
শেষ আপডেট: 16 December 2023 21:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লির দূষণকেও হারিয়ে দিয়েছে লাহোর। ভারতে দূষণের রাজধানী হয়ে উঠেছে দিল্লি। এমন গাঢ় ধোঁয়াশা যে তা কমাতে দিল্লিতে কৃত্রিম বৃষ্টি নামানোর সিদ্ধান্ত নিতে হয়। সূত্রের খবর, পাকিস্তানের লাহোরেও নাকি একই দশা। দূষণ এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে স্কুল-কলেজ বন্ধ করে দিতে হচ্ছে সরকারকে। তাই পাক সরকারকাও কৃত্রিম বৃষ্টি নামিয়ে দূষণ ধুচ্ছে।
পাক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, পাক পাঞ্জাব প্রদেশের দূষণ বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। লাহোর বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহর হিসেবে দিল্লির কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে। সেখানে বাতাসের গুণগত মান ৪৩১। সর্বোচ্চ দূষণের তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছে করাচি।
দূষণ কমাতে কৃত্রিম বৃষ্টি নামানোর পরিকল্পনা নেয় পাক সরকার। পাক পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী মোহসিন নাকভি বলেছেন, আরব আমিরশাহি এই কৃত্রিম বৃষ্টি নামাতে সাহায্য করেছে। তাদের দুটি বিশেষ বিমান আসে পাকিস্তানে। তারাই মেঘের বীজ বুনে দেয়। সেখান থেকে কৃত্রিম বৃষ্টি হয়।
কৃত্রিম মেঘ তৈরি করা বা রোপন করার পদ্ধতিকে বিজ্ঞানের ভাষায় বলে ‘ক্লাউড সিডিং’। ঠিক যেভাবে ফসলের বীজ বপন করা হয়, তেমন ভাবেই আকাশে মেঘের বীজ বপন করা হয়। মেঘের বীজ বুনলেই শুধু হল না, তার জন্য উপযুক্ত আবহাওয়ার পরিস্থিতিও দরকার। কৃত্রিম বৃষ্টির জন্য নির্দিষ্ট আবহাওয়ার প্রয়োজন, যেমন পর্যাপ্ত আর্দ্রতা এবং উপযুক্ত বাতাস। কৃত্রিম বৃষ্টির জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে আবহাওয়ায় খানিকটা রদবদল করা হয়। সে জন্য ড্রোন বা বিমানের মাধ্যমে মেঘের উপর সিলভার আইয়োডাইডের মতো রাসায়নিক অথবা ড্রাই আইস ছড়িয়ে দেওয়া হয় যাতে সেই মেঘের স্তর বর্ষার কালো মেঘের মতো গাঢ় হয়। এই মেঘের স্তর জমা করা হয় আকাশে।
বাতাসে যে সামান্য পরিমাণ জলীয় বাষ্প থাকে তা এই মেঘে ছড়ানো রাসায়নিক কণার চারপাশে ঘণীভূত হয়ে ছোট ছোট বরফ দানা তৈরি করে। তারপর যেভাবে মেঘ থেকে বৃষ্টি হয় তেমনভাবেই এই বরফ দানা বাতাসের সংস্পর্ষে এসে ঘণীভূত হয়ে বৃষ্টির আকারে নেমে আসে। এই পদ্ধতিকে ‘নিউক্লিয়েশন’ বলা হয়।