেহরাদুনের সুপারিনটেন্ডেন্ট অফ পুলিশ হিসেবে নিযুক্ত হন। এসপি হিসেবে চামোলিতে কিছুদিন কাজ করেছেন তৃপ্তি। এরপর তেহরি গাড়োয়ালে স্টেট ডিজাস্টার রেসপন্স ফান্ডের কমান্ডার হিসেবেও কাজ করেছেন। বর্তমানে দেহরাদুনে ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড সিকিউরিটি দফতরে এসপি পদে কর্মরত তৃপ্তি।
পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধূলাতেও নিজের দক্ষতা প্রমাণ করেছেন তৃপ্তি। জাতীয় স্তরে ১৬ এবং ১৪ কিমি ম্যারাথনে স্বর্ণপদক পেয়েছেন তিনি। তাইকোন্ডো এবং ক্যারাটেতেও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত তৃপ্তি। আজ তিনি দেশের অনেক মহিলার কাছেই অনুপ্রেরণা।