দুর্ঘটনার আগের মুহূর্তগুলোই তাঁর ভাগ্য বদলে দেয়। গভীর রাতে যখন অন্যান্য যাত্রীরা ঘুমিয়ে পড়েছিলেন কিন্তু অনেক চেষ্টা করেও ঘুম আসছিল না শোয়েবের। একই জায়গায় বসে থাকতে বিরক্ত লাগায় তিনি নিজের সিট ছেড়ে গিয়ে চালকের পাশে গিয়ে বসে পড়েন।

সৌদি দুর্ঘটনায় একমাত্র জীবিত!
শেষ আপডেট: 18 November 2025 12:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মক্কা থেকে মদিনা যাওয়ার বাসযাত্রা- সাধারণ এক সফর। সেই স্বাভাবিক পথই হঠাৎ পরিণত হল মৃত্যুকূপে। সৌদি আরবে ভয়াবহ ওই দুর্ঘটনায় বাসের ভিতরেই আগুনে পুড়ে মৃত্যু হয় ৪৫ জন তীর্থযাত্রীর। তাঁদের মধ্যে অনেকেই ছিলেন ভারতীয়। কিন্তু ভাগ্যের অদ্ভুত খেলায় রক্ষা পান মাত্র একজন, হায়দরাবাদের ২৪ বছরের মোহাম্মদ আবদুল শোয়েব।
দুর্ঘটনার আগের মুহূর্তগুলোই তাঁর ভাগ্য বদলে দেয়। গভীর রাতে যখন অন্যান্য যাত্রীরা ঘুমিয়ে পড়েছিলেন কিন্তু অনেক চেষ্টা করেও ঘুম আসছিল না শোয়েবের। একই জায়গায় বসে থাকতে বিরক্ত লাগায় তিনি নিজের সিট ছেড়ে গিয়ে চালকের পাশে গিয়ে বসে পড়েন। সেখানে বসে চালকের সঙ্গে কথা বলছিলেন। ঠিক তখনই পিছন দিক থেকে একটি দ্রুতগতির ডিজেল ট্যাঙ্কার বাসটিকে প্রচণ্ড জোরে ধাক্কা মারে। সংঘর্ষের মুহূর্তে শোয়েব ও ড্রাইভার দু’জনেই পাশের জানলা ভেঙে বাইরে ঝাঁপ দেন। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই পুরো বাসটিতে আগুন ধরে যায়। ভিতরে থাকা অন্য ৪৫ যাত্রী আর বের হওয়ার সুযোগ পাননি। সেই আগুনেই ঝলসে মৃত্যু হয় তাঁদের।
দুর্ঘটনার পর ভোর ৫টা ৩০ মিনিট নাগাদ শোয়েব একটি ফোন করেন তাঁর আত্মীয় মহম্মদ তহসিনকে। ফোনে তিনি জানান, “আমি কোনওভাবে পালাতে পেরেছি… বাকিরা নেই।” এরপর শোয়েবের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। পরে খবর আসে, তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
হায়দরাবাদের আসিফনগরের বাসিন্দা শোয়েব একটি বেসরকারি সংস্থায় কাজ করেন। পরিবারকে নিয়ে তিনি গিয়েছিলেন উমরাহ পালন করতে। তাঁর বাবা আব্দুল খাদের, মা ঘৌসিয়া বেগম, দাদা মহম্মদ মৌলানা-সহ মোট ছ’জন আত্মীয় এই যাত্রায় তাঁর সঙ্গে ছিলেন। ভয়াবহ দুর্ঘটনায় তাঁদের কেউই প্রাণে বাঁচেননি।
আরও মর্মান্তিক হল, বাসটিতে একই পরিবারের তিন প্রজন্মের মোট ১৮ জন সদস্য ছিলেন। তাঁদের সবাই এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। নিহতদের একজন শইক নজিরউদ্দিন, যিনি ছিলেন রেলওয়ের অবসরপ্রাপ্ত কর্মী। তাঁর স্ত্রী, ছেলে-মেয়ে, নাতি-নাতনিরাও বাসে ছিলেন। তাঁর আরেক ছেলে আমেরিকায় থাকেন বলে জানা গেছে।
নজিরউদ্দিনের ভাইপো মহাম্মদ আসলম জানিয়েছেন, "পরিবারের ১৮ জন সদস্যই বাসে ছিলেন। এটা দুর্ঘটনা নাকি অন্য কিছু, আমরা জানি না। তবে কীভাবে এমন ভয়াবহ ঘটনা ঘটল, তার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া উচিত।" হায়দরাবাদ পুলিশ কমিশনার ভি.সি. সাজ্জনারের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, মৃতদের বেশিরভাগই হায়দরাবাদের বাসিন্দা।
এই দুর্ঘটনা শুধু একটি পরিবারকেই শেষ করেনি, ধ্বংস করে দিয়েছে বহু ঘর। তবে আব্দুল শোয়েবের বেঁচে যাওয়া যেন ভাগ্যের অলৌকিক খেলা, একটি সিদ্ধান্ত, কয়েক সেকেন্ড, আর সেই মুহূর্তের সতর্কতাই তাঁকে নতুন জীবন দিল।