
শেষ আপডেট: 31 October 2023 08:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে (এআই) বিশ্বজুড়ে মানবকল্যাণমূলক কাজে ব্যবহার করার ডাক দিলেন ঋষি সুনক। বিশ্বে প্রথমবার আর্টিফিশিয়াল ইনটেলিজেন্স সেফটি সামিটের আয়োজন করেছে ব্রিটেন। তাতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ যোগ দেবে। সুনক বলছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আগামী দিনে মানবসভ্যতার জন্য ক্ষতিকর হতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে। কারণ এর সূত্র ধরেই জালিয়াতি, সাইবার হানা আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এইসব অপরাধমূলক কাজ যাতে না হয় এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো সুপার ইনটেলিজেন্সকে মানুষের উপকারের কাজে লাগানো যায় সেই নিয়েই বিভিন্ন রাষ্ট্রনেতাদের সঙ্গে আলোচনা হবে সেই বৈঠকে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অনেকগুলো দিক আছে, বলছেন ঋষি সুনক। তাঁর মতে, সুপার ইনটেলিজেন্সকে ব্যবহার করে খাদ্যসঙ্কট মেটানো যাবে। শস্যের দাম আরও সস্তা হবে। দারিদ্র, অনাহার মেটাতেও কাজে লাগানো যাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে। চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য বিষয়ে এআই তার পারদর্শিতা আগেই প্রমাণ করেছে। এবার প্রযুক্তি ও বিজ্ঞানের নানা দিকেই এআইকে জনকল্যাণমূলক কাজে লাগানো উদ্যোগ নিতে হবে সকলকে।
সভ্যতার অগ্রগ্রতির সঙ্গে প্রযুক্তিগত উন্নতি ঘটেছে। আর সেই প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে যে বিষয়গুলির চাহিদা বাজারে রীতিমতন বেড়ে গেছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টালিজেন্স তার মধ্যে অন্যতম। বর্তমানে বিশ্বে এমন কোনও ক্ষেত্র নেই, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্য নেওয়া হয় না। স্বাস্থ্যক্ষেত্র, শিক্ষা থেকে শুরু করে ব্যবসা ও অটোমোবাইল পর্যন্ত সমস্ত ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে। নানা ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার আমাদের জীবনকেও তাই আগের চেয়ে অনেক সহজ করে তুলেছে।
সহজ ভাবে বললে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আসলে এমন একটি বিষয় যেখানে মানুষের বুদ্ধি দিয়ে যে কাজ গুলি সম্পন্ন করা সম্ভব, সেগুলিই কম্পিউটার বা কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত রোবটের মাধ্যমে করা যায়। মূলত নানা সমস্যা সমাধানের জন্য বিভিন্ন তথ্যভান্ডার ও কম্পিউটার সায়েন্সের সাহায্য নেওয়া হয়।
সুনক বলছেন, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে আর কোনও ক্ষেত্রই বাকি থাকবে না, যেখানে প্রযুক্তিগত এই উন্নতি কাজে লাগবে না। এর জন্যেই এই বিষয়কে পেশা হিসাবে বেছে নিলে এক উজ্বল কেরিয়ার গড়তে পারবেন শিক্ষার্থীরা।
আর্টিফিশিয়াল ইনটেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (artificial intelligence) আশীর্বাদ না অভিশাপ হয়ে এসেছে তা সময়েই বলবে। তবে দেশ-বিদেশের বিজ্ঞানী, সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার থেকে ডেটা সায়েন্টিস্ট–সকলেই এক বাক্যে স্বীকার করছেন মানুষ যদি চায় তাহলে কম্পিউটার বিজ্ঞানের এই দিকটিকে কল্যাণমূলক কাজেও ব্যবহার করা যাবে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সাহিত্য থেকে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা সবেতেই আরও উন্নতি ও অগ্রগতি সম্ভব একমাত্র কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার হাত ধরেই।