দ্য ওয়াল ব্যুরো: সন্ত্রাসে (terror) আর্থিক মদতের (fiancial assistance) মামলায় ২৬/১১ মুম্বই সন্ত্রাসবাদী হামলার (mumbai attack) মাথা (mastermind) তথা লস্কর-ই-তৈবা (lashkar)প্রধান হাফিজ সঈদ (hafeez saeed) প্রতিষ্ঠিত জামাত-উদ-দাওয়ার (JUD) ৬ নেতাকে রেহাই দিল লাহোর হাইকোর্ট (lahore high court)। চলতি বছরের এপ্রিলে জামাতের ৫ শীর্ষ নেতা মালিক জফর ইকবাল, ইয়াহিয়া মুজাহিদ, নাসরুল্লাহ, সামিউল্লাহ, উমর বাহাদুরের প্রত্যেককে ৯ বছরের কারাদণ্ড দেয় সন্ত্রাস দমন আদালত। পাঞ্জাব পুলিশের সন্ত্রাস দমন শাখার দায়ের করা এফআইআরের ভিত্তিতে ৬ মাসের জেল হয় হাফিদ সঈদের ভায়রাভাই হাফিজ আবদুল রহমান মাক্কিরও। কিন্তু নিম্ন আদালতের সেই সাজা খারিজ করে সবাইকেই অব্যাহতি দিল লাহোর হাইকোর্ট।
কুখ্যাত ৬ জামাত নেতাকে সন্ত্রাসে আর্থিক সাহায্যদান, বিশেষ করে তহবিল সংগ্রহ করে লস্কর-ই-তৈবার অ্যাকাউন্টে পাঠানো, অর্থাত্ নিষিদ্ধ সন্ত্রাসবাদী সংগঠনকে বেআইনি ভাবে অর্থ দিয়ে পুষ্ট করায় দোষী সাব্যস্ত হয় তারা। সন্ত্রাসবাদে বিনিয়োগ করে পাওয়া অর্থের মাধ্যমে প্রাপ্ত তাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেয় নিম্ন আদালত। কিন্তু লাহোর হাইকোর্ট সবাইকে বেকসুর খালাস করে জানিয়ে দেয়, সরকারপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে এমন প্রমাণ পেশ করতে পারেনি যা সংশয়ের ঊর্ধ্বে।
প্রধান বিচারপতি মহম্মদ আমির ভাট্টি, বিচারপতি তারিক সালিম শেখের ডিভিসন বেঞ্চ অভিযোগের স্বপক্ষে কোনও তথ্যপ্রমাণ নেই, তাই সরকারপক্ষের মূল সাক্ষীর বক্তব্য ভরসাযোগ্য নয় বলে জানিয়ে ৬ জামাত নেতার পিটিশনে অনুমতি দেয়।
তাদের কৌঁসুলি হাইকোর্টে সওয়াল করেন, আবেদনকারীরা যে আল-আনফাল ট্রাস্টের সদস্য, তার সঙ্গে নিষিদ্ধ ঘোষিত লস্কর-ই-তৈবার কোনও সম্পর্কই নেই। যদিও সরকারপক্ষ সওয়াল করে, ওই ট্রাস্ট আসলে লস্করের ছায়া সংগঠন হিসাবে কাজ করে, পিটিশনাররা সেই ট্রাস্টের পদাধিকারী। কিন্তু সব অভিযোগ খারিজ করে আদালত।
প্রসঙ্গত, সঈদকে বিশেষ তালিকাভুক্ত বিশ্ব সন্ত্রাসবাদী বলে আগেই ঘোষণা করেছে আমেরিকা। তার মাথার দামও ১০মিলিয়ন ডলার ঘোষিত হয় ২০১২য়। তার আগে ২০০৮ এও সঈদকে রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদে গৃহীত প্রস্তাবে সন্ত্রাসবাদী তালিকায় ফেলা হয়।