
মানসিক দিক দিয়ে একেবারেই হতোদ্যম হয়ে পড়েছে পাকিস্তান।
শেষ আপডেট: 10 May 2025 14:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অপারেশন সিঁদুরের জবাবে একের পর এক পাকিস্তানি হামলা ব্যর্থ হওয়ার পর মানসিক দিক দিয়ে একেবারেই হতোদ্যম হয়ে পড়েছে পাকিস্তান। উপরন্তু, ভারতের পাল্টা প্রত্যাঘাতে জর্জরিত পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রায় 'ভুল' বকতে শুরু করেছেন। একবেলায় তিনি যোগ্য জবাবের কথা বললেও অন্য বেলায় ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গিয়ে প্রচ্ছন্ন শান্তির বার্তা দিতে চাইছেন। যেমন- ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে পুরোদস্তুর যুদ্ধ ছাড়া রাস্তা নেই, বলার পরদিনই শনিবার সকালে জানিয়ে দিলেন, হামলা-পাল্টা হামলা চলতে থাকলেও এই মুহূর্তে পরমাণু অস্ত্র প্রয়োগের চিন্তাভাবনা নেই।
এদিন সকালেই সংবাদ মাধ্যমে পাকিস্তান সেনাবাহিনী রটিয়ে দেয় যে, প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ন্যাশনাল কমান্ড অথরিটির জরুরি বৈঠক ডেকেছেন। এই অথরিটি হল দেশের সর্বোচ্চ রণনীতি নির্ধারক কমিটি, যাদের হাতে রয়েছে পরমাণু অস্ত্র প্রয়োগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ক্ষমতা। পরে ঢোঁক গিলে ফেলে প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ বলেন, এরকম কোনও বৈঠক ডাকাই হয়নি। এরকম কোনও বৈঠক হয়ওনি।
এআরওয়াই টিভিকে আসিফ জানান, এই মুহূর্তে ভারতের বিরুদ্ধে পরমাণু অস্ত্র প্রয়োগের কোনও পরিকল্পনা নেই। শুধু তাই নয়, অতি দূরবর্তী সম্ভাবনার মধ্যেও বিচার-বিবেচনায় নেই। বর্তমান পরিস্থিতিতে পরমাণু বোমা-ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের সম্ভাবনাকে দূরে হটিয়ে দিয়ে মন্ত্রী জানিয়ে দেন, পাকিস্তানের চিন্তাভাবনার মধ্যে এরকম কিছুই নেই। ভবিষ্যতেও তা হবে কিনা সন্দেহ রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমার মনে হয় পরমাণু অস্ত্র প্রয়োগের মতো অবস্থায় পৌঁছানোর আগেই উত্তেজনা কমে আসবে। অর্থাৎ, পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রীর কথাতেই স্পষ্ট যে, ভারতের লাগাতার প্রত্যাঘাতে পাকিস্তানের দম ফুরোতে শুরু করেছে। পাক বাহিনীর বেশিরভাগ চেষ্টা বিফলে গেলেও ভারতীয় বাহিনীর আঘাতগুলি ছিল অব্যর্থ নিশানাভেদী। যার ফলে ছিন্নভিন্ন দশা পাক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার। সে কারণে উত্তাপ কমানোর দিকে পা বাড়াতে চাইছে ইসলামাবাদের প্রশাসন।
শুক্রবার-শনিবারের রাতভর পাকিস্তানি বিমানবাহিনী ও ড্রোন ভারতের বসত এলাকাসহ সামরিক ঘাঁটিতে আক্রমণ চালানোর আগেই দেশের প্রতিরক্ষা বাহিনীকে পুরোদস্তুর যুদ্ধের জন্য উসকে দেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মহম্মদ আসিফ। বিশেষ করে পাকিস্তান যে কট্টর মৌলবাদী ভারত বিরোধিতায় অভ্যস্ত, সেকথাও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন শরিফ সরকারের মন্ত্রী। তিনি পাক সংসদে দাঁড়িয়ে ঘোষণা করেছেন, পাকিস্তানের মাদ্রাসা পড়ুয়ারা হল, দেশকে শত্রুর হাত থেকে রক্ষা করার দ্বিতীয় কবজ।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ জোর গলায় জানান, দেশের মাদ্রাসাগুলিতে যারা পড়াশোনা করছে তারা হল আমাদের সেকেন্ড লাইন অফ ডিফেন্স। সংসদে তিনি বলেন, মাদ্রাসা ও মাদ্রাসা পড়ুয়াদের বিষয়ে বলতে পারি, কোনও সন্দেহ নেই যে তারাই হল দেশের দ্বিতীয় রক্ষাকবচ। যে যুবশক্তি সেখানে পড়ছে, দেশের প্রয়োজনে তারাই একশো শতাংশ ঝাঁপিয়ে পড়বে। তাদেরই কাজে লাগাব আমরা।
প্রসঙ্গত, ভারত দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক মঞ্চে অভিযোগ জানিয়ে আসছে যে, পাক মাদ্রাসাগুলিই জঙ্গি তৈরির আঁতুড়ঘর। এখানেই কোরাণ ও শরিয়ত শিক্ষার নামে অস্ত্র ও সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। আগে তালিবানও একই কায়দায় আফগানিস্তানে জঙ্গি তালিম দিত। এবার পাক মন্ত্রীর কথাতেই স্পষ্ট যে, সেদেশের সরকারি টাকায় পুষ্ট মাদ্রাসাগুলিকেও পুরোদস্তুর যুদ্ধের জন্য তৈরি করার কাজ চালাচ্ছে পাকিস্তান।
খাজা আসিফ আরও বলেন, পুরোদস্তুর যুদ্ধ ছাড়া পাকিস্তানের সামনে আর কোনও বিকল্প নেই। এর পিছনে যুক্তি হিসেবে তিনি বলেন, গত চারদিন ধরে ভারত যেভাবে আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে তাতে বোঝাই যাচ্ছে ইসলামাবাদের কাছে যুদ্ধ ছাড়া গতি নেই। তিনি বলেন, ভারতকে আমরা ওদের ভাষাতেই জবাব দিতে চাই, একটি পাক চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শুক্রবার একথা জানান খাজা। সঞ্চালক তাঁর কাছে জানতে চান, যুদ্ধ কি আমাদের দরজায় কড়া নাড়ছে? এর জবাবে আসিফ বলেন, অবশ্যই, এ বিষয়ে আর কোনও সন্দেহই নেই।