দ্য ওয়াল ব্যুরো: গতকাল কাবুল বিমানবন্দরের বাইরে জোড়া বিস্ফোরণে প্রচুর মানুষ হতাহত হয়েছেন। পরদিনই পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে আফগান উদ্বাস্তুদের ওপর গুলিবর্ষণের অভিযোগ উঠল। আফগান উদ্বাস্তুরা পাকিস্তান সীমান্তের দিকে এগতেই পাক সেনা তাদের ওপর গুলি চালায়। অন্ততঃ তিন উদ্বাস্তু নিহত হয়েছেন। জখম হয়েছেন বহু। আফগানিস্তানের পাশে থাকার বার্তা দিয়েও পাকিস্তানের এমন আচরণে ইমরান খান সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
গত ১৫ আগস্ট তালিবানের কাবুল দখল, আশরফ গনি নেতৃত্বাধীন সরকারের আত্মসমর্পণের আগেই পাকিস্তান আফগানিস্তানের সঙ্গে সীমান্ত বন্ধ করে দেয়। স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে সীমান্ত দিয়ে ৬ হাজারের বেশি লোক দুদেশের মধ্যে যাওয়া আসা করেন।
তালিবানের আফগানিস্তান দখলের পরই ইমরান বিবৃতি দিয়ে কার্যতঃ তাদের স্বাগত জানিয়ে বাহবা দেন, বলেন, আফগানরা দাসত্বের শৃঙ্খল ভেঙেছেন। এমনকী পাকিস্তানের নানা জায়গায় আফগানিস্তানে জমানা বদল, তালিবানের সমর্থনে মিছিল বেরতে দেখা যায়। মহিলাদের এক মাদ্রাসায় তালিবানের পতাকা ওড়ে। সোস্যাল মিডিয়ায় বেরনো ভিডিওতে ইসলামাবাদের লাল মসজিদের জামিয়া হাফসার ছাত্রীদের সালাম তালিবান গাইতেও শোনা যায়। তালিবানের হিংসাকে মহিমান্বিত করে তারা। তার মধ্যেই পাকিস্তানের শাসক দল ইমরান খানের তেহরিক-ই-ইনসাফের মুখপাত্র নীলম ইরশাদ শেখ এক টিভি ডিবেটে প্রকাশ্যে বলেন, আফগানিস্তানে পাকিস্তান তাদের সাহায্য করেছিল, প্রতিদানে তালিবান ভারত থেকে কাশ্মীরকে আলাদা করতে সহায়তা দেবে। পাকিস্তানকে কাশ্মীর জয়ে সাহায্য করবে। তালিবান বলছে, তারা আমাদের সঙ্গে আছে, কাশ্মীরে আমাদের সাহায্য করবে।
গতকাল কাবুলে প্রথম বিস্ফোরণটি হয় অ্যাবে গেটে। সাধারণতঃ সেটি ব্যবহার করেন মার্কিন নাগরিকরা, যাঁরা আফগানিস্তান ছাড়ার ফ্লাইট ধরেন। দ্বিতীয় বিস্ফোরণটি ঘটে ব্যারন হোটেলে, যা পশ্চিমী দেশগুলির সেনাদের জন্য সংরক্ষিত, আমজনতা সেখানে ঢুকতে পারে না। দুটি বিস্ফোরণে অন্ততঃ ৯৫ জন আফগান, ১৩ মার্কিন নিহত হন।
আফগান তদারকি প্রেসিডেন্ট বলে নিজেকে দাবি করা আমরুল্লা সালে তালিবান, হক্কানি নেটওয়ার্কের সঙ্গে আইসিস (খোরাসান) এর আঁতাতের প্রমাণ তাঁদের হাতে আছে বলে জানিয়েছেন। আমেরিকা আইসিস (খোরাসান)কে গতকালের নাশকতার মূল চক্রী বলে চিহ্নিত করেছে।