দ্য ওয়াল ব্যুরো: এবার তালিবানের (taliban) রোষে আফগানিস্তানের মহিলা যৌনকর্মীরা (sex workers)! এমনিতেই আফগানিস্তানে যৌনকর্মীদের (prostitutes) পেশা বেআইনি, যদিও নির্দিষ্ট কোনও শাস্তির উল্লেখ নেই সেদেশের দণ্ডবিধিতে। কিন্তু ধরা পড়লে কারাবাস নিশ্চিত। তার মধ্যেই রাজধানী কাবুলে কয়েকশ যৌনকর্মী ব্যবসা চালাচ্ছেন বলে গত জুনে জানায় আফগান মানবাধিকার সংগঠনগুলি। দি সান অনলাইনের খবর, তালিবান খুন করবে বলে এই যৌনকর্মীদের তালিকা (kill list) বানাতে চায়। সেজন্য তারা পর্নোগ্রাফি সাইট (porn sites) ঘাঁটাঘাঁটি করছে। তালিকা ধরে ধরে যৌনকর্মীদের খুঁজে বের করে প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড দেবে বা মজা লুটতে জনসমক্ষে হেনস্থা করবে। বিভিন্ন পর্ন সাইট সার্ফ করে আফগান যৌনকর্মীদের দেখানো বহু ভিডিও চিহ্নিত করেছে তালিবানের খুনে বাহিনী।
আরও পড়ুন---
বিনা ভোটে জিতে মুখ্যমন্ত্রী থাকুন মমতা, তৃণমূল নেত্রীকে খাটো করতে ভাবনা রুদ্রনীলের
এব্যাপারে অবহিত লোকজন ব্রিটিশ ট্যাবলয়েডটিকে বলেছে, ওই মহিলাদের হয় মাথা কেটে, পাথর ছুঁড়ে বা ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মারবে তালিবান। তবে তার আগে গণধর্ষণ করবে তাদের। ওরা এমন ভান করে যে, পর্নোগ্রাফির ঘোর বিরোধী। কিন্তু তলে তলে অজস্র গোপন প্রাপ্তবয়স্ক সাইট ঘেঁটে দেখে ভিডিও খুঁজে বের করে যাতে যৌনপল্লীর লোকেশন বোঝা যায়। সেখানে কাজ করা যৌনকর্মীদের চিহ্নিত করে কোতল বা দাসী করার প্ল্যান করেছে ওরা। ফলে ওই মহিলাদের অপহরণ বা নৃশংস কায়দায় খুন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রবল। কিছু ভিডিওতে আবার মহিলাদের বিদেশিদের সঙ্গে যৌনক্রিয়ার দৃশ্য আছে, যা দেখে তালিবানের ক্রোধ বহুগুণ বেড়েছে।
দুদশক আগে আফগানিস্তান শাসনের সময় তালিবান মহিলাদের পশুরও অধম গণ্য করে সেরকম আচরণ করত। মহিলাদের চাকরি করা, পুরুষ ছাড়া বাড়ির বাইরে বেরনো নিষিদ্ধ ছিল। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ এর মধ্যে তাদের হুকুম অগ্রাহ্য করায় প্রকাশ্যে মেয়েদের খুন, নির্যাতন করত তালিবান।
মার্কিন সেনাবাহিনী প্রত্যাহারের জেরে গত মাসে আফগানিস্তান পুনর্দখলের পর তালিবান মুখপাত্র বলেছিল, নারী অধিকার ইসলামি আইন মেনে সুরক্ষিত থাকবে, তারা কাজে যেতে পারবে, মেয়েরা স্কুলে পড়তে যাবে। কিন্তু একাধিক মহিলা, মানবাধিকার কর্মীর দাবি, এটা স্রেফ মুখের কথা। নয়া তালিবান জমানায়ও মহিলাদের অত্যাচার সইতে হবে। বহু মহিলাকে কর্মস্থল থেকে ফেরত্ পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।
জুলাইয়েও কয়েকটি রিপোর্টে শোনা গিয়েছিল, তালিবান স্থানীয় ধর্মীয় নেতাদের যার যার এলাকার ১৫র বেশি, ৪৫ এর কম বয়সের মেয়ে, বিধবাদের তালিকা পাঠাতে বলেছিল, যাদের তালিবান জঙ্গিরা বিয়ে করবে।