দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাকিস্তানের লাহোরে বেসরকারি স্কুলের মহিলা প্রিন্সিপালকে (women principal) ধর্মদ্রোহিতায় (blasphemy) দোষী ঘোষণা করে মৃত্যুদণ্ড আদালতের (court)। পয়গম্বর মহম্মদ (prophet mohammad) সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য করে ধর্মের অবমাননা করেছেন অভিযুক্ত তনভির, বলেছেন অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা বিচারক মনসুর আহমেদ। তনভিরকে ২৯ মার্কিন ডলার বা পাকিস্তানি মুদ্রায় ৫ হাজার টাকা জরিমানাও করেছেন তিনি।
২০১৩ সালে স্থানীয় এক মৌলবীর অভিযোগের ভিত্তিতে পাকিস্তানি দণ্ডবিধির ২৯৫ সি ধারায় তনভিরকে অভিযুক্ত করে লাহোর পুলিশ। পয়গম্বর মহম্মদই শেষ কথা, এটা মানতে না চেয়ে নিজেকেই তনভির ইসলামের পয়গম্বর বলে দাবি করেন বলে অভিযোগ করেছিলেন মৌলবী। তনভিরের কৌঁসুলি মহম্মদ রমজান সওয়াল করেন, আদালত যেন এটা মাথায় রাখে যে, তাঁর মক্কেলের মানসিক স্থিতি নেই। কিন্তু পাল্টা সরকার পক্ষ জানায়, পঞ্জাবের ইনস্টিটিউট অব মেন্টাল হেলথের আদালতে পেশ করা রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে, অভিযুক্ত মানসিক ভাবে বিকৃত নন, তিনি বিচারের মুখোমুখি হতেই পারেন।
পাকিস্তানের ঔপনিবেশিক আমলের ধর্মদ্রোহিতা আইন নিয়ে বহুদিন ধরে বিতর্ক চলছে। তার মধ্যেই প্রাক্তন একনায়কতন্ত্রী শাসক জেনারেল জিয়াউল হক আইন সংশোধন করে ভয়ঙ্কর, অতি মাত্রায় কঠোর শাস্তি চালু করেন। ২০১০-এ পাকিস্তানে শোরগোল ফেলেছিল একটি ধর্মদ্রোহিতা মামলা। আসিয়া নোরিন ওরফে আসিয়া বিবি নামে এক খ্রিস্টান মহিলা ধর্মদ্রোহিতায় দোষী ঘোষিত হন। ২০০৯ সালে একদল মহিলাই তাঁকে পয়গম্বর মহম্মদের অবমাননায় অভিযুক্ত করেন।
প্রায় এক দশক বাদে ২০১৮র অক্টোবরে আসিয়াকে পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাবে রেহাই দেয় পাকিস্তান সুপ্রিম কোর্ট। যদিও সেই রায় পুনর্বিবেচনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত দেশছাড়ার অনুমতি পাননি তিনি। আসিয়া বর্তমানে কানাডায় এক অজ্ঞাত স্থানে থাকেন।
১৯৮৭ সাল থেকে পাকিস্তানে ধর্মদ্রোহিতা আইনে অভিযুক্ত হয়েছে প্রায় ১৫০০ লোক। এরা আদালতে মামলা লড়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত হন কেননা আইনজীবীরাও ধর্মের মতো সংবেদনশীল ইস্যুতে ঢুকতে চান না।