.jpeg)
বৈঠকের সেই মুহূর্তের ছবি।
শেষ আপডেট: 29 November 2024 17:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ক্ষমা চাইলেন জার্মানির প্রাক্তন চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেলের কাছে। বৃহস্পতিবার ক্ষমাভিক্ষা চেয়ে পুতিন বলেছেন, তাঁকে (অ্যাঞ্জেলা মার্কেল) ভয় দেখানোর উদ্দেশ্য তাঁর ছিল না। ২০০৭ সালে একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে পুতিন পোষা ভীষণ আকৃতির ল্যাব্রাডর প্রজাতির কুকুরকে আলোচনার ঘরে ছেড়ে রেখেছিলেন।
মার্কেলের পশুভীতি সকলের কাছেই পরিচিত ছিল। জার্মানির প্রাক্তন এই মহিলা চ্যান্সেলর যে কোনও পশু বিশেষত কুকুরকে মারাত্মক ভয় পেতেন। মঙ্গলবার প্রকাশিত তাঁর এক স্মৃতিকথায় মার্কেল ২০০৭ সালের সেই পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের দিনটির কথাও উল্লেখ করেছেন। তাতে তিনি লিখেছেন, কী ভীষণ ভয় সেদিন পেয়েছিলেন তিনি। এখনও ভাবলে বুক কেঁপে ওঠে। মার্কেলের অভিযোগ, পুতিন সেদিন ইচ্ছা করেই ওই বিরাট ভীষণ-দর্শন কুকুরটিকে ছেড়ে রেখেছিলেন। তাঁকে ভয় দেখাতে পুতিন 'ক্ষমতা প্রদর্শন' করতে চেয়েছিলেন।
১৭ বছর ধরে মস্কোভা নদী দিয়ে অনেক জল বয়ে গিয়েছে। বৃহস্পতিবার কাজাখস্তানের আসটানায় এক সাংবাদিক সম্মেলনে মার্কেলের সেই স্মৃতিকথার প্রসঙ্গে ক্ষমা চেয়ে নেন পুতিন। তিনি বলেন, ইচ্ছাকৃতভাবে কোনও দোষ করেননি। এবং যা কিছু ঘটেছে তার জন্য ক্ষমা চান। পুতিন বলেন, আমি আবার মিডিয়ার মাধ্যমে তাঁকে বলতে চাই, অ্যাঞ্জেলা, প্লিজ আমায় ক্ষমা করো। আমি তোমার মনে ব্যথা দিতে চাইনি। পুতিন আরও বলেন, আলোচনার পরিবেশকে আরও স্বচ্ছন্দ করাই তাঁর উদ্দেশ্য ছিল, অস্বস্তি তৈরি করা নয়।
মার্কেল বলেছেন, সোচিতে আয়োজিত ওই বৈঠকে পুতিন ইচ্ছা করে তাঁর কালো ল্যাব্রাডর কোনিকে সেখানে আসতে দিয়েছিলেন। আন্তর্জাতিক মিডিয়ার ক্যামেরার সামনে তখন মার্কেলকে ভয়ে জড়োসড়ো হয়ে বসে থাকতেও দেখা গিয়েছে। পুতিনের কুকুর কোনি গিয়ে মার্কেলে গায়ের গন্ধ শোঁকে। তখন বেশ গুটিয়ে যান প্রাক্তন জার্মান চ্যান্সেলর।
মার্কেল আরও বলেছেন, পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের আগে জার্মানির বিদেশ আধিকারিকরা রুশ প্রশাসনের সকলকে নেত্রীর কুকুর-ভীতি নিয়ে সতর্ক করে দিয়েছিলেন। তাঁর কথায়, সেই সময় আমি পুতিনের চোখেমুখে এক অনাবিল আনন্দ দেখতে পেয়েছি। ভাবখানা এমন করেছিলেন যেন বেশ আনন্দ লাগছে তাঁর। এটা কি ক্ষমতার প্রদর্শন নয়, প্রশ্ন তুলেছেন মার্কেল।
মার্কেল আরও বলেছেন, ২০০৬ সালেও পুতিন একবার তাঁর সঙ্গে কুকুর নিয়ে মশকরা করেছিলেন। একটি সত্যকারের স্টাফড কুকুরের মূর্তি উপহার দিয়ে বলেছিলেন, এটা কিন্তু কামড়াতে পারে না। পুতিন অবশ্য ইচ্ছাকৃত নয় বলে সাফাই দিয়েছেন। পুতিনকে কোনি নামের কুকুরটি উপহার দিয়েছিলেন সের্গেই শোইগু, যিনি পরে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রী হয়েছিলেন।