গণঅভ্যুত্থানকারী জেন জি (Gen Z) প্রতিনিধিরা সংসদ ভেঙে দেওয়ার পক্ষে অনড় এবং সংবিধানের আমূল পরিবর্তনের দাবিতে অবিচল থাকায় শুক্রবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনও ফয়সালা হতে পারেনি।

রাজনৈতিক নেতৃত্বের সঙ্গে মতানৈক্য বাধছে জেন জি প্রতিনিধিদের।
শেষ আপডেট: 12 September 2025 18:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নেপালে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন প্রক্রিয়া এখনও চলছে। গণঅভ্যুত্থানকারী জেন জি (Gen Z) প্রতিনিধিরা সংসদ ভেঙে দেওয়ার পক্ষে অনড় এবং সংবিধানের আমূল পরিবর্তনের দাবিতে অবিচল থাকায় শুক্রবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনও ফয়সালা হতে পারেনি। নেপাল সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কিকে অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রায় সকলেই মেনে নেওয়ার পরেও রাজনৈতিক নেতৃত্বের সঙ্গে মতানৈক্য বাধছে জেন জি প্রতিনিধিদের। এই অবস্থায় নেপালের রাষ্ট্রপতির বাসভবন শীতল নিবাসে আলাপ-আলোচনা চলছেই। এদিকে, পরিস্থিতির কোনও উন্নতি হচ্ছে না দেখে দেশে জরুরি অবস্থা জারির প্রস্তুতি নিচ্ছে সেনাবাহিনী।
রাষ্ট্রপতির কার্যালয় থেকে সূত্রে জানা গিয়েছে, সেনাবাহিনী রাষ্ট্রপতি রামচন্দ্র পৌডেলকে জরুরি অবস্থা জারির সুপারিশ করেছে। সেনাবাহিনী বলেছে, যদি প্রেসিডেন্ট ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে আলোচনা ব্যর্থ হয় এবং এই মুহূর্তে নতুন সরকার গঠন সম্ভব না হয়, তাহলে দেশে শান্তি বজায় রাখতে জরুরি অবস্থা জারির নির্দেশ দেওয়া হোক।
শীতল নিবাস সূত্র জানাচ্ছে, সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসতে রাষ্ট্রপতি লাগাতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। জেন জি-দের দেওয়া সব প্রস্তাব মেনে নিতে রাজি হয়েছেন পৌডেল। এখন ওদের উচিত দেশের সাংবিধানিক পদমর্যাদাকে রক্ষা করা। সংবিধানের ৬১ (৪) ধারা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি সুশীলা কার্কির নাম অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রস্তাব রেখেছেন। নতুন মন্ত্রিপরিষদ ও প্রধানমন্ত্রীর সুপারিশক্রমে নতুন ভোট ঘোষণার ব্যাপারেও সম্মত হয়েছেন।
রাষ্ট্রপতি আন্দোলনকারীদের বুঝিয়েছেন, নতুন নির্বাচন ঘোষণা হলে আপনাআপনিই সংসদ অকার্যকরী হয়ে যায়। শীতল নিবাসের অন্দর সূত্রের খবর, পৌডেল এ ব্যাপারে প্রধান বিচারপতি, সংসদের দুই স্পিকারের সঙ্গে সাংবিধানিক রীতিনীতি নিয়ে আলোচনা করেই প্রস্তাব রেখেছেন আন্দোলনকারীদের সামনে। সরকারি আধিকারিকদের মতে, এভাবে এগোলে সাংবিধানিক ও আইনি সমস্যা হবে না। কিন্তু প্রেসিডেন্টের প্রস্তাব রাজনৈতিক দলগুলি মেনে নিতে রাজি নয়। একইসঙ্গে সেনাবাহিনী ও আদালতগুলিও এ বিষয়ে আপত্তি তুলেছে। তবে সকলেই একটি বিষয়ে একমত হয়েছে যে, পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়া উচিত।
নেপাল অর্গানাইজেশনের সভাপতি তথা জেন জি আন্দোলনের নেতা সুদান গুরুং বলেন, তাঁরা প্রথমেই পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়ার পক্ষে। কারণ, সংসদ ভেঙে না দিলে পুরনো মুখগুলোই আবার ফিরে আসবে। তাঁর অভিযোগ, আমাদের সরাসরি রাষ্ট্রপতির সঙ্গে কথা বলতে দেওয়া হয়নি। আমাকে রাষ্ট্রপতির সচিব এবং আইনি উপদেষ্টাদের সঙ্গে কথা বলতে দেওয়া হয়য আমি স্পষ্ট বলে দিয়েছি, আমি সোজা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করতে চাই, আপনাদের কাউকে আমি চিনি না। একইভাবে সুশীলা কার্কির সঙ্গেও কোনও কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়নি।
সব মিলিয়ে দেশের পরিস্থিতি যখন অকূল পাথারে তখন সেনাবাহিনী জরুরি অবস্থা জারির বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছে। তাদের মতে, এভাবে দিনের পর দিন বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি চলতে দেওয়া যেতে পারে না। এক সেনা কর্তা বলেন, শান্তিরক্ষার দায়িত্ব নিয়েছে সেনা। কিন্তু, সরকার না থাকার পরিস্থিতি যদি চলতেই থাকে তাহলে শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা করাও মুশকিল হয়ে পড়বে। তার থেকে ভাল জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা। সেনাবাহিনী শেষপর্যন্ত এদিন সন্ধ্যা পর্যন্ত অপেক্ষা করে দেখার বার্তা পাঠিয়েছে। তার মধ্যে সরকার গঠনের ফয়সালা করে একটি রফাচুক্তি সেরে ফেলতে বলেছে।