
উরফান শরিফ, সারা শরিফ এবং বেইনাস বাতুল
শেষ আপডেট: 18 December 2024 13:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাবা এবং সৎ মায়ের নারকীয় অত্যাচারে মৃত্যু হয়েছিল পাক বংশোদ্ভূত ব্রিটেনের বাসিন্দা ১০ বছরের সারার। সেই ঘটনায় অভিযুক্তদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিল ব্রিটেনের আদালত। রায়দানের সময়ে বিচারপতির মন্তব্য, মাত্রাতিরিক্ত অত্যাচার করা হয়েছে। বাবা এবং সৎ মা কোনও অনুতাপই দেখাননি।
সারার বাবা উরফান শরিফ (৪৩), সৎ মা বেইনাস বাতুল (৩০) এবং তার কাকা ফয়জল মালিককে (২৯) খুনের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেছিল আদালত। গত মঙ্গলবার সেই মামলায় রায়দান হয়েছে। সকলকে আজীবন কারাদণ্ড দিয়ে ব্রিটেনের আদালতের বিচারপতি বলেছেন, ''যে মানসিক এবং শারীরিক অত্যাচার সারাকে সহ্য করতে হয়েছে তা কেউই সহ্য করতে পারবে না। ৬ বছর বয়স থেকে তাঁকে অত্যাচার করা হয়েছে অমানসিকভাবে। বাবা-মা তাকে তুচ্ছ ভেবে এসেছে। বাতুলের যেহেতু নিজের মেয়ে নয়, তাই তিনি আরও বেশি নারকীয় অত্যাচার করেছেন। আসলে মেয়েটিকে সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হয়েছেন তাঁরা।''
এই ঘটনার তদন্তকারী অফিসার জানিয়েছিলেন, নিজের ৩০ বছরের কেরিয়ারে তিনি এমন ঘটনার কথা শোনেননি। সারাকে বেধড়ক মারধর থেকে শুরু করে তার শরীর পোড়ানো হয়েছিল। এমনকী এক এক সময়ে তাঁকে কামড়ে দিতেন বাবা এবং সৎ মা। একাধিক সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, কখনও ব্যাট আবার কখনও লোহার রড দিয়ে মারা হত সারাকে।
শিশু কন্যার ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আরও ভয়ানক। সূত্রের খবর, তার শরীরে ৭১টি আঘাতের চিহ্ন মিলেছে! তার মধ্যে রয়েছে কালশিটের দাগ, পোড়ার দাগ, কামড়ের দাগ। একই সঙ্গে তার শরীরের ২৫টি হাড় ভাঙা ছিল। ঘাড় থেকে শুরু করে হাত, পা, পিঠ, কোনও অংশই 'সুস্থ' ছিল না সারার। নিজের বাড়ির বিছানার ট্রাঙ্ক থেকে সারার দেহ উদ্ধার করেছিল পুলিশ।
দক্ষিণ-পশ্চিম লন্ডনের বাসিন্দা ছিলেন উরফানরা। সেই বাড়িরই বেডরুম থেকে উদ্ধার হয়েছিল সারার মৃত দেহ। উরফান স্বীকার করেছিলেন যে তিনি তাঁর মেয়েকে খুন করেছেন। যদিও পুরোটাই অনিচ্ছাকৃত বলে দাবি করেছিলেন। কিন্তু শেষমেশ তদন্তে যা উঠে আসে তা ভয়ানক। পুলিশ এও জানতে পারে, মৃত্যুর পরও সারার পেটে দু'বার লাঠি মেরেছিলেন তাঁর বাবা! কারণ তিনি ভেবেছিলেন মেয়ে 'নাটক' করছে।