দ্য ওয়াল ব্যুরো: আফগানিস্তানে চলতি তালিবানি নৈরাজ্যের শাসনের মধ্যেই আসরে নামল রাশিয়া। আফগানিস্তানের বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে তাজিকিস্তানে নিজেদের ঘাঁটিতে সামরিক মেশিনারি মোতায়েন করেছে ভ্লাদিমির পুতিনের দেশ। আফগানিস্তান-তাজিকিস্তান সীমান্তের কাছেই ওই ঘাঁটি। সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের পাঠানো একটি ভিডিওতে তাজিকিস্তানের ওই ঘাঁটিতে একটি রুশ ইনফ্যান্ট্রি ফাইটিং ভেহিকল (আইএফভি) আনলোড করতে দেখা গিয়েছে। সেই যানের গায়ে লেখা রাশিয়ান ডিফেন্স মিনিস্ট্রি।
সম্ভবতঃ আফগানিস্তানের সাম্প্রতিক ঘটনাবলীতে এটাই প্রথম উল্লেখ করার মতো কোনও সামরিক পদক্ষেপ। ঘটনাচক্রে রাশিয়া যেদিন সামরিক তত্পরতা শুরু করল, সেদিনই তাজিকিস্তান সবচেয়ে বড় সামরিক কুচকাওয়াজ করেছে বলে খবর। তাজিকিস্তানের গোটা সেনাবাহিনী তাতে সামিল হয়। তিন ঘন্টার কুচকাওয়াজে অংশ নিতে ১ লাখ সক্রিয় সামরিক জওয়ান তৈরি ছিলেন। পাশাপাশি বাড়তি আরও ১ লাখ ৩০ হাজার জওয়ানকে নিয়ে আসা হয় সামরিক রিজার্ভ বাহিনী থেকে। তাজিকিস্তানের প্রেসিডেন্ট দেশবাসীকে সাবধান করে দিয়ে বলেছেন, আমাদের তৈরি থাকতে হবে যাতে বহু মূল্যের বিনিময়ে অর্জিত শান্তি, স্থিতিশীলতা রক্ষা করতে পারি।
মার্কিন নেতৃত্বাধীন বাহিনী আফগানিস্তান ছাড়তেই তালিবান ২০০১ এ হাতছাড়া হওয়া জমানা পুনরায় প্রতিষ্ঠা করতে মাঠে নেমে পড়ে। আফগানিস্তানের বিস্তীর্ণ ভূখন্ড তারা দখল করে ভীতির রাজত্ব কায়েম করেছে বলে নানা সূত্রের খবর। তাজিকিস্তানের সঙ্গে সীমান্ত এলাকাও নাকি তাদের কব্জায়। ওই অঞ্চলের দেশগুলি কড়া নজর রাখছে, আফগানিস্তানের অশান্তির রেশ সীমান্ত পেরিয়ে তাদের ভূখন্ডে চলে আসবে না তো! রুশ মিডিয়া তালিবানের এক মুখপাত্রকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, আফগান সীমান্তের ৯০ শতাংশ সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে এখন। জাবিউল্লাহ মুজাহিদ নামে তালিবান মুখপাত্রটি রুশ সংবাদ সংস্থা রিয়া নোভস্তিকে বলেছে, তাজিকিস্তান, উজবেকিস্তান, তুর্কমেনিস্তান, ইরানের সঙ্গে আফগানিস্তানের সীমান্ত বা বলতে গেলে সীমান্তের ৯০ শতাংশই আমাদের হাতে। যদিও তার এহেন দাবির সত্যতা নিরপেক্ষতার সঙ্গে খতিয়ে দেখা সম্ভব হয়নি।