Date : 15th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
IPL 2026: টানা চতুর্থ হারে কোণঠাসা কেকেআর, ৩২ রানে ম্যাচ জিতল সিএসকে‘ভূত বাংলো’য় সেন্সর বোর্ডের কাঁচি! বাদ গেল ৬৩টি দৃশ্য, ছবির দৈর্ঘ্য কমতেই চিন্তায় অক্ষয়ভোটের ডিউটিতে কড়া নিয়ম! প্রিসাইডিং ও সেক্টর অফিসারদের জন্য একগুচ্ছ নির্দেশিকা কমিশনের'বন্ধু' মোদীকে ফোন ট্রাম্পের! ৪০ মিনিট ধরে হরমুজ প্রণালী নিয়ে কী আলোচনা হল?লোকাল ট্রেনের টিকিটে বিরাট ছাড়! ৫ টাকার টিকিট এখন কত পড়বে? জেনে নিন বিস্তারিতTB Vaccine: যক্ষ্মা প্রতিরোধে কতটা সফল নতুন টিকা? ট্রায়ালের রিপোর্টে আশার আলোর পাশাপাশি উদ্বেগের সুর বিজ্ঞানীদের'বাঙালি ব্রিটিশদের সামনে মাথা নত করেনি, আর এই বহিরাগতরা আমাদের কী করবে?' বিজেপিকে তোপ অভিষেকেরসাইলেন্ট লাং ডিজিজ: কাশি মানেই কি ক্যানসার? দূষণে ফুঁসছে ফুসফুস, কখন দরকার ট্রান্সপ্লান্ট?'ইগো সরিয়ে রাখুন', নিজেদের মধ্যে মতভেদ সরিয়ে এক হয়ে লড়ার নির্দেশ অভিষেকেরভাইরাল ভিডিও হাতিয়ার করে শাহের তোপ! হুমায়ুনকে ‘দিদির এজেন্ট’ বলে কটাক্ষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

বাংলাদেশে ভোটের নৌকায় উঠতে হুড়োহুড়ি, চর্চায় হাসিনার ‘স্বতন্ত্র’ কৌশল

ভোটে অংশ নিতে যাওয়া ২৭টি দলের মধ্যে ১৪টি’র প্রার্থীদের এবারও নৌকা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত নিয়ে চর্চা তুঙ্গে উঠেছে।

বাংলাদেশে ভোটের নৌকায় উঠতে হুড়োহুড়ি, চর্চায় হাসিনার ‘স্বতন্ত্র’ কৌশল

শেষ আপডেট: 14 December 2023 19:48

অমল সরকার 

বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর একমাসও বাকি নেই। ৭ জানুয়ারি ভোট হওয়ার কথা। সে দেশের নির্বাচন কমিশনে নথিভুক্ত ৪৪টি দলের মধ্যে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি-সহ ১৭টি পার্টি এবারের নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না। 

যদিও বিএনপির ভোট বর্জনের সিদ্ধান্ত ঘিরে চর্চা এখন চাপা পড়ে গিয়েছে তাদের লাগাতার হরতাল, অবরোধ কর্মসূচির ফলে। ব্যস্ত জনজীবনেই স্পষ্ট, বিরোধী দলের ডাকে সাড়া নেই। 
 
অন্যদিকে, ভোটে অংশ নিতে যাওয়া ২৭টি দলের মধ্যে ১৪টি’র প্রার্থীদের এবারও নৌকা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত নিয়ে চর্চা তুঙ্গে উঠেছে। আওয়ামী লিগ বাদে আরও ১৩টি দলের প্রার্থীদের নৌকায় উঠতে হুড়োহুড়ি ভোটমুখী দেশটিতে এখন প্রধান আলোচ্য।  

আওয়ামী লিগের নেতৃত্বাধীন সেই ১৪ দলের জোটে আছে জাতীয় পার্টি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল বা জাসদ, ওয়াকার্স পার্টির মতো বাংলাদেশের প্রথমসারির দল। যদিও সাংগঠনিক শক্তি এবং জনসমর্থনে আওয়ামী লিগের সঙ্গে বাকি দলগুলির এখন আর তুলনা করা চলে না। জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে, উন্নয়নের সপক্ষে লড়াইয়ের বার্তা দিয়ে ২০০৪ সালে তৈরি হয় ১৪ দলের জোট। 

কিন্তু প্রয়াত সেনা শাসক জিয়াউর রহমানের বিএনপি-র মতো আর এক সেনাধ্যক্ষ হুসেইন মহম্মদ এরশাদের তৈরি দল জাতীয় পার্টিও বাংলাদেশে সরকার চালিয়েছে। মন্ত্রিসভায় ছিলেন জাসদ, ওয়াকার্স পার্টির নেতারাও। আশ্চর্যের হল বিএনপি বিহীন ময়দানেও দেখা যাচ্ছে একদা এই সব শাসক দলের নেতাদের দলীয় শক্তিতে জিতে আসার ক্ষমতা নেই। ফলে হাসিনার নৌকার যাত্রী হতে তাঁর দলের তো বটেই শরিক দলের নেতাদের মধ্যেও হুড়োহুড়ি পড়ে গিয়েছে। এই তালিকায় বাংলাদেশের স্বনামধন্য রাজনীতিক জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু, ওয়ার্কাস পার্টির নেতা রাশেদ খান মেননের মতো নেতারাও আছেন। তাঁরা টানা দুই মেয়াদে মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া, জাতীয় পার্টির আনোয়ার হোসেন মঞ্জুও মন্ত্রী ছিলেন। 

কিন্তু তারা রাজনীতিতে ভেসে থাকলেও অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে দল। বর্তমান সংসদে আওয়ামী লিগের এমপি ২৫৮ জন। জোট শরিকদের মধ্যে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির ৩ জন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) ২ জন এবং আরও তিনটি দলের একজন করে সাংসদ আছেন। 

জানা গিয়েছে, জোটের বৈঠকে শরিক দলগুলির দুর্বলতা নিয়ে কথা শোনান আওয়ামী লিগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। বস্তুত সেই বাস্তবতা অর্থাৎ শরিক দলগুলির দুর্বল অবস্থার সুযোগ নিয়ে এবার জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনেই শেখ হাসিনার দল প্রথমে এক তরফা প্রার্থী ঘোষণা করে দিয়েছে। ১৪ দলের জোট থাকবে কি না, তা নিয়েই সংশয় দেখা দেয়। যদিও দলীয় সভাপতি তথা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানিয়ে দেন, জোট থাকবে, যৌথ পরিবারের অংশ হিসাবেই ভোটে লড়াই করবে আওয়ামী লিগ। 

নেত্রীর কথা মতো শরিকদের আসন দেওয়ার রাস্তা খোলা রাখা হয়েছে। আওয়ামী লিগ বহু প্রার্থীর কাছ থেকেই মনোনয়নপত্র বা প্রার্থীপদ প্রত্যাহারের ফর্মে আগাম সই করিয়ে রেখেছে। শরিকদের মধ্যে আসন সমঝোতায় ওই সব আসনগুলি থেকে কয়েকটি ছেড়ে দেবে বড় শরিক। কোন শরিককে কোন আসন ছাড়া হবে, কতগুলি আসন দেওয়া হবে, তা নিয়ে শেষ পর্যায়ের আলোচনা চালাচ্ছেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওয়াবদুল কাদের এবং উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য আমির হোসেন আমু। 

তবে সব কিছু ছাপিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী নিয়ে আলোচনাতেই বেশি মগ্ন মানুষ। এবার এখনও পর্যন্ত ৩০০ আসনে আওয়ামী লিগেরই স্বতন্ত্র বা নির্দল প্রার্থী আছে। নির্বাচনে ডামি প্রার্থী নতুন নয়। ভোটের দিন বিশেষ করে বুথের লড়াই জোরদার করতে অনেক দল এবং প্রার্থী ডামি বা নকল প্রার্থী দিয়ে  থাকে। বাংলাদেশের এবারের নির্বাচনে স্বতন্ত্র ঘটনা ঘটেছে। আওয়ামী লিগের স্বতন্ত্র প্রার্থীরা কেউই আসলে সেই অর্থে ডামি বা নকল নন, বরং পুরোদস্তুর আসল। যদিও তাঁরা পুরোদস্তুর নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর বিরুদ্ধে মরণপন লড়াই করবেন। ফলে এখনই জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনে আওয়ামী লিগের ৬০০ প্রার্থী আছেন। তাদের মধ্যে কে দলের প্রতীক পাবেন তা চূড়ান্ত হবে ১৮ ডিসেম্বর। মনোনয়ন বা প্রার্থীপদ প্রত্যাহারের শেষ দিন হল আগের দিন রবিবার।

চলতি হিসাবে অন্তত একশো আসনে আওয়ামী লিগের সরকারি প্রার্থীর সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থীর জোর টক্কর হবে এবং শেষ পর্যন্ত কে বাজিমাৎ করবেন নিশ্চিত করে বলা মুশকিল। সরকারি প্রার্থীর মতো স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও বুকে শেখ হাসিনার ছবি ঝুলিয়ে নিজেদের আওয়ামী লিগের প্রার্থী বলে প্রচার শুরু করেছেন। দলীয় সূত্রে খবর, কম করে একশো আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে এমন নেতারা লড়াই করছেন যারা দলীয় প্রার্থীকে হারাতে সক্ষম। 

আশ্চর্যের হল, নৌকায় নৌকায় ঠোকাঠুকি এবং আওয়ামী বনাম আওয়ামীর লড়াই ঘিরে বিচলিত নয় শাসক দল। দলীয় সূত্রের খবর, বিএনপি ভোটে না থাকলেও ফাঁকা মাঠে গোল দেওয়া আটকাতে স্বয়ং শেখ হাসিনা স্বতন্ত্র প্রার্থীর মুখে ঠেলে দিয়েছেন দলের বহু প্রার্থীকে। তিনি ইতিমধ্যে স্পষ্ট করে দিয়েছেন, শরিকদের যে আসনগুলি ছাড়া হবে সেখানে আওয়ামী লিগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থীরা সরে দাঁড়াবেন বটে, কিন্তু স্বতন্ত্র প্রার্থীদের দল প্রার্থীপদ প্রত্যাহার করতে বলবে না।  

আওয়ামী লিগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ দ্য ওয়াল’কে বৃহস্পতিবার টেলিফোনে বলেন, ‘কোনও প্রার্থী বা দল ফাঁকা মাঠে গোল দিক চায় না আওয়ামী লিগ। তাই আমাদের দলের প্রার্থীদের বিরুদ্ধেও শক্তিশালী স্বতন্ত্র প্রার্থীকে আমরা স্বাগত জানাচ্ছি।’ 

আওয়ামী লিগের এই নেতা আরও বলেন, নির্বাচন প্রতিযোগিতামূলক হলে মানুষ উৎসবের মেজাজে ভোট দেন। বাংলাদেশে নির্বাচনকে ঘিরে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণের উন্মাদনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।’ স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জিতলে কি আওয়ামী লিগেই যোগ দেবেন? হানিফ বলেন, ‘সেটা ভোট পরবর্তী বিষয়। আগে শক্তি যাচাই হোক। মানুষ যাঁকে চায় তিনি জিতে আসুন।’

দলীয় সূত্রের খবর, এই সিদ্ধান্ত স্বয়ং শেখ হাসিনার, যে সিদ্ধান্তে তাঁর দলের প্রার্থীদের পাশাপাশি বিপাকে পড়েছেন শরিক নেতারাও। তাঁদের বক্তব্য, আওয়ামী লিগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থীই শুধু সরে দাঁড়ালে হবে না, সরাতে হবে স্বতন্ত্র প্রার্থীকেও। তা না হলে শরিক নেতাদের জেতা কঠিন। কিন্তু শরিক দলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে হাসিনা সাফ জানিয়ে দেন, নির্বাচন প্রশ্ন বিদ্ধ হোক এমন কোনও কিছু করা যাবে না। যার যেখানে ইচ্ছা প্রার্থী হতে পারেন। 

আওয়ামী লিগ নেতৃত্ব এখনও পর্যন্ত এই ব্যাপারে সবুজ সংকেত দেয়নি। বরং শরিক নেতাদের বলা হয়েছে, সবাইকেই জেতার জন্য লড়াই করতে হবে। বিএনপি ময়দানে না থাকলেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং অংশগ্রহণমূলক ভোট হয়, সেটা প্রমাণ করতেই এই কৌশল। ছবিটা খানিকটা পরিষ্কার হবে রবিবার মনোনয়নপত্র প্রকাশের পর। আর হাসিনার লক্ষ্যপূরণ হয় কিনা জানা যাবে ৭ জানুয়ারি সন্ধ্যার পর ভোট গণনা শুরু হলে।


```