দ্য ওয়াল ব্যুরো : মঙ্গলবারের মধ্যে নেপাল কংগ্রেসের নেতা শের বাহাদুর দেউবাকে প্রধানমন্ত্রী পদে বসাতে হবে। সংসদের নিম্নকক্ষের অধিবেশনও বসবে ফের। সোমবার এই যুগান্তকারী রায় দিল নেপালের সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতি চলেন্দ্র শামসুর রানার নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের এক সাংবিধানিক বেঞ্চ এদিন মন্তব্য করে, প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলির পরামর্শে প্রেসিডেন্ট বিদ্যা দেবী ভাণ্ডারী যেভাবে সংসদের নিম্নকক্ষ ভেঙে দিয়েছিলেন, তা অসাংবিধানিক। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ, ১৮ জুলাই বিকাল পাঁচটার মধ্যে নিম্নকক্ষের অধিবেশন বসাতে হবে।
গত ২২ মে ২৭৫ সদস্যবিশিষ্ট নিম্ন আদালত ভেঙে দেন প্রেসিডেন্ট ভাণ্ডারী। এই নিয়ে পাঁচ মাসের মধ্যে দ্বিতীয়বার ভেঙে দেওয়া হয় জনপ্রতিনিধি সভা। সেই সঙ্গে ঘোষণা করা হয়, ১২ ও ১৯ নভেম্বরের মধ্যে অন্তর্বতী নির্বাচন হবে। গত সপ্তাহে ভোটের নির্দিষ্ট দিনক্ষণ ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। নিম্নকক্ষ ভেঙে দেওয়ার বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্টের কাছে ৩০ টি পিটিশন জমা পড়েছিল। আবেদনকারীদের মধ্যে ছিল নেপালি কংগ্রেসও। অপর একটি পিটিশনে বিরোধী জোটের ১৪৬ জন নেতা আবেদন করেছিলেন, ফের সংসদের নিম্নকক্ষের অধিবেশন ডাকা হোক। প্রধানমন্ত্রী হোন শের বাহাদুর দেউবা।
নেপালের কমিউনিস্ট পার্টিতে অন্তর্দ্বন্দ্বের ফলে ডিসেম্বরের শেষে সংকটে পড়ে কে পি শর্মা ওলি পরিচালিত সরকার। ২০ ডিসেম্বর প্রেসিডেন্ট ভাণ্ডারী সরকার ভেঙে দেন। ৩০ এপ্রিল ও ১০ মে নতুন নির্বাচন ঘোষিত হয়। ২৩ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ফের সংসদের নিম্নকক্ষের অধিবেশন ডাকা হয়।
কে পি শর্মা অলি একসময় সংসদে আস্থাভোটে হেরে গিয়েছিলেন। তিনি এখন সংখ্যালঘু সরকার চালাচ্ছেন। তাঁর বক্তব্য, নেপাল কমিউনিস্ট পার্টির কয়েকজন নেতা এখন সমান্তরাল সরকার চালাতে চান। সেজন্য নিম্নকক্ষ ভেঙে দেওয়া উচিত ছিল।
নেপালের রাজনীতিতে অস্থিরতা চলছে বেশ কিছুদিন ধরেই। একসময় বিরোধী দলনেতা শের বাহাদুর দেউবাকে পিছনে ফেলে নেপালের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছিলেন ওলি। কিন্তু কোভিড মোকাবিলা, দেশের অর্থনীতি সংক্রান্ত বিষয়ে ব্যর্থতার জন্য তাঁর উপর চাপ বাড়ছিল। নানা ক্ষেত্রেই অসন্তোষের শিকার হচ্ছিলেন প্রধানমন্ত্রী। পরিস্থিতি যেভাবে এগোচ্ছিল তাতে সরকার ভেঙে পড়ার সম্ভাবনাই তৈরি হয়েছিল।
কেপি শর্মা ওলিকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বহাল রাখা হলে আগামী দিনে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছিল নেপালের সমস্ত রাজনৈতিক দল। ওলির নিজের দল কমিউনিস্ট পার্টি অফ নেপালও ওলির ওপরে আস্থা রাখতে পারেনি।