
প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকা চার প্রার্থী বিক্রমাসিংহে, সাজিথ প্রেমাদাসা, অনুড়া কুমার দিসানায়েক, নমল রাজাপক্ষে
শেষ আপডেট: 21 September 2024 11:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মাত্র দু-বছর আগে মহাপ্রতাপশালী পরিবারটিকে দেশ ছেড়ে পালিয়ে মালয়েশিয়ায় আশ্রয় নিতে হয়েছিল। বাংলাদেশে শেখ হাসিনাকে উৎখাতের পর যেভাবে গণভবনের দখল নিয়েছিল মানুষ শ্রীলঙ্কার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট গোটাবায়া রাজাপকসে ও তাঁর ভাই প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দ্রার প্রাসাদ। দু-বছরের মাথায় সেই শ্রীলঙ্কায় দেশের কর্ণধার নির্বাচনে আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে সেই গোটাবায়া পরিবারই। মাহিন্দ্রার পুত্র নামাল রাজাপকসে গোটা পরিবারের হয়ে এবারের নির্বাচনে প্রার্থী। কাকা গোটাবায়া ও বাবা মাহিন্দ্রা তাঁর হয়ে জোরদার প্রচার চালিয়েছে বিনা বাধায়। শনিবার সকাল থেকে সে দেশে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে।
মাত্র ৩৮ বছর বয়সি নামাল বিশাল নিরাপত্তা বেষ্টিত হয়ে প্রচার চালিয়েছেন। শ্রীলঙ্কার সঙ্গে রাজাপাকসে পরিবারের সম্পর্ক চুকে গিয়েছে বলে যা মনে করা হয়েছিল মাত্র দু-বছরেই তা মিথ্যা প্রমাণিত করেছে শ্রীলঙ্কার রাজনীতি ও ক্ষমতার অলিন্দে ডালপালা ছড়ানো ওই পরিবারটি। স্বৈরশাসকদের বিরুদ্ধে ক্ষোভের আগুন উবে গিয়েছে মাত্র দু-বছরেই।
রাজাপাকসেরা দেশ ছাড়ার পর শ্রীলঙ্কার অন্তর্বর্তী সরকারের মাথায় বসেছিলেন বিরোধী শিবিরের সাংসদ রনিল বিক্রমসিংহে। দু-বছরে শ্রীলঙ্কার অর্থনীতির চাকা অনেকটা ঘোরাতে সম্ভব হয়েছেন তিনি। দু বছরের কাজকে পুঁজি করে এবার পুরোদস্তুর নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি হতে প্রার্থী হয়েছেন তিনি। প্রচারে রনিল প্রমাণ করেছেন তিনি লড়াইয়ে আছেন। যদিও বিপুল পরিবার কর চাপিয়ে এবং জ্বালানি তেল ও রেশনে ভরতুকি কমিয়ে বহু মানুষের ক্ষোভের কারণ হয়েছেন।
প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন আর এক সাবেক রাষ্ট্রপতির পুত্র সাজিথ প্রেমাদাসা। লড়াইয়ে আছেন তিনিও। বামপন্থী দল ন্যাশনাল পিপলস পাওয়ার পার্টি অনেকদিন পর শ্রীলঙ্কার রাজনীতিতে ঘুরে দাঁড়াতে চাইছে। ওই দলের প্রার্থী অনুড়া কুমার দিসানায়েকের সভাতেও ভাল ভিড় হয়েছে।
ভোটে যে দলই শেষ পর্যন্ত জিতুন না কেন, শ্রীলঙ্কার এই নির্বাচনে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে আলোচনায় সেই রাজাপকসে পরিবার। গণঅভ্যুত্থানের মুখে গোয়াবায়া এবং প্রেমদাসা পালিয়ে যাওয়ার কিছুদিন পরই আবার দেশে ফিরেছেন, তাই-ই শুধু নয়, রীতিমতো বিশাল সরকারি বাংলোয় নিরাপত্তার ঘেরা়টোপে বাস করছেন দুই ভাই। প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ও প্রাইম মিনিস্টার হিসাবে মোটা টাকা পেনশন পান।
শুধু রাষ্ট্রপতি আর প্রধানমন্ত্রীর পদই নয়, রাজাপকসে পরিবারের এক ভাই ছিলেন শ্রীলঙ্কার প্রতিরক্ষা মন্ত্রী, আর একজন সংসদের স্পিকার। এছাড়া রাজাপকসে পরিবারের লোকেরাই সেনা ও পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন। ১৭ বছর একটি পরিবার দেশ শাসন করার পর গণ অভ্যত্থানের পর দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছিল। আবার কয়েক মাসের মধ্যে দেশে তাঁদের রাষ্ট্রীয় খরচে পুনর্বাসন হওয়ায় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে জনমনে স্বৈরশাসকদের বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভের মেয়াদ কতদিন।
শ্রীলঙ্কার রাজনৈতিক মহলের খবর, সংসদে দলের একমাত্র সদস্য থাকা রনিল বিগত দু-বছরে দেশের হাল অনেকটাই ফিরিয়েছেন। তাঁকে দেশবাসী পাকাপাকিভাবে চায় কি না সেটা ভোটের ফলে জানা যাবে। তবে তাঁর সাফল্য অনেকটা মলিন হয়ে গিয়েছে গোটাবায়া পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে। অভিযোগ, গোটাবায়া পরিবারের পুনর্বাসনের পিছনে রনিলের হাত ছিল। এই সুযোগেই দ্বিতীয় প্রজন্মের প্রতিনিধি প্রেমদাসার পুত্র নামিল নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তিনি যদি নাও জেতেন, মুখ রাখার মতো ভোট পেলেও ধরে নেওয়া হবে স্বৈরশাসকদেরও মানুষ চিরদিনের মতো বিদায় করে না। অনেকের মতে, সেটা গণতন্ত্রের জন্য শুভ ইঙ্গিত। গণতন্ত্রে সকলের দরজা খোলা।