Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
'বন্ধু' মোদীকে ফোন ট্রাম্পের! ৪০ মিনিট ধরে হরমুজ প্রণালী নিয়ে কী আলোচনা হল?লোকাল ট্রেনের টিকিটে বিরাট ছাড়! ৫ টাকার টিকিট এখন কত পড়বে? জেনে নিন বিস্তারিতTB Vaccine: যক্ষ্মা প্রতিরোধে কতটা সফল নতুন টিকা? ট্রায়ালের রিপোর্টে আশার আলোর পাশাপাশি উদ্বেগের সুর বিজ্ঞানীদের'বাঙালি ব্রিটিশদের সামনে মাথা নত করেনি, আর এই বহিরাগতরা আমাদের কী করবে?' বিজেপিকে তোপ অভিষেকেরসাইলেন্ট লাং ডিজিজ: কাশি মানেই কি ক্যানসার? দূষণে ফুঁসছে ফুসফুস, কখন দরকার ট্রান্সপ্লান্ট?'ইগো সরিয়ে রাখুন', নিজেদের মধ্যে মতভেদ সরিয়ে এক হয়ে লড়ার নির্দেশ অভিষেকেরভাইরাল ভিডিও হাতিয়ার করে শাহের তোপ! হুমায়ুনকে ‘দিদির এজেন্ট’ বলে কটাক্ষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরগরমে মেজাজ হারালেন কর্মীরা! চুঁচুড়ায় নিজের দলের লোকেদেরই বিক্ষোভের মুখে দেবাংশুবার্নল-বোরোলিন বিতর্ক, ‘লুম্পেনদের’ হুঁশিয়ারি দিয়ে বিপাকে ডিইও, কমিশনকে কড়া চিঠি ডেরেক ও’ব্রায়েনেরভাঁড়ে মা ভবানী! ঘটা করে বৈঠক ডেকে সেরেনা হোটেলের বিলই মেটাতে পারল না 'শান্তি দূত' পাকিস্তান

সুনীতাদের চেয়েও বেশি, মোট ৩১৩ দিন মহাকাশে ছিলেন ক্রিকালেভ! ফিরে দেখেন, তাঁর দেশটাই নেই

১৯৯১ সালের ১৮ মে সোভিয়েত ইউনিয়নের মহাকাশ স্টেশন ‘মির’-এ গবেষণার জন্য রওনা দিয়েছিলেন সোভিয়েত নভোচারী সের্গেই ক্রিকালেভ। এটি ছিল তাঁর জন্য রুটিন মিশন।

সুনীতাদের চেয়েও বেশি, মোট ৩১৩ দিন মহাকাশে ছিলেন ক্রিকালেভ! ফিরে দেখেন, তাঁর দেশটাই নেই

ফাইল চিত্র

শেষ আপডেট: 26 March 2025 15:01

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ১৯ মার্চ ২৮৬ দিন পর মহাকাশ থেকে পৃথিবীতে ফিরলেন নাসার দুই নভোচারী—ভারতীয় বংশোদ্ভূত সুনীতা উইলিয়ামস এবং বুচ উইলমোর। আট দিনের মিশনে গিয়ে আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনে আটকে পড়েছিলেন তাঁরা। তবে মহাকাশে দীর্ঘদিন আটকে পড়ার ঘটনা নতুন কিছু নয়। ইতিহাসে এমনও এক নভোচারী আছেন, যিনি পুরো ১০ মাস মহাকাশে কাটিয়েছিলেন, আর পৃথিবীতে ফেরার পর দেখেছিলেন, তাঁর দেশই আর নেই!  

১৯৯১ সালের ১৮ মে সোভিয়েত ইউনিয়নের মহাকাশ স্টেশন ‘মির’-এ গবেষণার জন্য রওনা দিয়েছিলেন সোভিয়েত নভোচারী সের্গেই ক্রিকালেভ। এটি ছিল তাঁর জন্য রুটিন মিশন, কিন্তু পৃথিবীর রাজনীতির নাটকীয় পরিবর্তন তাঁর পরিকল্পনাকে ওলটপালট করে দেয়। ১৯৯১ সালের ২৬ ডিসেম্বর ভেঙে যায় সোভিয়েত ইউনিয়ন, যার ফলে তাঁর দেশে ফেরার বিষয়টি অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।  

মির স্টেশনে নভোচারীদের পালা করে পাঠানো হতো, কিন্তু সোভিয়েত পতনের পর সেই কর্মসূচি বন্ধ হয়ে যায়। তৎকালীন সোভিয়েত রাশিয়ার আর্থিক সংকট এবং বাইকোনুর কসমোড্রোম (যেখান থেকে রকেট উৎক্ষেপণ হতো) কাজাখস্তানের নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ায় ক্রিকালেভের পৃথিবীতে ফেরার পরিকল্পনা পিছিয়ে দেওয়া হয় পাঁচ মাস। ফলস্বরূপ, অনিচ্ছাসত্ত্বেও তাঁকে ১০ মাস মহাকাশে কাটাতে হয়।  

মির মহাকাশ স্টেশনে নির্ধারিত রুটিন বজায় রাখলেও দীর্ঘসময় ভরশূন্য পরিবেশে থাকার কারণে ক্রিকালেভের শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়—পেশি দুর্বল হয়ে পড়ে, হাড় ক্ষয় হতে শুরু করে। সুনীতারা মহাকাশে থাকাকালীন বিভিন্নভাবে আনন্দ করলেও, ক্রিকালেভের কাছে সময়টা ছিল একদম ভিন্ন। রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে পৃথিবী থেকে খুব কম মানুষের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ হতো, ফলে একাকীত্ব ও মানসিক চাপ অনেক বেড়ে গিয়েছিল।  

তবে একমাত্র ভরসা ছিল হ্যাম রেডিও অপারেটররা। তিনি নিয়মিত পৃথিবীর বিভিন্ন অপেশাদার রেডিও অপারেটরদের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন। বিশেষ করে মার্গারেট ইয়াকুইন্টোর সঙ্গে দীর্ঘ আলাপচারিতা চলত তাঁর, যেখানে তাঁরা ব্যক্তিগত বিষয় থেকে শুরু করে রাজনীতিও আলোচনা করতেন। ইয়াকুইন্টোর কাছ থেকেই সেন্সরবিহীন খবর পেতেন তিনি, যা তাঁকে কিছুটা হলেও পৃথিবীর সঙ্গে সংযুক্ত রেখেছিল। ৩১৩ দিন মহাকাশে থাকার পর, ১৯৯২ সালের ২৫ মার্চ পৃথিবীতে ফিরেছিলেন ক্রিকালেভ। কিন্তু যে সোভিয়েত ইউনিয়ন ছেড়ে তিনি গিয়েছিলেন, সেটি আর অস্তিত্বে ছিল না! তাঁর ফেরা এক নতুন ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায়—সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে জন্ম নিয়েছিল একাধিক স্বাধীন রাষ্ট্র।  

মাধ্যাকর্ষণের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে তাঁকে দীর্ঘ ফিজিক্যাল থেরাপির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছিল। তবে তাঁর সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় মানিয়ে নেওয়া। আশ্চর্যজনকভাবে, যে ‘নাসা’-র সঙ্গে সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল, সেই নাসার নভোচারীদেরও প্রশিক্ষণ দিয়েছেন তিনি। এমনকি, ১৯৯৪ সালে মার্কিন-রুশ যৌথ মহাকাশ অভিযানে (STS-60) অংশ নেন।  

১৯৯৮ সালে তিনিই প্রথম দুই নভোচারীর একজন ছিলেন, যাঁরা আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (ISS) পা রাখেন। ২০০৭ সালে তিনি মহাকাশচারী হিসেবে অবসর নেন এবং পরে রাশিয়ার মহাকাশ সংস্থা ‘স্পেস কর্পোরেশন এনার্জিয়া’র ভাইস প্রেসিডেন্ট হন। ২০০৯ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ‘ইউরি গ্যাগারিন কসমোনট ট্রেনিং সেন্টার’-এর প্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু ইতিহাসে তাঁর নাম চিরস্থায়ী হয়ে থাকবে ‘শেষ সোভিয়েত নাগরিক’ হিসেবে, যিনি একসময় মহাকাশ থেকে নিজ দেশে ফেরার সুযোগ পেলেও দেখতে পেয়েছিলেন, সেই দেশ আর নেই।


```