হঠাৎ হামলা ঘিরে আসছে একাধিক প্রশ্ন। এই ‘দু’সপ্তাহ’ সময়সীমা কি আদৌ আন্তরিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ছিল? নাকি ইরানকে প্রতিরক্ষার খুপরি থেকে কিছুটা বের করে আনার উপায়?

এআই দিয়ে তৈরি ছবি
শেষ আপডেট: 22 June 2025 11:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইরানকে আলোচনায় টানতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে বলেছিলেন, তেহরানে হামলা করব কি করব ঠিক করিনি। দু’সপ্তাহ সময় নিচ্ছি, তার মধ্যে ঠিক করে ফেলব। ওয়াশিংটন বোঝাতে চেয়েছিল, তেহরান যেন আমেরিকার সম্ভাব্য হামলার ঠেকাতে আগেভাগেই পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় বসে। কিন্তু সেই ‘দু’সপ্তাহ’ শেষ হওয়ার আগেই মাত্র দু’দিনের মাথায় শনিবার গভীর রাতে শুরু হয়ে গেল ইরানের সামরিক অভিযান। ইরানের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক কেন্দ্রে বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন বি-টু বোমারু বিমান। যাকে ট্রাম্প বলেছেন ‘অত্যন্ত সফল’ সামরিক পদক্ষেপ।
তবে হঠাৎ এই হামলা ঘিরে এখন একাধিক প্রশ্ন উঠে আসছে। এই ‘দু’সপ্তাহ’ সময়সীমা কি আদৌ আন্তরিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ছিল? নাকি এটি ছিল শুধুই একটি ছল—ইরানকে প্রতিরক্ষার খুপরি থেকে কিছুটা বের করে আনার উপায়?
বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, হামলার ঘোষণা এতোটা দ্রুত হওয়ার পেছনে ইরানের সঙ্গে মার্কিন মধ্যস্থতাকারীদের গোপন আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার সম্ভাবনাও থাকতে পারে।
ট্রাম্প বলছেন ‘এটাই শান্তির সময়’, কিন্তু ইরান দিয়েছে পাল্টা হুঁশিয়ারি
ট্রাম্প হামলার পর সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, “এটাই শান্তির সময়।” কিন্তু তার এই মন্তব্যকে রাজনৈতিক কৌশল বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। কারণ, এর আগেই ইরান স্পষ্ট ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়েছিল— আমেরিকা যদি ইসরায়েলের সঙ্গে মিলে তাদের সার্বভৌম ভূখণ্ডে হামলা চালায়, তার পরিণাম ভয়াবহ হবে।
ইতিমধ্যেই ইজরায়েল নানা পথে ইরানের সামরিক পরিকাঠামো দুর্বল করতে চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির হাতে এখনও রয়েছে শক্তিশালী প্রতিরোধের রসদ। ফলে যুদ্ধের পরিণতি নির্ধারণের আগে পরিস্থিতি যে আরও উত্তপ্ত হবে, তা বলাই যায়।
ট্রাম্পের আশা—এই হামলার মাধ্যমে ইরান আলোচনায় বসতে বাধ্য হবে। কিন্তু বাস্তবতা হল, যেসব দেশ ইজরায়েলের টানা আক্রমণের মধ্যেও আলোচনায় আসেনি, তারা মার্কিন বোমার ভয়ে টেবিলে আসবে—এমন ভাবা অনেকটা অতিরঞ্জিতও হতে পারে।
কূটনীতিকদের মতে, ইরানের পক্ষ থেকে বড়সড় পাল্টা প্রতিক্রিয়া না এলে এই হামলা ট্রাম্পের রাজনৈতিক লাভের ঘুঁটি হয়ে উঠতে পারে। কিন্তু যদি পরিস্থিতি খারাপ দিকে গড়ায়, তবে তার জন্য ট্রাম্পকেই ভুগতে হবে, বিশেষত নিজের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ শিবিরের ভেতরেও বিরোধ বাড়তে পারে।
ট্রাম্প নিজেকে শান্তির পক্ষে প্রচার করলেও, দ্বিতীয় দফায় প্রেসিডেন্ট হওয়ার পথে এ ধরনের আগ্রাসী পদক্ষেপ তাঁর জনপ্রিয়তাকেই বিপদে ফেলতে পারে বলে অনেকে মনে করছেন। তবে একটা ব্যাপার এখন নিশ্চিত—এই অভিযান ছিল একটি ঝুঁকিপূর্ণ কৌশল। ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, এটি সফল, কিন্তু আদৌ ইরানের সুরক্ষিত গবেষণা কেন্দ্রগুলো ধ্বংস হয়েছে কি না, তা জানতে আরও সময় লাগবে। কেননা ইরান ইতিমধ্যেই জানিয়েছে, পারমানবিক ঘাঁটিগুলো থেকে তারা আগেই সরঞ্জাম সরিয়ে ফেলেছিল। বোমা দিয়ে বুদ্ধি নষ্ট করা যাবে না। বরং এর পর থেকে প্রত্যেক আমেরিকানই হল তাদের টার্গেট।
পশ্চিম এশিয়ায় আবারও মার্কিন আগ্রাসন?
সাম্প্রতিক স্যাটেলাইট চিত্রে ধরা পড়েছে, ইরানের ইসফাহান শহরের পরমাণু গবেষণাকেন্দ্র ও ফোর্দো অঞ্চলে ধ্বংস হয়েছে। এই এলাকায় মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ও যুদ্ধজাহাজ আগেই মোতায়েন করা হয়েছিল। ইজরায়েল চাইছিল, আমেরিকা সক্রিয়ভাবে পাশে দাঁড়াক—এবার তাদের সেই প্রত্যাশা আংশিকভাবে পূরণ হল।
তবে প্রশ্ন থেকে যায়—এই হামলা কি শেষ নাকি শুরু? আলোচনা কি ফিরে আসবে, নাকি পশ্চিম এশিয়ার আকাশ আরও দাউদাউ করে জ্বলবে? এই উত্তরে পৌঁছাতে এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা।