
শেষ আপডেট: 7 March 2023 16:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মাতৃত্ব বরাবরই যথেষ্ট স্পর্শকাতর বিষয় ভারতে। মা না হলে নাকি নারীজন্ম (women) অপূর্ণই রয়ে যায়, একুশ শতকেও এমনটাই বিশ্বাস করেন অনেকে। পাশাপাশি, বিবাহবিচ্ছেদ (Divorce), একক মাতৃত্ব (single mother) এই বিষয়গুলি এখনও বেশিরভাগ মানুষ বাঁকা চোখেই দেখতে অভ্যস্ত। তবে এই ছবিটা বদলে গেছে পর্তুগালে (Portugal)। অসুখী দাম্পত্য থেকে বেরিয়ে এসে নিজের মতো করে জীবন কাটানো এখন স্বাভাবিক ব্যাপার সেদেশে। এমনকী, সন্তান মানুষ করার জন্যও আর সঙ্গীর পরোয়া করেন না এই দেশের মহিলারা।
পর্তুগালে এখন মাতৃত্বের জন্য বিয়ে কিংবা দাম্পত্য মোটেই জরুরি বিষয় নয়। বরং পুরুষ সঙ্গীকে 'ডিভোর্স' (Divorce) দিয়ে একা সন্তান মানুষ করাকেই বেছে নিচ্ছেন সে দেশের মহিলারা। আর এই বিচ্ছেদের পরিসংখ্যানও চমকে ওঠার মতো। গড়ে ১ হাজার জনের মধ্যে ২ থেকে ৪ জন প্রতিদিন বেরিয়ে আসেন অসুখী দাম্পত্য থেকে।
কিন্তু কীভাবে এই পরিবর্তন সম্ভব হল?
ঠিক যখন থেকে পর্তুগিজ মহিলারা সন্তান জন্মের পর তাঁদের জীবিকা নির্বাহকেই স্থান দেন সবার আগে, তখন থেকেই একটু একটু করে স্বাবলম্বী হতে শুরু করেন তাঁরা। উচ্চশিক্ষার পর পূর্ণ সময়ের কাজ শুরু করার হাত ধরেই পুরুষ-মহিলার রোজগারের ক্ষেত্রে বৈষম্যও কমতে শুরু করে।
আর্থিক স্বাবলম্বনের পাশাপাশি ফারাক এসেছে বিয়ের বয়সেও। আগে মহিলাদের বিয়ের গড় বয়স ২৭ হলেও এখন তা বেড়েছে যথেষ্টই। পরিণত বয়সে বিয়ে করার ফলে পুরুষের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রেও মহিলাদের মতামত অগ্রাধিকার পাচ্ছে। অপছন্দের সঙ্গীর সঙ্গে এক ছাদের তলায় থাকার চেয়ে একা থাকাকেই বেছে নিচ্ছেন তাঁরা।
সম্প্রতি আরও এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে ১০০ জন দম্পতির মধ্যে ৯১ জন দম্পতিই আর একসঙ্গে থাকতে স্বচ্ছন্দ নন। অর্থাৎ প্রতি ১০টি বিয়ের ৮টির শেষ পরিণতি 'বিচ্ছেদ'! ফলে একা থাকাকেই স্বাভাবিক হিসেবে মেনে নিচ্ছেন পর্তুগালের মহিলারা।
তবে একা সন্তান মানুষ করার জন্য পর্তুগীজ মহিলারা সরকারের তরফ থেকে আরও একটু সহযোগিতা আশা করছেন। চাকরিরতা মায়েরা যাতে নিশ্চিন্তে রেখে যেতে পারেন তাঁদের সন্তানকে তার জন্য সরকারের 'শিশু কল্যাণ' দফতরকে আরও বেশি সক্রিয় হওয়ার দাবি পর্তুগিজ 'সিঙ্গল মাদার'দের।
‘রং বরসে..’ গানের তালে উদ্দাম নাচ কোহলিদের, উৎসবে মাতোয়ারা দল, দেখুন ভিডিও