
সৌদি আরব সম্প্রতি সমুদ্রের কাছে একটি তৈল খনিতে লিথিয়াম-এর খোঁজ পেয়েছে।
শেষ আপডেট: 19 December 2024 18:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো: 'আরব্য রজনী'র গল্পের মতোই এক অত্যাশ্চর্য সম্পদের খনির সন্ধান পেল সৌদি আরব। এমনিতেই তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের ভাণ্ডার সৌদি বিশ্ববাজারে এক বিরাট বিপণন ব্যবসা খুলে রেখেছে। তার উপর 'শ্বেতস্বর্ণ' (white gold) খনি খুঁজে পাওয়ায় একইসঙ্গে ডলার আমদানি ও দেশের অর্থনীতিকে আরও চাঙ্গা করার অবস্থায় পৌঁছে গেল সৌদি।
সৌদি আরব সম্প্রতি সমুদ্রের কাছে একটি তৈল খনিতে লিথিয়াম-এর খোঁজ পেয়েছে। চলতি কথায় লিথিয়ামকে হোয়াইট গোল্ড বলা হয়। দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত পেট্রলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিথিয়ামের খোঁজ মেলার পরেই একটি পাইলট প্রজেক্ট নিয়ে উত্তোলনের কাজও শুরু করে দিয়েছে। সৌদির খনি মন্ত্রকের উপমন্ত্রী জানান, তাঁরা খুব শীঘ্রই বাণিজ্যিকভাবেও লিথিয়াম খনিতে কাজ শুরু করতে চলেছেন।
এই কাজে লিথিয়াম ইনফিনিটি নামে একটি কোম্পানি খুলেছে কিং আবদুল্লা ইউনিভার্সিটি ফর সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি। সৌদির খনি বিভাগের সঙ্গে হাত মিলিয়ে তারা গবেষণা ও উত্তোলনের কাজ চালিয়ে যাবে। লোনা জল থেকে লিথিয়াম সংগ্রহ করে শোধন করার আরও উন্নত গবেষণা চলছে।
লিথিয়াম হল আধুনিক বিশ্ব সভ্যতার এক আশ্চর্য খনিজ পদার্থ। যা বিভিন্ন ব্যাটারিতে ব্যবহার করা হয়। বিদ্যুৎচালিত গাড়ি, ল্যাপটপ, স্মার্ট ফোনসহ যে কোনও ব্যাটারিতে লিথিয়াম কাজে লাগে। লিথিয়াম হল গোটা বিশ্বের ভবিষ্যৎ। খনিজ জ্বালানির ব্যবহারে যখন পরিবেশ দূষণ সহ জীবাশ্ম জ্বালানির ভাঁড়ার ফুরিয়ে আসছে, তখন লিথিয়াম হল আগামিদিনের শক্তির পুনর্জন্মের দিশা। লিথিয়াম হল বিরল ধাতব যা শ্বেতস্বর্ণ বা সাদা সোনা বলা হয়।
লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি ব্যবহার করা হয় প্রায় যাবতীয় বৈদ্যুতিন পণ্যে। যেমন- ইলেকট্রিক কার, ল্যাপটপ, স্মার্ট ফোন, ইমারজেন্সি লাইট, ব্যাটারিচালিত খেলনা সহ সবকিছুতে। আয়ন ব্যাটারির জনপ্রিয়তার মূল কারণ হল, এটা খুবই হালকা, প্রচুর শক্তি সঞ্চয় করে রাখা যায় এবং রিচার্জ করা যায়।