
হাদি মাটার এবং সলমন রুশদি
শেষ আপডেট: 22 February 2025 10:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২০২২ সালের আগস্ট মাস। নিউ ইয়র্কের (NewYork) একটি ইভেন্টে যোগ দিতে গিয়ে দুষ্কৃতী হামলার শিকার হয়েছিলেন বুকারজয়ী সাহিত্যিক সলমন রুশদি (Salman Rushdie)। সেই ঘটনায় অবশেষে দোষী সাব্যস্ত হামলাকারী হাদি মাটার (Hadi Matar)। যদিও এখনও তাঁর শাস্তি ঘোষণা করা হয়নি। আগামী এপ্রিল মাসে সেই ঘোষণা করবে আদালত।
মঞ্চে ভাষণ দেওয়ার সময় সলমন রুশদির ওপর ছুরি নিয়ে হামলা করেছিলেন হাদি। হামলার ফলে একটি চোখে দৃষ্টি হারিয়েছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত লেখক। একটি হাতও কাজ করে না ঠিক মতো। সেই ঘটনার প্রায় তিন বছর পর দোষী সাব্যস্ত করা হল হামলাকারীকে। আগামী ২৩ এপ্রিল নিউ ইয়র্কের আদালত হাদির শাস্তি ঘোষণা করবে। অনুমান করা হচ্ছে, হাদির ন্যূনতম ৩০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।
১৯৮৮ সালে প্রকাশিত হয় সলমান রুশদির (Salman Rushdie) বিখ্যাত উপন্যাস ‘স্যাটানিক ভার্সেস’। তারপরই মৌলবাদীদের রোষের মুখে পড়েন তিনি। ধর্মদ্রোহের অভিযোগ তুলে তাঁর বিরুদ্ধে মৃত্যু পরোয়ানা জারি করা হয়। ওই বইতে ইসলাম ধর্মের অবমাননা করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। এরপর থেকেই লেখক প্রায় ১৩ বছর বেনামে কাটিয়েছেন। পুলিশি পাহারাতেই থাকছিলেন তিনি। তাও নিউ ইয়র্কের অনুষ্ঠানে নিরাপত্তার ফাঁক গলে তাঁর ওপর হামলা চালাতে সক্ষম হয়েছিল হাদি।
কে এই হাদি মাটার
নিউ জার্সির ফেয়ারভিউ-এর বাসিন্দা ২৪ বছরের হাদি। তার মা সিলভানা ফারদোস পুলিশকে বলেছিলেন, লেবাননবাসী বাবার সঙ্গে দেখা করতে লেবানন পাড়ি দিয়েছিল হাদি। কিন্তু সেখান থেকে ফেরার পরেই তার আচার আচরণে বদল আসে। একটা ঘরে নিজেকে বন্দি করে ফেলেছিল। কারও সঙ্গে কথা বলত না। রাত হলেই বাড়ির বাইরে বেরিয়ে যেত। ধর্মীয় বিষয় নিয়ে আগ্রহ বেড়েছিল। কিন্তু কাদের প্ররোচনায় ও কেন সে সলমন রুশদিকে খুন করার চেষ্টা করল তা এখনও কেউ বুঝতে পারছেন না।
ঘটনার দিন ঠিক কী হয়েছিল
সলমন যে অনুষ্ঠানে ছিলেন সেখানে আড়াই হাজারের বেশি দর্শক ছিল। তিনি বক্তৃতা শুরু করতেই মঞ্চে উঠে পড়ে হাদি। পরনে ছিল কালো পোশাক, মুখ ঢাকা কালো মাস্কে। এর পরেই আচমকা ছুরি দিয়ে বার বার রুশদির ঘাড়ে, গলায় কোপ বসাতে থাকে সে। আয়োজকরা ছুটে আসতে আসতেই ১০-১৫ টা ছুরির কোপ বসিয়ে দিয়েছিল হাদি।