
Polio Paul - Iron Lung
শেষ আপডেট: 13 March 2024 16:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ৭৮ বছর বয়সে প্রয়াত হলেন পল আলেকজান্ডার যিনি 'পোলিও পল' নামে বেশি পরিচিত। না, কোনও অভিনেতা, পরিচালক, লেখক-শিল্পী কিছুই নন। পল আলেকজান্ডার সেই মানুষটির নাম, যিনি গত ৭০ বছর ধরে প্রায় ৭ ফুট লম্বা একটি লোহার খাঁচায়, বিজ্ঞানের ভাষায় নাম 'আয়রন লাং'এর ভিতরে কাটিয়েছেন। এটা কোনও সিনেমার গপ্প নয়, জীবনের নরক যন্ত্রণাভোগের এক জলজ্যান্ত দৃষ্টান্ত। আয়রন লাংয়ে সর্বোচ্চ দিন বেঁচে থাকার জন্য পলের নাম রয়েছে গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসেও।
১৯৫২ সালে আমেরিকায় ভয়াবহ পোলিও রোগ দেখা দেয়। তাতে আক্রান্ত হয় হাজার হাজার শিশু। সে সময়ই এই রোগে আক্রান্ত হন পল। তখন তাঁর বয়স ৬ বছর। পোলিওতে তিনি শুধুমাত্র পঙ্গু হন তাই নয়, পলের ফুসফুসটিও বিকল হয়ে যায়। তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে ডাক্তাররা এককথায় বাঁচার আশা নেই বলে জানিয়ে দেন পলে মাকে।
কিন্তু, এক ডাক্তার আশার আলো জাগিয়ে অস্ত্রোপচার করেন পলের। সেখানে তাঁর শ্বাসনালীতে একটি ফুটো করে মেশিনের মাধ্যমে কৃত্রিম পদ্ধতিতে পাম্প করে অক্সিজেন ঢোকানো হয়। সেই সময় এই মেশিনের নাম ছিল আয়রন লাং। আর তারপর থেকেই এই মেশিনের ভিতরে পল কাটিয়ে দেন ৭০টি বছর। কিন্তু, হেরে যাননি।
৬০০ পাউন্ড ওজনের আয়রন লাংসের ভিতরে থেকেই তিনি আইন পাশ করেন এবং বইও লেখেন। পলের নিজস্ব পেজ গোফান্ডমি-তে মঙ্গলবার তাঁর মৃত্যুর খবর প্রকাশ হয়। পলের এই জীবনযুদ্ধের কথা বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে মৃত্যু পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গা থেকে চিকিৎসা খরচ আসতে থাকে নিয়মিত। পলে ভাই ফিলিপ বলেছেন, যাঁরা ওর জন্য নিয়মিত অর্থ পাঠিয়েছেন, তাঁদের প্রতি আমি এবং আমাদের পরিবার কৃতজ্ঞ। তাঁদের দানেই ও এতদিন বেঁচে ছিল।
আয়রন লাংকে ব্যাঙের শ্বাসগ্রহণ প্রক্রিয়ার সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে। যেখানে গলার মাংসপেশির দ্বারা বাতাস শ্বাসনালীতে ঢোকে। তাতে রোগী একবারে মুখ ভর্তি বাতাস নিতে পারেন এবং তা ফুসফুসে পৌঁছে যায়। অস্ত্রোপচার করে সেই কৌশলেই পোলিও পলকে বাঁচিয়ে রেখেছিল চিকিৎসক সমাজ।