দ্য ওয়াল ব্যুরো: তালিবানের (taliban) নৃশংস চেহারাটা প্রকাশ্যে আসছে কিছুদিন ধরেই। এবার ইসলামের দোহাই (islam) দিয়ে নীতি পুলিশগিরি (moral policing) কায়েম করছে তারা। দুদশক আগের শাসনে তাদের চালু করা যে সত্ গুণাবলীর প্রসার ও অপরাধ দমন মন্ত্রকের বাড়াবাড়ি চরম পৌঁছেছিল, সেই কুখ্যাত মন্ত্রক ফেরাচ্ছে তালিবান। শরিয়তি বিধি মেনে নির্মম শাস্তি দিত মন্ত্রক। তারাই ফতোয়া দিয়েছিল, কোনও মেয়ে পুরুষ সঙ্গী ছাড়া বাড়ির বাইরে পা দিতে পারবে না। গানবাজনা, অন্য সব ধরনের বিনোদন নিষিদ্ধ করেছিল।
মহম্মদ ইউসুফ নামে এক তালিবান নেতার বক্তব্য, ইসলামের সেবা করাই তাদের মূল উদ্দেশ্য। সেজন্যই সত্ গুণাবলীর প্রসার ও অপরাধ দমন মন্ত্রকের প্রয়োজন। আফগানিস্তানের সেন্ট্রাল জোনের ভারপ্রাপ্ত বলে দাবি করা নেতাটি নিউ ইয়র্ক পোস্টকে জানিয়েছে, ইসলামি নিয়মরীতি মেনেই অপরাধের শাস্তি হবে এবার থেকে। কেউ খুন (murder) করলে তা যদি ইচ্ছাকৃত হয়, তবে তাকেও হত্যা করা হবে, কিন্তু খুনটা ইচ্ছাকৃত না হলে আর্থিক জরিমানা দিয়ে রেহাই পেতে পারে সে। চুরির শাস্তি হবে চোরের দুটো হাত কেটে নেওয়া, যারা ‘অবৈধ যৌন সম্পর্ক’ (illegal intercourse) করবে, তাদের পাথর ছুঁড়ে হত্যা করা হবে (stoned to death)। পাথর ছুঁড়ে হত্যার সাজা শুধু মেয়েদের জন্যই বরাদ্দ হলেও বেআইনি যৌন সম্পর্কে জড়ানো নারী, পুরুষ দুজনকেই একই নৃশংস কায়দায় মেরে ফেলা হবে বলে জানিয়েছে ইউসুফ। এ ধরনের মামলায় সাজা ঘোষণার জন্য চারজন সাক্ষী লাগবে। তাদের বক্তব্য হুবহু একই রকম হতে হবে। চারজনের ভাষ্যে সামান্য অদলবদল হলে কোনও শাস্তি হবে না। কিন্তু সব সাক্ষীই একই সুরে কথা বললে, ঘটনার সময়কাল সবাই একই বলে জানালে সাজা হবে। সুপ্রিম কোর্ট এসব নিয়ে মাথা ঘামাবে না। ওরা দোষী ঘোষিত হলে আমরা শাস্তি দেব। ইউসুফকে উদ্ধৃত করে মার্কিন সংবাদপত্রটি একথা লিখেছে।
১৯৯৬ থেকে ২০০১ শাসনকালে ওই মন্ত্রক ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল। আফগানিস্তানের রাস্তায় দিনেদুপুরে তারা ইসলামি রীতিনীতি ভাঙার দায়ে দোষীদের চাবুক মারত, পাথর ছুঁড়ত, হাত-পা কেটে নিত, এমনকী অপরাধের মাত্রা বিচার করে জনসমক্ষে ফাঁসিও দিত।