.webp)
শেষ আপডেট: 30 January 2024 21:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারত ও মলদ্বীপের 'বন্ধুত্বপূর্ণ' সম্পর্কের মেরামতি করতে হলে অবিলম্বে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে মলদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মুইজ্জুর নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়া উচিত বলে মনে করেন সে দেশের বিরোধী দলনেতা জুমহুরি পার্টির(জেপি) কাসিম ইব্রাহি।
সংবাদ সংস্থা সূত্রের খবর, এ ব্যাপারে তিনি ব্যক্তিগত ভাবে প্রেসিডেন্টের কাছে আর্জিও জানিয়েছেন। আগামীদিনে সংসদেও এই বিষয়টি দলগতভাবে তাঁরা পেশ করবেন বলে পরিকল্পনা করছেন।
সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কাসিম ইব্রাহি বলেন, "চীন সফরের পর প্রধানমন্ত্রী মোদী সম্পর্কে মলদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মুইজ্জু যে ধরনের মন্তব্য করেছেন তার জন্য ওঁর অবিলম্বে ক্ষমা চাওয়া উচিত। প্রতিবেশী দেশের প্রধানের সম্পর্কে এই ধরনের আচরণ ঠিক নয়। মলদ্বীপ থেকে ভারতের সেনা সরানোর যে নির্দেশ মুইজ্জি দিয়েছেন তাও প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি।"
ঘটনার সূ্ত্রপাত, সম্প্রতি ভারতের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল লাক্ষাদ্বীপে গিয়েছিলেন মোদী। সেই সফরের বেশ কিছু ছবি এবং ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। লাক্ষাদ্বীপ পর্যটন নিয়ে প্রচারও করেন মোদী। তারপরেই মলদ্বীপের তিন মন্ত্রী নানারকম কুৎসিত মন্তব্য করেন। ওই তিন মন্ত্রী হলেন মরিয়ম শিউনা, মালশা শরিফ এবং মাহজ়ুম মাজিদ।
বিশেষ করে মন্ত্রী মরিয়ম শিউনা ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে এক্স হ্যান্ডেলের একটি পোস্টে 'জোকার' ও 'ইজরায়েলের হাতের পুতুল' বলে কটাক্ষ করেন। একই ধরনের আপত্তিজনক ভাষা ব্যবহারের অভিযোগ ছিল মলদ্বীপের বাকি দুই মন্ত্রীর বিরুদ্ধেও। এমনকী তাঁরা এও দাবি করেন সমুদ্র সৈকত ট্যুরিজমে মলদ্বীপের থেকে অনেক পিছিয়ে ভারত।
এই মলদ্বীপ বনাম লাক্ষাদ্বীপ দ্বন্দ্বের জল অনেকদূর গড়ায়। রীতিমতো প্রতিবাদের ঝড় ওঠে সোশ্যাল মিডিয়ায়। মলদ্বীপকে বয়কট করার ডাক দেন ভারতের নেটাগরিকরা। একটি ট্যুরিজম সংস্থাও ভারত থেকে মলদ্বীপগামী সমস্ত উড়ান বন্ধ করে দেয়। প্রতিবাদে সোচ্চার হন বলিউডের অভিনেতা থেকে শুরু করে প্রাক্তন ক্রিকেটাররা। সকলেই আওয়াজ তুলেছেন, বিদেশের বদলে দেশের দ্বীপগুলোতে যান। অক্ষয় কুমার থেকে সলমন খান, জন আব্রাহাম থেকে শ্রদ্ধা কপূর, সকলেরই দাবি—বয়কট করা হোক মলদ্বীপকে।
তারই মাঝে চীন থেকে মলদ্বীপে ফিরে ফের মোদী সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগ ওঠে মুইজ্জির বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, আগামী ১৫ মার্চের মধ্যে ভারতীয় সেনাকে মলদ্বীপ ছাড়ার সময় সীমা বেঁধে দিয়েছেন মুইজ্জি। তাঁর এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সেদেশে সংসদে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন বিরোধীরা।
বিরোধীদের বক্তব্য, মুইজ্জির চীন ঘনিষ্ঠতার জেরে ভারতের সঙ্গে মলদ্বীপের সুস্থ সম্পর্ক তলানীতে এসে ঠেকেছে। তাই দু'দেশের সম্পর্ক ঠিক করতে অবিলম্বে মোদীর কাছে মলদ্বীপের প্রেসিডেন্টের ক্ষমা চাওয়ার দাবি তুলেছেন সে দেশের বিরোধী দলনেতা।