
দূতাবাস থেকে খোলা হচ্ছে মুজিবের মূর্তি
শেষ আপডেট: 6 August 2024 17:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশে যে অচলাবস্থা চলছে তার আঁচ গিয়ে পড়েছে আমেরিকাতেও। শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছাড়ার পর বাংলাদেশে দেদার ভাঙা হয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মূর্তি। শুধু ভাঙা নয়, সেই মূর্তির অংশ নিয়ে উল্লাস করেছেন আন্দোলনকারীরা। সেই উত্তেজনার আঁচ দেখা গেল আমেরিকাতেও। সেখানের বাংলাদেশের দূতাবাসে ঢুকে বিক্ষোভ দেখান আন্দোলনকারীরা। দেওয়াল থেকে টেনে নামিয়ে দেওয়া হয় বঙ্গবন্ধুর ছবিও।
মঙ্গলবার আমেরিকার নিউইয়র্কে বাংলাদেশি দূতাবাসে ঢুকে গিয়ে বিক্ষোভ দেখান বেশ কয়েকজন হাসিনা বিরোধী। তাঁদের হইচইয়ের ফলেই শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি দেওয়াল থেকে নামিয়ে দিতে বাধ্য হন দূতাবাসের আধিকারিকরা। এই ঘটনার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। তাতে দেখা গেছে, যারা বিক্ষোভ দেখাতে এসেছিলেন তাদের সকলের মাথায়, হাতে ছিল বাংলাদেশের পতাকা আঁকা টুপি, কাপড়। বেশ কিছুক্ষণ ধরেই দূতাবাসের ভিতর হইহট্টগোল চলে। যদিও এই ইস্যুতে আমেরিকা এখনও মুখ খোলেনি।
Bangladeshi protestors storm the Bangladesh consulate in New York and force down the portrait of Mujib pic.twitter.com/ziFbj0TiqH
— Journalist V (@OnTheNewsBeat) August 6, 2024
শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ছাড়ার পর তাঁর বাসভবনে ঢুকে দেদার লুটপাট চালিয়েছে আন্দোলনকারীরা। বালিশ, চেয়ার, শাড়ি থেকে শুরু করে গাছ, মুরগি এমনকী গণভবন লেখা বোর্ডও লুটে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, দেশের বিভিন্ন জায়গায় বঙ্গবন্ধুর মূর্তি ভাঙা হয়েছে। একই সঙ্গে, ৩২ নম্বর ধানমান্ডির মুজিবুরের সেই বাড়িতেও হামলা করা হয়েছে।
ইতিমধ্যেই আন্দোলনকারীদের দাবি মেনে বাংলাদেশের সংসদ ভেঙে দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মহম্মদ সাহাবুদ্দিন। তবে সেনা প্রধানের আশ্বাসের পরও বাংলাদেশের পরিস্থিতি এখনও স্বাভাবিক হয়নি। গত দু'দিনে নিহতের সংখ্যা দেড়শ ছাড়িয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সেনা প্রধান আগেই জানিয়েছিলেন, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। তবে তাতে পরিস্থিতির বিশেষ উন্নতি হয়নি।
প্রসঙ্গত, আন্দোলনকারীদের চাপে সোমবার দুপুরে বাংলাদেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হন প্রধানমন্ত্রী হাসিনা ও তাঁর বোন। যাওয়ার আগে রাষ্ট্রপতির কাছে ইস্তফাপত্রও দিয়ে যান হাসিনা। তারপরই সোমের দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে দখল নিয়েছিল আন্দোলনকারীরা। একই সঙ্গে আন্দোলনকারীরা এও জানিয়েছিলেন, সেনার নেতৃত্বাধীন সরকার চান না তাঁরা।