
কুয়েতের এই বহুতলেই হয় অগ্নিকাণ্ড - ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 14 June 2024 11:39
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কুয়েতের বহুতলের অগ্নিকাণ্ডে ৪৫ জন ভারতীয়র মৃত্যু হয়েছে। সে দেশের সরকার এমনই তথ্য প্রকাশ করেছে সম্প্রতি। বৃহস্পতিবারই জানা গেছিল, মৃতদেহ দেশে ফেরাতে বায়ুসেনার তরফে একটি বিশেষ বিমানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেই বিমানই শুক্রবার দেশে এল। সকাল সাড়ে ১১টার কিছু পরে তা কেরলে পৌঁছয়। কেরল থেকে দিল্লি যাবে সেই বিমান।
ভারতীয় দূতাবাসের তরফে জানানো হয়েছে, যে বহুতলে আগুন লেগেছিল তাতে ১৭৬ জন ভারতীয় শ্রমিক ছিলেন। ৪৫ জনের মৃত্যু হয়েছে, তবে ৩৩ জন এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তারা কেউই আশঙ্কাজনক অবস্থায় নেই বলেই আশ্বস্ত করা হয়েছে। শেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মৃতদের মধ্যে ২৩ জন কেরলের। বাকিদের মধ্যে ৭ জন তামিলনাড়ু, ৩ জন উত্তরপ্রদেশ, ২ জন ওড়িশার এবং ১ জন করে বিহার, পাঞ্জাব, কর্নাটক, মহারাষ্ট্র, পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খণ্ড এবং হরিয়ানার বাসিন্দা।
বেশিরভাগ দেহই এমনভাবে পুড়েছে যে তাদের শনাক্ত করাই যাচ্ছে না। এই অবস্থায় নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ টেস্টের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গত বুধবার রাতেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কুয়েতের পরিস্থিতির ওপর নজর রাখতে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক করেন। এরপরই সদ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় বিদেশ প্রতিমন্ত্রী কীর্তিবর্ধন সিং কুয়েতে পৌঁছে যান। প্রথমে পোড়া দেহগুলি ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে শনাক্ত করার ব্যবস্থা করা হয়। তারপর বায়ুসেনার বিমানে করে তা দেশে ফিরিয়ে আনা হল।
A special IAF aircraft carrying mortal remains of 45 Indian victims in the fire incident in Kuwait has taken off for Kochi.
— India in Kuwait (@indembkwt) June 13, 2024
MoS @KVSinghMPGonda, who coordinated with Kuwaiti authorities ensuring swift repatriation, is onboard the aircraft pic.twitter.com/091hBNWzLL
কুয়েতের আহমেদি গভর্নরেটের মাঙ্গাফ ব্লকের একটি ৬ তলা বাড়িতে আগুন লাগে। তবে কী কারণে আগুন লেগেছে তা এখনও স্পষ্ট হয়নি। প্রাথমিক সূত্রে জানা গেছিল, গ্যাস লিক করে এই অগ্নিকাণ্ড হয়েছে। নিহত ভারতীয়দের পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় বাংলার যে বাসিন্দার মৃত্যু হয়েছে তাঁর নাম দ্বারিকেশ পট্টনায়ক (৫২)। দ্বারিকেশের আদি বাড়ি পশ্চিম মেদিনীপুরের দাঁতন- ২ ব্লকের তুরকাগড় এলাকায় হলেও দীর্ঘদিন ধরেই তাঁর পরিবার রয়েছে মেদিনীপুর শহরের শরৎপল্লী এলাকায়। রয়েছেন স্ত্রী অন্তরা ও এক মেয়ে ঐশী। সে একাদশ শ্রেণির ছাত্রী। মৃতের পরিবার সূত্রে খবর, প্রায় ২০ বছর ধরে কুয়েতে একটি সংস্থায় কাজ করতেন তিনি।