সুনীতার অবসরের ঘোষণার পরই স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে - মহাকাশের বাইরে তাঁর জীবন কেমন হবে? বিশেষ করে কৌতূহল তৈরি হয়েছে, অবসরের পর কী ধরনের আর্থিক সুবিধা (Financial Benefits) পাবেন তিনি, তা নিয়ে।

সুনীতা উইলিয়ামস
শেষ আপডেট: 22 January 2026 13:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নাসার ভারতীয় বংশোদ্ভূত মহাকাশচারী সুনীতা উইলিয়ামস (Nasa Astronaut Sunita Williams) দীর্ঘ ২৭ বছরের যাত্রার পর অবসরের (Sunita William's Retirement) ঘোষণা করেছেন। গত ২৭ ডিসেম্বর, ৬০ বছর বয়সে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন তিনি। এক বিবৃতি দিয়ে নাসা তাঁর অবসরের কথা জানায়।
নাসার হয়ে তিনটি আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন (ISS) মিশনে অংশ নিয়েছিলেন সুনীতা। এই সময়ে তিনি একের পর এক মানব মহাকাশ অভিযানের রেকর্ড গড়েছেন। সব মিলিয়ে মহাকাশে কাটিয়েছেন ৬০৮ দিন - যা নাসার কোনও মহাকাশচারীর মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। শুধু তাই নয়, তিনি মোট ন’বার স্পেসওয়াক (Spacewalk) করেছেন। মহাকাশযানের বাইরে তাঁর কাটানো সময় ৬২ ঘণ্টা ৬ মিনিট। মহিলা মহাকাশচারীদের মধ্যে এটি সর্বাধিক এবং নাসার ইতিহাসে সামগ্রিকভাবে চতুর্থ স্থানে।
সুনীতার অবসরের ঘোষণার পরই স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে - মহাকাশের বাইরে তাঁর জীবন কেমন হবে? বিশেষ করে কৌতূহল তৈরি হয়েছে, অবসরের পর কী ধরনের আর্থিক সুবিধা (Financial Benefits) পাবেন তিনি, তা নিয়ে।
পেনশন পাবেন সুনীতা
নাসা থেকে সরাসরি কোনও পেনশন (Nasa Pension) পাবেন না সুনীতা উইলিয়ামস। তবে তিনি মার্কিন সরকারের ফেডারাল এমপ্লয়িজ রিটায়ারমেন্ট সিস্টেম বা এফইআরএস-এর (FERS) আওতায় পেনশন পাওয়ার যোগ্য। এই পেনশন নির্ধারিত হয় চাকরির মোট সময়কাল এবং সর্বোচ্চ বেতনের ধারাবাহিক তিন বছরের গড়ের উপর ভিত্তি করে।
কত টাকা পাবেন তিনি
নিয়ম অনুযায়ী, চাকরির প্রতি বছরের জন্য ‘হাই-থ্রি’ গড় বেতনের (High 3 Salary) প্রায় ১ শতাংশ পেনশন হিসেবে ধরা হয়। নাসায় জিএস-১৫ পদমর্যাদায় থাকা সুনীতা উইলিয়ামসের বার্ষিক আয় ছিল আনুমানিক ১.২০ থেকে ১.৩০ কোটি টাকা। সেই হিসেবে তাঁর ফেডারাল পেনশন বছরে প্রায় ৪৩,২০০ মার্কিন ডলার, অর্থাৎ ভারতীয় মুদ্রায় আনুমানিক ৩৬ লক্ষ টাকা হতে পারে বলে ধারণা। যদিও এই অঙ্ক সরকারি ভাবে প্রকাশ করা হয়নি। উল্লেখ্য, নাসায় তাঁর কর্মজীবনের পাশাপাশি মার্কিন নৌবাহিনীতে ক্যাপ্টেন হিসেবে কাজ করার সময়ও পেনশনের হিসাবে ধরা হবে।
আরও একাধিক সুবিধা
এফইআরএস পেনশনের পাশাপাশি সুনীতা উইলিয়ামস মার্কিন সোশ্যাল সিকিউরিটি স্কিমের অধীনেও মাসিক ভাতা পাবেন। এছাড়া অবসরের পরও তাঁর সঙ্গে থাকবে একাধিক সুবিধা যেমন - ফেডারাল স্বাস্থ্য বিমা, জীবন বিমা, থ্রিফট সেভিংস প্ল্যান (টিএসপি)-এর সঞ্চয় এবং আজীবন চিকিৎসা ও মানসিক সহায়তা।
মহাকাশ জার্নি
সুনীতার (Nasa Astronaut Sunita Williams) মহাকাশযাত্রা শুরু ২০০৬ সালের ডিসেম্বরে। ডিসকভারি শাটলে ভেসে প্রথমবার মহাকাশে পৌঁছন তিনি। এক্সপিডিশন ১৪/১৫–র ফ্লাইট ইঞ্জিনিয়ার হিসাবে দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি সেই মিশনে চারটি স্পেসওয়াক করে বিশ্বরেকর্ড গড়েন। ২০১২ সালে দ্বিতীয় মিশনে ১২৭ দিনের জন্য মহাকাশে ছিলেন এবং ওই অভিযানে তাঁকে মহাকাশ স্টেশনের কমান্ডারের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
২০২৪ সালে তাঁর তৃতীয় ও শেষ মহাকাশযাত্রা ছিল বোয়িং স্টারলাইনারে চড়ে আইএসএস-এ পৌঁছনো। তাঁর সঙ্গী ছিলেন নভশ্চর বুচ উইলমোর। মাত্র ১০ দিনের জন্য পরিকল্পিত সেই মিশন শেষ পর্যন্ত যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে প্রায় ১০ মাস ধরে আটকে যায়। অবশেষে ২০২৫ সালের মার্চে ২৮৬ দিন পর পৃথিবীতে ফেরেন তাঁরা।
অতীত জীবন
ম্যাসাচুসেটসে জন্ম হলেও সুনীতার শিকড় ভারতের গুজরাতে। পদার্থবিজ্ঞানে স্নাতক করার পরে তিনি ফ্লোরিডা ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং ম্যানেজমেন্টে স্নাতকোত্তর হন। মার্কিন নৌসেনায় যোগ দিয়ে ৪০ ধরনের বিমানে ৪ হাজার ঘণ্টারও বেশি সময়ের উড়ান অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেন। ১৯৯৮ সালে নাসায় যুক্ত হওয়ার পর থেকে তাঁর সফলতার পথ আরও প্রশস্ত হয়।
অবসর প্রসঙ্গে তাঁর স্পষ্ট মত - এখন নতুন প্রজন্মের হাতে দায়িত্ব তুলে দেওয়ার সময় এসেছে।